img

আশরাফুলের রেকর্ড পেছনে ফেললেন লিটন

প্রকাশিত :  ১০:২৪, ১২ অক্টোবর ২০২৬

আশরাফুলের রেকর্ড পেছনে ফেললেন লিটন

সেই লিটন দাসই আক্ষেপটা ঘোচালেন। আবুধাবি টেস্টে বাংলাদেশকে সেঞ্চুরির আশা দেখিয়েছেন অন্তত ৪ জন। কিন্তু সে আশা পূরণ করতে পারেননি কেউই। পারলেন লিটন দাস। অনেকটা ওয়ানডে মেজাজে করলেন সেঞ্চুরি। আর তাতেই রেকর্ডের পাতায় মোহাম্মদ আশরাফুলকে পেছনে ফেললেন তিনি। 

তৃতীয় দিন বিকালে মুশফিকের বিদায়ের পর উইকেটে এসেছিলেন তিনি। এসেই নাজমুল হোসেন শান্ত আর হাসান মাহমুদকে বিদায় নিতে দেখেন। ১১ রানের মাথায় ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশও খানিকটা বিপাকে পড়ে গিয়েছিল।

সেখান থেকে তিনি দলের ইনিংস টেনেছেন মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে। শুরুতে খানিকটা ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছেন বৈকি। কায়েস আহমেদের বলে দুবার ক্যাচ তুলে দিয়েও রক্ষা পেয়েছেন। দুটি ‘জীবন’ পাওয়ার ফায়দাটা ভালোভাবেই তুলেছেন তিনি। ওয়ানডে মেজাজে খেলতে থাকেন প্রথম সেশন থেকেই। 

প্রথম সেশনে ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেছিলেন। তার আগে পঞ্চম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ছুঁয়েছেন ৯০০০ রানের মাইলফলকও। সেশন যখন শেষ করলেন, তখন সেঞ্চুরির জন্য তার প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। সে রানটা তুলতে দ্বিতীয় সেশনে তিনি বল খেললেন মোটে ১৯টি। তাতেই তিনি পৌঁছে যান ৩ অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে। সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন ১১৫ বলে।

চলতি বছর প্রথম ব্যাটার হিসেবে দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি। এর আগে মে মাসে তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে করেছিলেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। 

তাতে একটা রেকর্ডের পাতায় মোহাম্মদ আশরাফুলকেও পেছনে ফেলেছেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় ৬ সেঞ্চুরি নিয়ে তিনি আশরাফুলের সঙ্গে মিলে যৌথভাবে ছিলেন ৫ নম্বরে। আজকের এই সেঞ্চুরিতে এককভাবে পাঁচে উঠে এলেন লিটন।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙতে অবশ্য আরও কিছু দূর এগোতে হবে তাকে। মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি ১৪টি, দুইয়ে থাকা মমিনুল হকের সেঞ্চুরি ১৩টি। তিনে আছেন তামিম ইকবাল, তার সেঞ্চুরি ১০টি; ৯টি সেঞ্চুরি নিয়ে চারে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৭ সেঞ্চুরি নিয়ে এরপরই এখন অবস্থান লিটনের।

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন হাসান মাহমুদ

প্রকাশিত :  ০৮:২৫, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েছেন তিনি। সুখবরটা আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন নতুন বল এলেই বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরে আসবে। কিন্তু সেটা এভাবে, তা কে জানত!

সে অবিশ্বাস্য কাজটাই করে বসেছে বাংলাদেশ। ৭ বলের এদিক ওদিকে তুলে নিয়েছে আফগানদের ৪ উইকেট। তবে এই কীর্তি গড়া সম্ভব হয়েছে হাসান মাহমুদের কল্যাণে। এক ওভারেই যে তিনি শেষ করে দিয়েছেন আফগানদের লোয়ার মিডল অর্ডারের পুরোটা!

শুরুটা করেছিলেন ইসমাত আলমকে বোল্ড করে। দারুণ এক ইনসুইঙ্গারে তিনি পরাস্ত করেন আফগানদের নতুন ব্যাটারকে। 

পরের বলে পালা আসে কাইস আহমেদের। তার সর্বনাশ করল হাসানের এক আউটসুইঙ্গার। ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে গিয়েছিল পেছনে। দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়েছেন লিটন দাস। 

এরপরের বলে নতুন ব্যাটার জিয়া আকবর পরাস্ত হন ভেতরে আসা বলে। তার প্যাডে লাগলেও আম্পায়ার সাড়া দেননি। রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। সেখানে দেখা যায় পিচিং, ইমপ্যাক্ট আর হিটিং সবকিছুতেই জ্বলেছে লাল বাতি। সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে যায় হাসানের হ্যাটট্রিক।

টেস্টে বাংলাদেশ হ্যাটট্রিক দেখেছে আরও দুটি। ২০০৩ সালে প্রথম হ্যাটট্রিকটা করেছিলেন অলক কাপালি, এরপর ২০১৩ সালে সোহাগ গাজী। তবে কোনো পেসার এই কীর্তি গড়তে পারেননি। আজ সে অজেয় পর্বতচূড়া জয় করলেন হাসান মাহমুদ। ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন নিজের।