ইসরায়েলকে মার্কিন অস্ত্র সহায়তা বন্ধের দাবিতে ওয়াশিংটনে বিক্ষোভ
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ, অস্ত্র সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভ করেছেন শত শত ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা। শনিবার (১০ অক্টোবর) মার্কিন ক্যাপিটল ভবনের বাইরে এ সমাবেশ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর তিন বছর পূর্তিকে সামনে রেখে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ফিলিস্তিন ইয়ুথ মুভমেন্টসহ কয়েকটি ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন এতে অংশ নেয়।
বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করেন। তাদের হাতে থাকা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে গাজায় গণহত্যা বন্ধ, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্বের অবসান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানানো হয়। কেউ কেউ যুদ্ধের ব্যয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য ও কম মজুরির বিষয়টিও তুলে ধরেন।
ফিলিস্তিন ইয়ুথ মুভমেন্টের নওহাদ আক্কার বলেন, ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে চান তারা।
তার ভাষায়, ‘আমরা এই গণহত্যাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে দেব না।’ গাজার মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি গণহত্যা বন্ধের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পূর্ণ মুক্তি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রত্যাবর্তনের দাবিও জানান।
আক্কার আরও বলেন, ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা উচিত। এ লক্ষ্যে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের অবসরভাতা তহবিলে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ৩৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিতে প্রচার চালাচ্ছে তার সংগঠন।
ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের ইসাবেলা জাভিদান বলেন, গাজা, লেবানন ও ইরানে সামরিক তৎপরতাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার অভিযোগ, মার্কিন আইনপ্রণেতা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারকেরা এ সহিংসতাকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ইহুদি-আমেরিকান এরিক ডব্লিউ বলেন, ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় সহায়তা করে না। তার প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমাদের নামে কোনো গণহত্যা নয়।’
আয়োজকরা জানান, আসন্ন মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন আনতেই এ কর্মসূচি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি



















