img

১০ দিন পর হাসপাতাল ছেড়ে ফের কারাগারে ক্রিস্টা পাইক

প্রকাশিত :  ০৬:১০, ১১ অক্টোবর ২০২৬

১০ দিন পর হাসপাতাল ছেড়ে ফের কারাগারে ক্রিস্টা পাইক

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ১০ দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন দণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক। তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে ছাড় পাওয়ার পর তাঁকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

শনিবার আইনজীবীদের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। ৫০ বছর বয়সী পাইক গত ৩০ সেপ্টেম্বর পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধ প্রয়োগ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দুবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়া হলেও তিনি বেঁচে যান।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে তার জ্ঞান ফেরে এবং তিনি কথা বলতে শুরু করেন। এতে চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ ও তার আইনজীবীরা বিস্মিত হন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য জরুরি সেবাকর্মী ও চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পাইক।

তবে কারাগারে ফেরার পর তাকে কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। এর আগে তার আইনজীবীরা বলেছিলেন, সুস্থ হয়ে উঠতে তাকে দীর্ঘ সময়ের কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো জানায়নি, কেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা পরিকল্পনামতো সম্পন্ন হয়নি। তবে ব্যবহৃত পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারা।

গত বুধবার আদালতে এক শুনানিতে টেনেসির সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল উইল আয়রস বলেন, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আরেকটি চেষ্টা করা হবে কি না, তা তিনি জানেন না। শুনানিতে বিচারক ব্যর্থ ইনজেকশন প্রয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। ভবিষ্যতে অঙ্গরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলার ক্ষেত্রে এসব প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ক্রিস্টা পাইকের বয়স যখন ১৮ বছর, তখন তিনি তার তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে নির্যাতন ও হত্যা করেন। স্বল্প আয়ের তরুণদের জন্য আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে তাদের সঙ্গে স্লেমারের পরিচয় হয়েছিল।

অপরাধের সময় আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় শিপ মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পান। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন।

টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম নারী হিসেবে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তার আইনজীবীরা কয়েক দশক ধরে এ দণ্ডের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়েছেন। নির্ধারিত তারিখের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ও টেনেসির গভর্নর বিল লি-কেউই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া স্থগিত করেননি।

তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পাইকের আইনজীবীরা তার সাজা পরিবর্তন করে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার দাবি নতুন করে জানিয়েছেন।

হাসপাতালে নেওয়ার আগে পাইক জ্ঞান হারিয়েছিলেন। তার আইনজীবীরা কয়েক দিন ধরে আশঙ্কা করেছিলেন, তিনি হয়তো মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হারিয়েছেন এবং যেকোনো সময় তার লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।

পাইকের আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভির ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার জ্ঞান ফেরার পর তার প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘আমি কোথায়?’ এবং ‘আপনি কে?’

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবীরা জানান, হাসপাতালে পাইকের হাত-পা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। তিনি নিউমোনিয়া, দুই হাতে উল্লেখযোগ্য ফোলা এবং গিলতে না পারার সমস্যায় ভুগছিলেন। তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এ ঘটনার কী প্রভাব পড়বে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, পাইক ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত বোধ করছিলেন।



আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইসরায়েলকে মার্কিন অস্ত্র সহায়তা বন্ধের দাবিতে ওয়াশিংটনে বিক্ষোভ

প্রকাশিত :  ১৩:০৪, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ, অস্ত্র সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভ করেছেন শত শত ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা। শনিবার (১০ অক্টোবর) মার্কিন ক্যাপিটল ভবনের বাইরে এ সমাবেশ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর তিন বছর পূর্তিকে সামনে রেখে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ফিলিস্তিন ইয়ুথ মুভমেন্টসহ কয়েকটি ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন এতে অংশ নেয়।

বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করেন। তাদের হাতে থাকা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে গাজায় গণহত্যা বন্ধ, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্বের অবসান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানানো হয়। কেউ কেউ যুদ্ধের ব্যয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য ও কম মজুরির বিষয়টিও তুলে ধরেন।

ফিলিস্তিন ইয়ুথ মুভমেন্টের নওহাদ আক্কার বলেন, ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে চান তারা।

তার ভাষায়, ‘আমরা এই গণহত্যাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে দেব না।’ গাজার মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি গণহত্যা বন্ধের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পূর্ণ মুক্তি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রত্যাবর্তনের দাবিও জানান।

আক্কার আরও বলেন, ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা উচিত। এ লক্ষ্যে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের অবসরভাতা তহবিলে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ৩৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিতে প্রচার চালাচ্ছে তার সংগঠন।

ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের ইসাবেলা জাভিদান বলেন, গাজা, লেবানন ও ইরানে সামরিক তৎপরতাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার অভিযোগ, মার্কিন আইনপ্রণেতা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারকেরা এ সহিংসতাকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখছেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ইহুদি-আমেরিকান এরিক ডব্লিউ বলেন, ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় সহায়তা করে না। তার প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমাদের নামে কোনো গণহত্যা নয়।’

আয়োজকরা জানান, আসন্ন মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন আনতেই এ কর্মসূচি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর