লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য ব্যারিস্টার মোরশেদুর রহমানের পিতার ইন্তেকাল: ক্লাব নেতৃবৃন্দের শোক
প্রকাশিত :
১৮:০৫, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লন্ডন, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য ও ইকরা টেলিভিশনের প্রেজেন্টার ব্যারিস্টার মোরশেদুর রহমানের পিতা আনিছুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বুধবার বাদ জোহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার দক্ষিণ জগতসার গ্রামে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের শোক
মোরশেদুর রহমানের পিতার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ।
এক শোকবার্তায় ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, সেক্রেটারি আকরামুল হোসাইন এবং ট্রেজারার মো. আব্দুল হান্নান মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের স্বজনদের এ শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য ধারণের তৌফিক দানের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করেন।
টাওয়ার হ্যামলেটসে তরুণদের মতামতকে আরও গুরুত্ব দিতে নতুন গাইড চালু
প্রকাশিত :
১৮:৫২, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রতিটি শিশু ও তরুণের বিকশিত হওয়ার সুযোগ থাকা উচিতঃ মেয়র লুৎফুর রহমান
টাওয়ার হ্যামলেটসে শিশু-কিশোর ও তরুণদের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী করতে নতুন চাইল্ড অ্যান্ড ইয়ুথ পার্টিসিপেশন গাইড চালু করেছে কাউন্সিল। শিশু, তরুণ ও পরিবারগুলো কীভাবে তাদের জীবন ও কমিউনিটিকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে, এই গাইডে তার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বারার বিভিন্ন এলাকার শিশু ও তরুণদের মতামত নিয়ে, যুব ফোরাম ও অংশগ্রহণমূলক বিভিন্ন গ্রুপের প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় গাইডটি তৈরি করা হয়েছে। শিশু ও তরুণদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর জন্য এতে বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা রয়েছে, যাতে তাদের অংশগ্রহণ অর্থবহ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর হয়।
২৮ আগস্ট, শুক্রবার মাইল এন্ড স্টেডিয়ামে গ্রীষ্মকালীন কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে নতুন গাইডটি চালু করা হয়। অনুষ্ঠানে বারার বিভিন্ন এলাকার সামার ক্যাম্প আউটডোর অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া ১৫০ জনেরও বেশি তরুণ উপস্থিত ছিল।
পরিষেবা, প্রকল্প, নেইবারহুড, ভবন ও পাবলিক স্পেস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিশু, কিশোর ও তরুণদের মতামত দেওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এই গাইডের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ধারণা তুলে ধরতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব রাখতে এবং তাদের অংশগ্রহণের ফলে কী পরিবর্তন হয়েছে তা দেখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রতিটি শিশু ও তরুণের বিকশিত হওয়ার, নিজের সম্ভাবনা পূরণ করার এবং নিজের মতামত তুলে ধরার সুযোগ থাকা উচিত। এই গাইড শিশু, তরুণ ও পরিবারগুলোর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে পরিষেবা তৈরি, ফলাফল উন্নত এবং তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া একটি শিশু-বান্ধব বারো গড়ে তোলার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।\"
মেয়র আরও বলেন, “এই গাইড তৈরিতে যেসব তরুণ তাদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দিয়ে সহযোগিতা করেছে, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। তাদের অবদান নিশ্চিত করবে যে তরুণদের অংশগ্রহণ অর্থবহ হবে এবং তারা টাওয়ার হ্যামলেটসের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে।”
চিলড্রেন, ইয়াং পিপল অ্যান্ড লাইফ চান্সেসের ক্যাবিনেট মেম্বার, কাউন্সিলর ফয়সাল আহমেদ বলেন, “এই গাইডের মাধ্যমে শিশু ও তরুণদের নিজেদের জীবনে প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্তে মতামত দেওয়ার আরও সুযোগ তৈরি হবে। যুব ফোরাম, পরামর্শ গ্রহণ, বিভিন্ন প্রকল্প কিংবা পরিষেবা তৈরির মতো নানা উপায়ে তারা অংশ নিতে পারবে।
“আমরা চাই অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহজলভ্য ও কার্যকর হোক। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পটভূমির তরুণরা তাদের মতামত ও ধারণা তুলে ধরতে এবং তাদের অংশগ্রহণ কীভাবে পরিবর্তন আনছে তা দেখতে পারবে। আমি সব তরুণকে তাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত উপায়ে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।”
গ্রীষ্মজুড়ে টাওয়ার হ্যামলেটসের বিভিন্ন ইয়ুথ সেন্টারের তরুণরা বিএমএক্স, ক্যানোয়িং ও ক্লাইম্বিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেয়। এসব কার্যক্রম ছিল ইয়াং টাওয়ার হ্যামলেটসের বৃহত্তর সামার প্রোগ্রামের অংশ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বারার তরুণদের নতুন দক্ষতা অর্জন, বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ইয়ুথ সেন্টার, লেজার সেন্টার ও পার্কে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তরুণদের জন্য টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল দেশের অন্যতম সেরা সহায়তা প্রদানকারী কাউন্সিল। কাউন্সিলই দেশের একমাত্র স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, যারা এডুকেশন মেইনটেন্যান্স অ্যালাওয়েন্স বা ইএমএ পুনরায় চালু করেছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের জন্য গ্র্যান্ট দেওয়ার ক্ষেত্রেও টাওয়ার হ্যামলেটস অল্প কয়েকটি কাউন্সিলের মধ্যে একটি।
স্কিমটি পুনরায় চালুর পর থেকে কাউন্সিল ৬,৪৩৮ জন শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার খরচে সহায়তার জন্য মোট ৫৭ লাখ ৫০,২০০ পাউন্ড গ্র্যান্ট দিয়েছে।
এছাড়া টাওয়ার হ্যামলেটসই দেশের প্রথম স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, যারা প্রাইমারী ও সেকেন্ডারি স্কুলের সব শিক্ষার্থীর জন্য ইউনিভার্সাল ফ্রি স্কুল মিল চালু করেছে। গত বছর কাউন্সিল স্কুলের পোশাক কেনার খরচে পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে স্কুল ইউনিফর্ম গ্র্যান্ট কর্মসূচিও চালু করেছে।