img

ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির ৫ম বার্ষিক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ০৭:৪৮, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির ৫ম বার্ষিক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির ৫ম বার্ষিক চ্যারিটি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট জমজমাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) লন্ডনের রেডব্রিজ স্পোর্টস অ্যান্ড লেজার সেন্টারের জ্যঁ ব্রাউন ইনডোর অ্যারেনায় দিনব্যাপী এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ২০০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।

টুর্নামেন্ট থেকে সংগৃহীত অর্থ দৃষ্টি, শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন ধরনের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে অ্যাডভান্স গ্রুপের ফাইনালে নোমান ও ওয়াক্কাস জুটি, শামিম ও উজ্জ্বল জুটিকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ইন্টারমিডিয়েট  গ্রুপে ফাইনালে শাফি ও মারুফ জুটি, টিপু ও সুজন জুটিকে পরাজিত করে শিরোপা জয় করেন।

খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও নগদ পুরস্কার তুলে দেন টুর্নামেন্টের অন্যতম স্পন্সর আতিক চৌধুরী, স্পন্সর আব্দুল হালিম, ইমামুল চৌধুরী, সাংবাদিক মাহবুব রহমান, ব্যারিস্টার সেবুলুল হকসহ অন্যান্য অতিথি ও স্পন্সররা।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট, প্রবীণ সাংবাদিক নবাব উদ্দিন। এ সময় তিনি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী সকল খেলোয়াড়, ভলান্টিয়ার, ট্রাস্টি, স্পন্সর ও আয়োজকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত সহযোগিতা ও প্রচেষ্টার কারণেই সফলভাবে এ আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং যুক্তরাজ্যের স্থানীয় কমিউনিটির সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালে ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগঠনটি দেশে-বিদেশে কাজ করে যাচ্ছে।

ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নারীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, প্রবীণদের সুস্বাস্থ্য, শিশুদের বিনোদন এবং শিল্প-সংস্কৃতিবিষয়ক বিভিন্ন আয়োজন। ‘সত্যেন সেন পারফর্মিং স্কুল’-এর সহযোগিতায় শিল্প ও সাহিত্যবিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠানও পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব ও আকিলা নূর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে সামার ট্রিপসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড আয়োজনের কথাও তুলে ধরা হয়।

গত বছর ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট থেকে সংগ্রহ ৫ হাজার পাউন্ড

ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির বার্ষিক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট সংগঠনটির অন্যতম প্রধান অর্থ সংগ্রহের আয়োজন। গত বছর টুর্নামেন্টে ২২০ জনেরও বেশি খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার পাউন্ড তহবিল সংগ্রহ করা হয়।

এবারের টুর্নামেন্ট সফল করতে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন ব্যাডমিন্টন প্রজেক্টের ইন-চার্জ সাবেক কাউন্সিলর আতা রহমান, ট্রাস্টি বাবলুল হক, উপদেষ্টা জাহেদী ক্যারল, হাবিব রহমান, ফকরুল ইসলাম, আতিক, নবিন, মোহাম্মদ কিনু, শিপন ও মাহিদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। এছাড়াও উপস্তিত ছিলেন উপদেষ্টা আ স ম মাসুম, সাংবাদিক রুমেনা রাখি, বিশ্বদবীপ দাশ, জাপানিজ রেস্টুরেন্টের কামরুল হুদা আজাদ ও বি এ এক্সচেঞ্জের আব্দুর রহিম। 

এবারের আয়োজনেও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ছিল উল্লেখযোগ্য। স্পন্সরদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাম্পলের আব্দুল হালিম, কারপ্ল্যানেটের তফজ্জুল মিয়া, হ্যালো পয়সা, বাংলা টাউন ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারির রফিক হায়দার, সেন্সমেডিকেলের আব্দুল জাহাঙ্গীর, ইয়াম ইয়াম থাই রেস্টুরেন্টের আতিক চৌধুরী, ইয়াকি ইয়া জাপানিজ রেস্টুরেন্টের কামরুল হুদা আজাদ, ট্রাভেললিঙ্কের সামি ছানাউল্লাহ, বি এ এক্সচেঞ্জের শের মাহমুদ ও আব্দুর রহিম, মাহি অ্যান্ড কো-এর আবু তাহের এমবিই, দ্য মিটারি রেস্টুরেন্টের মো. দেলোয়ার হোসেন, কিংডম সলিসিটরের ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী এবং বারাকা ইটারি রেস্টুরেন্টের ইসলাম উদ্দিন।

আয়োজকরা জানান, খেলাধুলার পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে প্রতিবছর এ চ্যারিটি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। এবারের টুর্নামেন্ট থেকে সংগৃহীত অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটসে তরুণদের মতামতকে আরও গুরুত্ব দিতে নতুন গাইড চালু

প্রকাশিত :  ১৮:৫২, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রতিটি শিশু ও তরুণের বিকশিত হওয়ার সুযোগ থাকা উচিতঃ মেয়র লুৎফুর রহমান

টাওয়ার হ্যামলেটসে শিশু-কিশোর ও তরুণদের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী করতে নতুন চাইল্ড অ্যান্ড ইয়ুথ পার্টিসিপেশন গাইড চালু করেছে কাউন্সিল। শিশু, তরুণ ও পরিবারগুলো কীভাবে তাদের জীবন ও কমিউনিটিকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে, এই গাইডে তার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বারার বিভিন্ন এলাকার শিশু ও তরুণদের মতামত নিয়ে, যুব ফোরাম ও অংশগ্রহণমূলক বিভিন্ন গ্রুপের প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় গাইডটি তৈরি করা হয়েছে। শিশু ও তরুণদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর জন্য এতে বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা রয়েছে, যাতে তাদের অংশগ্রহণ অর্থবহ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর হয়।

২৮ আগস্ট, শুক্রবার মাইল এন্ড স্টেডিয়ামে গ্রীষ্মকালীন কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে নতুন গাইডটি চালু করা হয়। অনুষ্ঠানে বারার বিভিন্ন এলাকার সামার ক্যাম্প আউটডোর অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া ১৫০ জনেরও বেশি তরুণ উপস্থিত ছিল।

পরিষেবা, প্রকল্প, নেইবারহুড, ভবন ও পাবলিক স্পেস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিশু, কিশোর ও তরুণদের মতামত দেওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এই গাইডের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ধারণা তুলে ধরতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব রাখতে এবং তাদের অংশগ্রহণের ফলে কী পরিবর্তন হয়েছে তা দেখতে পারবে।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রতিটি শিশু ও তরুণের বিকশিত হওয়ার, নিজের সম্ভাবনা পূরণ করার এবং নিজের মতামত তুলে ধরার সুযোগ থাকা উচিত। এই গাইড শিশু, তরুণ ও পরিবারগুলোর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে পরিষেবা তৈরি, ফলাফল উন্নত এবং তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া একটি শিশু-বান্ধব বারো গড়ে তোলার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।\"

মেয়র আরও বলেন, “এই গাইড তৈরিতে যেসব তরুণ তাদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দিয়ে সহযোগিতা করেছে, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। তাদের অবদান নিশ্চিত করবে যে তরুণদের অংশগ্রহণ অর্থবহ হবে এবং তারা টাওয়ার হ্যামলেটসের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে।”

চিলড্রেন, ইয়াং পিপল অ্যান্ড লাইফ চান্সেসের ক্যাবিনেট মেম্বার, কাউন্সিলর ফয়সাল আহমেদ বলেন, “এই গাইডের মাধ্যমে শিশু ও তরুণদের নিজেদের জীবনে প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্তে মতামত দেওয়ার আরও সুযোগ তৈরি হবে। যুব ফোরাম, পরামর্শ গ্রহণ, বিভিন্ন প্রকল্প কিংবা পরিষেবা তৈরির মতো নানা উপায়ে তারা অংশ নিতে পারবে।

“আমরা চাই অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহজলভ্য ও কার্যকর হোক। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পটভূমির তরুণরা তাদের মতামত ও ধারণা তুলে ধরতে এবং তাদের অংশগ্রহণ কীভাবে পরিবর্তন আনছে তা দেখতে পারবে। আমি সব তরুণকে তাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত উপায়ে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।”

গ্রীষ্মজুড়ে টাওয়ার হ্যামলেটসের বিভিন্ন ইয়ুথ সেন্টারের তরুণরা বিএমএক্স, ক্যানোয়িং ও ক্লাইম্বিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেয়। এসব কার্যক্রম ছিল ইয়াং টাওয়ার হ্যামলেটসের বৃহত্তর সামার প্রোগ্রামের অংশ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বারার তরুণদের নতুন দক্ষতা অর্জন, বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ইয়ুথ সেন্টার, লেজার সেন্টার ও পার্কে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তরুণদের জন্য টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল দেশের অন্যতম সেরা সহায়তা প্রদানকারী কাউন্সিল। কাউন্সিলই দেশের একমাত্র স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, যারা এডুকেশন মেইনটেন্যান্স অ্যালাওয়েন্স বা ইএমএ পুনরায় চালু করেছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের জন্য গ্র্যান্ট দেওয়ার ক্ষেত্রেও টাওয়ার হ্যামলেটস অল্প কয়েকটি কাউন্সিলের মধ্যে একটি।

স্কিমটি পুনরায় চালুর পর থেকে কাউন্সিল ৬,৪৩৮ জন শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার খরচে সহায়তার জন্য মোট ৫৭ লাখ ৫০,২০০ পাউন্ড গ্র্যান্ট দিয়েছে।

এছাড়া টাওয়ার হ্যামলেটসই দেশের প্রথম স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, যারা প্রাইমারী ও সেকেন্ডারি স্কুলের সব শিক্ষার্থীর জন্য ইউনিভার্সাল ফ্রি স্কুল মিল চালু করেছে। গত বছর কাউন্সিল স্কুলের পোশাক কেনার খরচে পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে স্কুল ইউনিফর্ম গ্র্যান্ট কর্মসূচিও চালু করেছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসে তরুণদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে ইয়াং টাওয়ার হ্যামলেটসের ওয়েবসাইটে (www.youngtowerhamlets.org.uk/get-involved/youth-participation)

কমিউনিটি এর আরও খবর