img

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ১৩তম মুসলিম চ্যারিটি রান : ৪শ' হাজার পাউন্ড সংগ্রহের টার্গেট

প্রকাশিত :  ১০:১৭, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ১৩তম মুসলিম চ্যারিটি রান : ৪শ' হাজার পাউন্ড সংগ্রহের টার্গেট

লন্ডন, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: শতশত মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ১৩তম মুসলিম চ্যারিটি রান । ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার পূর্ব লন্ডনের ভিক্টোরিয়া পার্কে এই ৫ কিলোমিটার রান অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে ঘিরে সকাল থেকেই নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে ভিক্টোরিয়া পার্ক ।

কেউ দৌড়েছেন, কেউ হেঁটেছেন, আবার কেউ জগিং করেছেন—তবে সবার লক্ষ্য ছিল একটাই, নিজেদের পছন্দের চ্যারিটির জন্য ফান্ড সংগ্রহ করা। ইস্ট লন্ডন মসজিদের প্রত্যাশা, এবারের মুসলিম চ্যারিটি রানের মাধ্যমে বিভিন্ন চ্যারিটি সংস্থা সম্মিলিতভাবে ৪ লাখ পাউন্ডেরও বেশি সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে। সংগৃহীত অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসহায় ও দুস্থ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

দৌড়ে অংশগ্রহণকারীরা সকাল ৯টা থেকেই ভিক্টোরিয়া পার্কে জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে নীল রঙের টি-শার্ট পরিহিত অংশগ্রহণকারীদের পদচারণায় গোটা পার্ক উৎসবের রূপ নেয়।

লন্ডন ইস্ট একাডেমির ইয়ার সেভেনের ছাত্র আব্দুর রহমান আলীর পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে উদ্বোধনী পর্ব শুরু হয় । ইয়াহইয়া আলকাস মিয়ার সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন ইস্ট লন্ডন মসজিদের সিইও জুনায়েদ আহমদ, সিনিয়র ইমাম শায়খ আনিসুল হক এবং ফান্ডরেইজিং ম্যানেজার তজম্মুল আলী।

এরপর লন্ডন ইস্ট একাডেমির পিই শিক্ষক আশরাফ আলীর পরিচালনায় প্রায় পাঁচ মিনিটের একটি ওয়ার্ম-আপ সেশন অনুষ্ঠিত হয় । ওয়ার্ম-আপ শেষে অংশগ্রহণকারীরা সবাই গিয়ে দাঁড়ান স্টার্টিং পয়েন্টে। সকাল ১০টা ৫৮ মিনিটে হুইসেল বাজতেই শুরু হয় পাঁচ কিলোমিটারের মূল দৌড়।

মাত্র ১৯ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে প্রথম স্থান অর্জন করেন সুদানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ যুবক মাজিন আবদু । আর ২০ মিনিট ৫১ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ২০ বছর বয়সী মাহবুব রশিদ। তিনি হিউম্যান আপিলের জন্য তহবিল সংগ্রহ করছেন।

এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য দৌড়বিদরাও পাঁচ কিলোমিটার পথ শেষ করে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছান। সেখানে তাঁদের স্বাগত জানান টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার ব্যারিস্টার মোশতাক আহমদ, ইস্ট লন্ডন মসজিদের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল হাই মুর্শেদ, সিইও জুনায়েদ আহমদ এবং হেড অব অ্যাসেটস অ্যান্ড অপারেশন্স আসাদ জামান। তাঁরা রানারদের মেডেল পরিয়ে অভিনন্দন জানান।

ইস্ট লন্ডন মসজিদের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল হাই মুর্শেদ বলেন, আজকের আবহাওয়া খুবই চমৎকার। গত বছর এই আয়োজন থেকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড তহবিল সংগ্রহ হয়েছিলো । এবার আমরা আশা করছি আরও বেশি অর্থ সংগ্রহ হবে । তিনি বলেন, এই রান শুধু চ্যারিটির জন্য ফান্ড সংগ্রহই নয়, আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জনাব মুর্শেদ আরো জানান, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার পূর্ব লন্ডনের মাইল এন্ড স্টেডিয়ামে নারীদের জন্য আলাদা চ্যারিটি রান অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে নাম নিবন্ধনের আহ্বান জানান তিনি।

ইস্ট লন্ডন মসজিদের সিইও জুনায়েদ আহমদ বলেন, এটি একটি চমৎকার দিন। মুসলিম চ্যারিটি রান কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের মানুষকে এক কাতারে নিয়ে আসছে। একই সঙ্গে চ্যারিটির জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আয়োজনে অংশ নেওয়া ও সহযোগিতা করা সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

ফান্ডরেইজিং ম্যানেজার তজম্মুল আলী বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত। আজ কমিউনিটির মানুষ একটি অসাধারণ দিন উদযাপন করছেন । এক হাজারেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন। বড়রা দৌঁড়েছেন, আর শিশুরা বিভিন্ন খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। পুরো আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত আনন্দঘন।

উল্লেখ্য, এবারের মুসলিম চ্যারিটি রানে প্রায় ৩৫টি চ্যারিটি সংগঠন অংশগ্রহণ করে । আর পার্টনার ও স্পনসর হিসেবে ছিলো আমানাহফাই, হিউম্যান আপিল, সুন্নাহ মাস্ক ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল এহসান রিলিফ, মুসলিম হেল্প ইউকে, সালাম চ্যারিটি, আগোশ ইউকে, হিউম্যান রিলিফ ফাউন্ডেশন, মুসলিম চ্যারিটি, হেল্প ইয়াতীম, মুসলিম এইড, কাউন্সিল অব মস্ক অ্যাপ, ইসলামিক রিলিফ, রিড ফাউন্ডেশন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল, সাবা রিলিফ এবং ইফ চ্যারিটি।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

গ্রীষ্মের ছুটি রাঙাল এইচএএফ, কৃতজ্ঞতা জানাল টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল

প্রকাশিত :  ০৮:২৭, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৩১, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সামার বা গ্রীষ্মের ছুটিতে তরুণদের জন্য হাজার হাজার ঘণ্টার ফ্রি ছুটিকালীন কর্মকাণ্ড ও স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনকারী চ্যারিটি সংস্থা, স্কুল ও কমিউনিটি গ্রুপ গুলোকে তাদের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।

সরকারের হলিডে অ্যাক্টিভিটিজ অ্যান্ড ফুড (এইচএএফ) প্রোগ্রামের অর্থায়নে পুরো জুলাই ও আগস্ট মাস বারাজুড়ে ৪০টিরও বেশি এইচএএফ ক্লাব পরিচালিত হয়েছে, যার মাধ্যমে ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী শত শত শিশু বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও স্বাস্থ্যকর খাবার উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছে।

ব্রাজিলিয়ান জিউ-জিৎসু ও স্কেটবোর্ডিং থেকে শুরু করে রান্নার ক্লাস, নাট্য কর্মশালা এবং সৃজনশীল শিল্পকলা পর্যন্ত - এইচএএফ ক্লাবগুলো তরুণদের সক্রিয় থাকা ও নতুন দক্ষতা শেখার উত্তেজনাপূর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত সংস্থাগুলোকে গত ৯ সেপ্টেম্বর এক বিশেষ অনুষ্ঠানে স্বীকৃতি জানিয়ে সম্মাননা প্রদান করে টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিল।

টাউন হলে অনুষ্ঠিত বিশেষ এই অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ডেপুটি মেয়র এবং কাউন্সিলের বৈষম্য মোকাবেলা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার, কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার বলেন, “এইচএএফ প্রোগ্রাম শিশুদের স্কুল ছুটির সময়জুড়ে নতুন দক্ষতা শেখা, বন্ধুত্ব গড়া এবং সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়। আমাদের স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটি সেক্টরের অংশীদারদের অসাধারণ সহায়তা ছাড়া এসব কিছুই সম্ভব হতো না, যাঁদের নিষ্ঠা ও উদ্যম স্থানীয় পরিবারগুলোর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দেয়।”

তিনি বলেন, “এই গ্রীষ্মে আমি বেশ কয়েকটি ক্লাব পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছি এবং সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছি তরুণদের উৎসাহ এবং কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিষ্ঠা, যাঁরা স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করতে এত পরিশ্রম করেছেন।”

এবারই প্রথমবারের মতো এইচএএফ ক্লাব পরিচালনাকারী সংস্থা গুলোর একটি হলো দ্য পাওয়ার মুভমেন্ট, যা হোয়াইটচ্যাপেলের সেলবি কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থিত।

এই চ্যারিটি সংস্থা আত্মরক্ষা কৌশল, রক ক্লাইম্বিং, বক্সিং, হস্তশিল্প ও গয়না তৈরির মতো কর্মকাণ্ড আয়োজন করেছিল, এবং শিগগিরই দেখা যায় চাহিদা প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

দ্য পাওয়ার মুভমেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা সুলতানা বেগম বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে আত্মরক্ষা কৌশল, রক ক্লাইম্বিং, বক্সিং, হস্তশিল্প ও গয়না তৈরি সহ নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার জন্য প্রায় ৩০ জন তরুণের জন্য আসন রেখেছিলাম, কিন্তু মুখে মুখে খবর ছড়িয়ে পড়ায় অভিভাবক ও তরুণেরা দলের আকার বাড়ানোর অনুরোধ জানাতে শুরু করেন, যাতে তাঁদের সন্তান ও বন্ধুরাও অংশ নিতে পারে।”

তিনি বলেন, “এটি ছিল এক অত্যন্ত আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। গ্রীষ্মকালীন ক্লাবের শেষে আমরা দেখেছি, কিছু শিশু কান্নায় ভেঙে পড়েছিল, তারা চলে যেতে চায়নি এবং বলেছিল যে তারা দারুণ এক অভিজ্ঞতা পেয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ের এইচএএফ-এ রেজিস্ট্রি বা নিবন্ধনের জন্য আমি অবশ্যই কমিউনিটি গ্রুপগুলোকে সুপারিশ করব।”

আসন্ন ক্রিসমাসে এইচএএফ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আরও বেশি স্কুল, চ্যারিটি সংস্থা ও কমিউনিটি সংগঠনকে আবেদন করতে উৎসাহিত করছে কাউন্সিল।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, “পারিবারিক পরিস্থিতি নির্বিশেষে প্রতিটি শিশুরই একটি আনন্দময় ও সমৃদ্ধ ছুটি কাটানোর সুযোগ প্রাপ্য। বিনামূল্যে কর্মকাণ্ড, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং তরুণদের জন্য সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে এইচএএফ তা সম্ভব করে তোলে।”

তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, আরও বেশি সংগঠন এগিয়ে আসবে, যাতে আমরা একটি উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিসমাস এইচএএফ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারি।”

ক্রিসমাস এইচএএফ কর্মসূচি পরিচালনার জন্য আবেদন আগামী ৪ অক্টোবর রোববার পর্যন্ত খোলা থাকবে। এই কর্মসূচি চলবে ২০২৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত।

আরও তথ্য ও আবেদন সংক্রান্ত নির্দেশনা পাওয়া যাবে www.towerhamlets.gov.uk/HAF ওয়েবসাইটে।

কমিউনিটি এর আরও খবর