img

ইসরায়েলকে মার্কিন অস্ত্র সহায়তা বন্ধের দাবিতে ওয়াশিংটনে বিক্ষোভ

প্রকাশিত :  ১৩:০৪, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলকে মার্কিন অস্ত্র সহায়তা বন্ধের দাবিতে ওয়াশিংটনে বিক্ষোভ

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ, অস্ত্র সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভ করেছেন শত শত ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা। শনিবার (১০ অক্টোবর) মার্কিন ক্যাপিটল ভবনের বাইরে এ সমাবেশ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর তিন বছর পূর্তিকে সামনে রেখে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ফিলিস্তিন ইয়ুথ মুভমেন্টসহ কয়েকটি ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন এতে অংশ নেয়।

বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করেন। তাদের হাতে থাকা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে গাজায় গণহত্যা বন্ধ, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্বের অবসান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানানো হয়। কেউ কেউ যুদ্ধের ব্যয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য ও কম মজুরির বিষয়টিও তুলে ধরেন।

ফিলিস্তিন ইয়ুথ মুভমেন্টের নওহাদ আক্কার বলেন, ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে চান তারা।

তার ভাষায়, ‘আমরা এই গণহত্যাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে দেব না।’ গাজার মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি গণহত্যা বন্ধের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পূর্ণ মুক্তি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রত্যাবর্তনের দাবিও জানান।

আক্কার আরও বলেন, ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা উচিত। এ লক্ষ্যে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের অবসরভাতা তহবিলে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ৩৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিতে প্রচার চালাচ্ছে তার সংগঠন।

ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের ইসাবেলা জাভিদান বলেন, গাজা, লেবানন ও ইরানে সামরিক তৎপরতাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার অভিযোগ, মার্কিন আইনপ্রণেতা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারকেরা এ সহিংসতাকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখছেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ইহুদি-আমেরিকান এরিক ডব্লিউ বলেন, ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় সহায়তা করে না। তার প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমাদের নামে কোনো গণহত্যা নয়।’

আয়োজকরা জানান, আসন্ন মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন আনতেই এ কর্মসূচি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যে শর্তে মুক্তি পেলেন অভিজিৎ দীপকেসহ সিজেপির তিন নেতা

প্রকাশিত :  ০৮:২৬, ১১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৩১, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে মুক্তি দিয়েছেন দিল্লির একটি স্থানীয় আদালত। এক বছরের মধ্যে শান্তি ভঙ্গ হতে পারে—এমন কোনো কাজে জড়িত না থাকার শর্তে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

রোববার সকালে তাদের দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে শনিবার দিল্লিতে একটি উড়োজাহাজ অবতরণের পর সেখান থেকে অভিজিৎ দীপকেকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাদের প্রতিরোধমূলক আটক করা হয়।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল সিজেপি। সেই কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে তাদের আটক করা হয়।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রানকা ও সৌরভ দাসকে প্রতিরোধমূলক আটক করা হয়। সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ১১ অক্টোবর তাদের দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখা ও ভালো আচরণের শর্তে ৫০ হাজার রুপির জামিনদার বন্ড জমা দেওয়ার পর আদালত তাদের মুক্তি দেন।

শনিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে রাজনীতিবিদসহ তিন হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে রাতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তরে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট দলে জড়ো হন।

শনিবার রাতে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ইউটিউব অ্যাক্টিভিস্ট ধ্রুব রাঠিও ছিলেন। তিনি কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধীর সমর্থক এবং নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।

এদিকে শনিবার দিল্লি মেট্রোর স্টেশন ও ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানিতে রোববার সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ বসার কথা রয়েছে। শুক্রবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ-যার অন্য দুই সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনা-শনিবারের বিক্ষোভের আগে মেট্রো পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ না রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

রোববার সকালে মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ছিলেন। আটক ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে আশপাশে বাসও রাখা হয়েছিল।

সিজেপির নেতারা বলেছেন, ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ভোট বাদ দেওয়া ও ভোট কারচুপির অভিযোগের জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে মানুষের জমায়েত ঠেকাতে রাজধানীতে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ জারি করা হয়েছে।

বস্টন ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে সিজেপি গঠন করেন। তিনি ভারতে ফিরে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই আন্দোলনের কারণে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সে সময় আলোচনা হয়েছিল। দেশটির বিভিন্ন বিরোধী দল সিজেপিকে সমর্থন দিচ্ছে।

তবে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সিজেপিকে বিরোধী শক্তির একটি অংশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দলটির অভিযোগ, সংগঠনটি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন অভিযোগ করেছেন, বিরোধী গোষ্ঠীগুলো ‘বিদেশি শক্তির’ নির্দেশনায় ভারতের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, গণতন্ত্রে প্রত্যেক ব্যক্তির ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে নৈরাজ্য ছড়ানো কারও অধিকার নয়। জেন-জি তরুণেরা সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত হতে পারেন, কিন্তু তাঁদের দেশ গড়ার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সিজেপিকে রাহুল গান্ধী ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ‘বি-টিম’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর