img

পোশাক রপ্তানিতে জাপানে আশা, হতাশা ভারতে

প্রকাশিত :  ০৭:৪১, ১২ অক্টোবর ২০২৬

পোশাক রপ্তানিতে জাপানে আশা, হতাশা ভারতে

তৈরি পোশাকের অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা দীর্ঘদিনের হলেও এত দিন তেমন অগ্রগতি হয়নি। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এসব বাজারে রপ্তানি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি হারে। প্রধান ১৫টি অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে ১০টিতে রপ্তানি বেড়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার বড় বাজার চীন ও জাপানে রপ্তানি বৃদ্ধির গতি ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে প্রতিবেশী ভারতে রপ্তানি কমেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান গন্তব্য জাপান। বাংলাদেশের অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ডলারের একমাত্র বাজার দেশটি। গত অর্থবছরে জাপানে রপ্তানি হয়েছে ১৩০ কোটি ডলারের পোশাক। গত প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ৩ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ৩৪ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের পোশাক। গত ২০২৫-২৬ অর্থছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মতো। তৈরি পোশাকের মধ্যে নিট ক্যাটেগরি অর্থাৎ গেঞ্জি জাতীয় পোশাকের চেয়ে ওভেন, অর্থাৎ শার্ট-প্যান্টের চাহিদা বেশি জাপানে। গত প্রান্তিকে নিটের রপ্তানি বেড়েছে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ, যেখানে ওভেনের বেড়েছে ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। 

অপ্রচলিত শ্রেণির দ্বিতীয় প্রধান বাজার অস্ট্রেলিয়া। গত প্রান্তিকে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২১ কোটি ডলার। দেশটিতে রপ্তানি খুব বেশি নয়, মাত্র ১ শতাংশ বেড়েছে। গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে ছিল ২০ কোটি ৭০ লাখ ডলারের মতো। দেশটিতে গত অর্থবছরে রপ্তানি হয় ৮৫ কোটি ডলারের পোশাক। অস্ট্রেলিয়ায় আবার চাহিদা ভিন্ন। দেশটিতে নিট পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৪ শতাংশের মতো। যেখানে ওভেনের রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ২৫ শতাংশ। 

বাংলাদেশের জন্য অপ্রচলিত শ্রেণির তৃতীয় প্রধান বাজার প্রতিবেশী ভারত। দেশটিতে গত প্রান্তিকে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। রপ্তানির পরিমাণ ২২ কোটি ডলার থেকে কমে হয়েছে ২০ কোটি ডলার। দেশটিতে বছরে রপ্তানি হয় প্রায় ৭৫ কোটি ডলারের পোশাক। 

চীনে রপ্তানি বেড়েছে নামমাত্র, শূন্য দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে সাত কোটি ১২ লাখ ডলারে পোশাক। ভারতে ওভেনের চেয়ে নিটের চাহিদা বেশি। গত প্রান্তিকে দেশটিতে ওভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ। নিটের রপ্তানি শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে। 

প্রসঙ্গত, অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়াতে প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহিত করে আসছে সরকার। এ জন্য ২ শতাংশ নগদ দেওয়া হয়ে থাকে। সবমিলিয়ে রপ্তানি খাতে অন্তত ৫ ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। 

এদিকে অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৯ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ১২ কোটি ডলারের পোশাক। ব্রাজিলে রপ্তানি বেড়েছে ৪২ শতাংশ। রপ্তানির পরিমাণ ছিল ছয় কোটি ডলারের বেশি। সবচেয়ে বেশি হারে রপ্তানি বেড়েছে তুরস্কে। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের সাত কোটি ডলারে কম রপ্তানি এই অর্থবছরের একই সময়ে ১২ কোটি ৩১ লাখ ডলারে উঠে এসেছে। রপ্তানি ১২৩ শতাংশ বেড়েছে তুরস্কে। তুরস্ক নিজেও তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারক দেশ। অবশ্য দেশটি বাংলাদেশের পণ্য আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে থাকে। 

ব্রাজিলে রপ্তানি বেড়েছে ৪২ শতাংশের মতো। সাড়ে চার কোটি থেকে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি ডলারে উঠে এসেছে পোশাক রপ্তানি। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে গত প্রান্তিকে যে সব দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে এসব দেশের মধ্যে রয়েছে রাশিয়া। বড় অর্থনীতির দেশটিতে রপ্তানি কমেছে ২১ শতাংশের বেশি হারে। প্রায় পাঁচ কোটি ডলারের রপ্তানি চার কোটি ডলারের নিচে নেমে এসেছে। 

সব মিলিয়ে গত প্রান্তিকে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮১ কোটি  ডলারের কিছু বেশি, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৬৬ কোটি ডলারের কিছু কম। অর্থাৎ রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এই সুবাদে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের হিস্যা বেড়ে এখন ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে ছিল ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ। 

অন্যদিকে প্রচলিত বাজারের বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ২৭ জাতির জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) হিস্যা ৪৭ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ৩৬ শতাংশে, রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৯০ কোটি ডলার। রপ্তানির বাজার হিসেবে একক প্রধান দেশ যুক্তরাষ্ট্রের হিস্যা কিছুটা বেড়ে হয়েছে ২০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে এ হার ছিল ২০ দশমিক ১৮ শতাংশ। 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

করাচিতে ১৪৪ ধারা জারি, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

প্রকাশিত :  ১০:৪৫, ১২ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪৮, ১২ অক্টোবর ২০২৬

এবার পাকিস্তানের করাচিতে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জনদুর্ভোগ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) করাচির কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভির জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শহরের প্রধান সড়ক, মোড় ও চত্বরগুলোতে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, অবস্থান ও মিছিলের কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল, জরুরি সেবা এবং হাসপাতালে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় করাচি বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, অবস্থান, মিছিল এবং পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জনশান্তি বজায় রাখা, নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সেবার যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত এল। খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি এবং প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা সোহেল আফ্রিদিকে গ্রেপ্তারের পর দেশটির রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি রয়েছেন।

সূত্র: দ্যা ডন 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর