img

সিলেট নগরীতে কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে সড়কে ঘোরাল কারা

প্রকাশিত :  ০৬:৪৫, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৫৯, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেট নগরীতে কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে সড়কে ঘোরাল কারা

সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকা থেকে গত রাতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে আটক করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। স্থানীয় একটি দোকানের ক্যাশ বাক্স চুরির চেষ্টা করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়রা কিশোরীকে শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তবে তাকে আটকের পর থানায় তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার এ ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায় ওই কিশোরীকে কোমড়ে শিকল বেঁধে টেনে নিয়ে চলছেন এক যুবক। এসময় ওই কিশোরীটি অঝোরে কেঁদে চলছেন। তাকে বেশ কিছুটা পথ শিকল বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। ভিডিওতে টেনে নেওয়া ব্যক্তির চেহারা দেখা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার সড়কে শেকল বেঁধে ওই মেয়েকে টেনে নেওয়া হয়। এর আগে মসজিদ মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন।

মসজিদ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি দোকানে ক্যাশ বাক্স চুরির চেষ্টা করেন এক কিশোরী। এ সময় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা মিলে ওই কিশোরীকে আটক করেন।

এসময় প্রথমে তাকে মারধর করে শেকল বেঁধে সড়কে হাঁটানো হয় বলে জানা গেছে।

তবে কারা মারধর করেন ও কারা শেকল বেঁধে সড়কে টেনে নেন তা জানা যায়নি।

এব্যাপারে সিলেট শাহপারান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন মঙ্গলবার রাতে সিলেটটুডেকে বলেন, গত সাড়ে রাত ১১টার দিকে স্থানীয়দেরর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই মেয়েকে ধরে নিয়ে আসে। তার বয়স ১৫/১৬ বছর হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, মেয়েটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরি করেছে। তবে তারা কেউই আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করননি। এমনকি মেয়েকে থানায় নিয়ে আসার পর তারা কোনো সহযোগিতাও করেননি। পরে মেয়েটিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ আইন, ২০০৯ (SMP Act)-এর ৮৯ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়।

কিশোরীকে শেকল বেঁধে সড়কে ঘুরানো প্রসঙ্গে ওসি বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ এমন কাজ করে থাকলে তারা অন্যায় করেছেন।

এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুদীপ্ত অর্জুন সিলেটটুডেকে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি-র ৫৯ ধারা মতে কোনো সাধারণ নাগরিক আমলযোগ্য অপরাধ সংগঠনকারীকে আটক করতে পারেন। কিন্তু তাকে অনতিবিলম্বে পুলিশের কাছে অথবা নিকটবর্তী থানায় হস্তান্তর করতে হবে।

সুদীপ্ত বলেন, কেউ তা না করে যদি আটককৃত ব্যক্তিকে নিজে কোনোরূপ শাস্তি প্রদান করেন, বা কোমরে শেকল বেঁধে জনসমক্ষে হাঁটান বা কোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন, তাহলে এরূপ আচরণ বা কাজ আইন পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

‘মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত’ এর উদ্যোগে লন্ডনে বিরাট সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ০৮:২২, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৩৬, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লন্ডনে উলামায়ে কেরামের সর্বদলীয় ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত লন্ডন এর উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের ফোর্ড স্কয়ার মসজিদ মিলনায়তনে এক ঐতিহাসিক খতমে নবুওত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকেল সাড়ে ছয় ঘটিকা থেকে নয়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম ও সুধী বৃন্দ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশ গ্রহণ করেন।

প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন ভারত থেকে আগত হযরত মাদানী পরিবারের সূর্যসন্তান, প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মাওলানা সৈয়দ আশহাদ রাশিদী। মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত লন্ডন এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রারম্ভিক ও স্বাগত বক্তব্য দেন মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত লন্ডন এর জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মুফতি আবদুল মুনতাকিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা উপস্থাপন করেন ব্রাডফোর্ড থেকে আগত, ইংলিশ স্পিকার মাওলানা মুফতি সাইফুদ্দীন নেসার, হেফাজতে ইসলাম ইউকের সভাপতি শায়খুল হাদীস মাওলানা মুফতি আবদুর রহমান মনোহরপূরী, প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মাওলানা আবদুল কাদির সালেহ, ডক্টর মাওলানা শুয়াইব আহমদ প্রমুখ। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে মাওলানা মুহাম্মদ আলী,মাওলানা শাহনূর মিয়া, মাওলানা সৈয়দ তামীম আহমদ, হাফিজ হুসাইন আহমদ বিশ্বনাথী, মাওলানা হাফিজ মাসূম আহমদ সহ প্রচুর সংখ্যক উলামায়ে কেরাম, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সুধী জন।

সভায় বক্তাগন তাঁদের দলীল ভিত্তিক আলোচনায় বলেন, ইতিহাসের পাতায় তাকালে আমরা দেখতে পাই, যুগে যুগে যারাই নবুওয়তের দাবিদার হয়েছে, তারা নিজেদেরকে মুসলমানরূপে প্রকাশ করে স্বীয় দাবি প্রচারের চেষ্টা করেছে। কিন্তু উম্মতে মুহাম্মদি এ ব্যাপারে কোরআন-হাদিসের দিক-নির্দেশনাপ্রাপ্ত হওয়ায় যখনই নবুওয়তের কোনো ভন্ড দাবিদার আত্মপ্রকাশ করেছে, তাকে কাফের সাব্যস্ত করেছে এবং ইসলামের গন্ডি থেকে বহিষ্কার করেছে।

নববি যুগ থেকে যখনই কোনো ইসলামি রাষ্ট্রে বা ইসলামি আদালতে এ ধরনের মামলা উপস্থিত হয়েছে, তখনই বিচারকগণ তার দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রকার দলিল-প্রমাণ তলব না করে তার ব্যাপারে কাফের হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যেমন- আসওয়াদ আনাসি, তুলাইহা, সাজাহ, হারেস। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) তাদের কুফুরির ফয়সালা দেওয়ার পূর্বে কখনও নবুওয়তের দাবির ব্যাপারে তাদের থেকে কোনো প্রকার দলিলও তলব করেননি।

যখনই কারো পক্ষ থেকে নবুওয়তের দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তখনই সর্বসম্মতিক্রমে তাকে কাফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর কারণ হলো, খতমে নবুওয়তের আকিদা এতোটাই স্পষ্ট ও সর্বজন স্বীকৃত, এর খেলাফ যুক্তি-তর্ক সব প্রতারণার শামিল। এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) উম্মতকে পূর্বেই অবগত করে গেছেন। যদি এ ধরনের সামান্য অবকাশ দেওয়া হয়, তাহলে তাওহিদ-আখেরাতসহ ইসলামের কোনো আকিদাই আর নিরাপদ থাকবে না। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকেও কাদিয়ানী সম্প্রদায় সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় ভাবে অমুসলিম সংখ্যালঘু হওয়ার ঘোষণা অবিলম্বে দেয়া উচিত। সভায় বক্তাগন নতুন জেনারেশনের মধ্যে নবীজীর খতমে নবুওতের সর্ববাদী সম্মত আকিদা সম্পর্কে  সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত লন্ডন এর উদ্যোগে আগামী দিনে আরো কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। পরিশেষে প্রধান অতিথির দোয়ার মাধ্যমে সভার পরিসমাপ্তি হয়।


কমিউনিটি এর আরও খবর