img

ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা-হেনস্তায় জড়িত কয়েকজনের পরিচয় মিলল

প্রকাশিত :  ১৭:৪৬, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৩৮, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা-হেনস্তায় জড়িত কয়েকজনের পরিচয় মিলল

ইতালির মেস্ত্রে শহরে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে শিপল মাহমুদ বিপ্লব, ইলিয়াস মিয়া ও আলতাফ পাহাড়ের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। ভিডিওতে তাদের কাউকে বাঁধনের দিকে পানি ছুড়তে, কাউকে শাসাতে এবং অন্য একজনকে তার ওপর শারীরিকভাবে আঘাতের চেষ্টা করতে দেখা যায়।

স্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর মেস্ত্রের একটি পার্কের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলেন বাঁধন। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে আঘাত করেন। তার দিকে কোক ও ডিম ছোড়া হয় এবং মুঠোফোনও ছুড়ে ফেলা হয়।

ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে বাঁধনকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে ও স্লোগান দিতে শোনা যায়। তাদের একজন বলেন, ‘এই যে জুলাই জঙ্গি, যিনি দেশের বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে—এই যে দেখতে পাচ্ছেন, ভেনিসে আসছে।’ এরপর তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, ‘আমরা এই দেশদ্রোহী জঙ্গিকে গোসল করিয়ে দিয়েছি।’

চিৎকার-চেঁচামেচির মধ্যে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘বাচ্চা আছে আমার। কী করছেন এগুলো?’ এর পর অপর পাশ থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে জবরদস্তি করার শব্দ শোনা যায়। এ সময় আরও একজন বলেন, ‘ওরা দেশটাকে ধ্বংস করছে।’

একপর্যায়ে হামলাকারীদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা ইতালির ছাত্রলীগ। বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে যাবে, তাদের আমরা প্রতিহত করব।’

ঘটনাটি ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল ‘মনিরুল হাওলাদার’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে। ওই লাইভের ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘জুলাই জঙ্গি আজমেরী হক বাঁধনকে আমরা উত্তম মাধ্যম দিয়েছি ভেনিসে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইতালি শাখা।’

মনিরুল হাওলাদারের বাড়ি মাদারীপুরে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তার স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ছাত্রলীগের একটি ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে প্রথমে লিবিয়া এবং পরে ইতালিতে যান।

ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাঁধনের দিকে বারবার পানি ছুড়ে দিচ্ছেন শিপল মাহমুদ বিপ্লব। তার বাড়ি শরীয়তপুরে। শরীয়তপুরের ছাত্রলীগ নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, তিনি ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইতালির ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত।

বাঁধনের দিকে এগিয়ে গিয়ে থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায় ইলিয়াস মিয়াকে। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ইতালির ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার উপস্থিতির একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ইলিয়াস বাঁধনের দিকে হাত তোলার চেষ্টা করলে আঘাতটি তার হাতে লাগে। এ সময় বাঁধনের মুঠোফোন হাত থেকে পড়ে যায়।

বাঁধনকে শাসাতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিদের একজন আলতাফ পাহাড়। তার বাড়িও শরীয়তপুরে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি ইতালির ভেনিসে যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত।

ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিওতে আলতাফকে সামনের সারিতে দেখা যায়। কয়েকটি দৃশ্যে তিনি বাঁধনকে শাসাচ্ছেন এবং আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলছেন।

ঘটনার পর বাঁধন জানান, তাকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে আঘাত করার পাশাপাশি তার দিকে পানি, কোক ও ডিম ছোড়া হয়েছে এবং তার মুঠোফোনও ফেলে দেওয়া হয়েছে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

‘মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত’ এর উদ্যোগে লন্ডনে বিরাট সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ০৮:২২, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৩৬, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লন্ডনে উলামায়ে কেরামের সর্বদলীয় ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত লন্ডন এর উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের ফোর্ড স্কয়ার মসজিদ মিলনায়তনে এক ঐতিহাসিক খতমে নবুওত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকেল সাড়ে ছয় ঘটিকা থেকে নয়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম ও সুধী বৃন্দ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশ গ্রহণ করেন।

প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন ভারত থেকে আগত হযরত মাদানী পরিবারের সূর্যসন্তান, প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মাওলানা সৈয়দ আশহাদ রাশিদী। মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত লন্ডন এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রারম্ভিক ও স্বাগত বক্তব্য দেন মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত লন্ডন এর জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মুফতি আবদুল মুনতাকিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা উপস্থাপন করেন ব্রাডফোর্ড থেকে আগত, ইংলিশ স্পিকার মাওলানা মুফতি সাইফুদ্দীন নেসার, হেফাজতে ইসলাম ইউকের সভাপতি শায়খুল হাদীস মাওলানা মুফতি আবদুর রহমান মনোহরপূরী, প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মাওলানা আবদুল কাদির সালেহ, ডক্টর মাওলানা শুয়াইব আহমদ প্রমুখ। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে মাওলানা মুহাম্মদ আলী,মাওলানা শাহনূর মিয়া, মাওলানা সৈয়দ তামীম আহমদ, হাফিজ হুসাইন আহমদ বিশ্বনাথী, মাওলানা হাফিজ মাসূম আহমদ সহ প্রচুর সংখ্যক উলামায়ে কেরাম, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সুধী জন।

সভায় বক্তাগন তাঁদের দলীল ভিত্তিক আলোচনায় বলেন, ইতিহাসের পাতায় তাকালে আমরা দেখতে পাই, যুগে যুগে যারাই নবুওয়তের দাবিদার হয়েছে, তারা নিজেদেরকে মুসলমানরূপে প্রকাশ করে স্বীয় দাবি প্রচারের চেষ্টা করেছে। কিন্তু উম্মতে মুহাম্মদি এ ব্যাপারে কোরআন-হাদিসের দিক-নির্দেশনাপ্রাপ্ত হওয়ায় যখনই নবুওয়তের কোনো ভন্ড দাবিদার আত্মপ্রকাশ করেছে, তাকে কাফের সাব্যস্ত করেছে এবং ইসলামের গন্ডি থেকে বহিষ্কার করেছে।

নববি যুগ থেকে যখনই কোনো ইসলামি রাষ্ট্রে বা ইসলামি আদালতে এ ধরনের মামলা উপস্থিত হয়েছে, তখনই বিচারকগণ তার দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রকার দলিল-প্রমাণ তলব না করে তার ব্যাপারে কাফের হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যেমন- আসওয়াদ আনাসি, তুলাইহা, সাজাহ, হারেস। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) তাদের কুফুরির ফয়সালা দেওয়ার পূর্বে কখনও নবুওয়তের দাবির ব্যাপারে তাদের থেকে কোনো প্রকার দলিলও তলব করেননি।

যখনই কারো পক্ষ থেকে নবুওয়তের দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তখনই সর্বসম্মতিক্রমে তাকে কাফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর কারণ হলো, খতমে নবুওয়তের আকিদা এতোটাই স্পষ্ট ও সর্বজন স্বীকৃত, এর খেলাফ যুক্তি-তর্ক সব প্রতারণার শামিল। এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) উম্মতকে পূর্বেই অবগত করে গেছেন। যদি এ ধরনের সামান্য অবকাশ দেওয়া হয়, তাহলে তাওহিদ-আখেরাতসহ ইসলামের কোনো আকিদাই আর নিরাপদ থাকবে না। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকেও কাদিয়ানী সম্প্রদায় সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় ভাবে অমুসলিম সংখ্যালঘু হওয়ার ঘোষণা অবিলম্বে দেয়া উচিত। সভায় বক্তাগন নতুন জেনারেশনের মধ্যে নবীজীর খতমে নবুওতের সর্ববাদী সম্মত আকিদা সম্পর্কে  সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত লন্ডন এর উদ্যোগে আগামী দিনে আরো কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। পরিশেষে প্রধান অতিথির দোয়ার মাধ্যমে সভার পরিসমাপ্তি হয়।


কমিউনিটি এর আরও খবর