img

ইরান সীমান্তের কাছে গিয়েও পিছু হটল কয়েক ডজন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান

প্রকাশিত :  ১৪:১১, ২২ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১৩, ২২ অক্টোবর ২০২৬

ইরান সীমান্তের কাছে গিয়েও পিছু হটল কয়েক ডজন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান

মধ্যপ্রাচ্যের দুই মুসলিম রাষ্ট্র সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সীমান্তের একেবারে কাছে পৌঁছেও ফিরে এসেছে দখলদার ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান।

ইরানি বাহিনীকে গুলি চালাতে প্ররোচিত করে নতুন করে হামলার অজুহাত তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল কি-না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন সূত্রের বরাতে ইসরায়েলি মিডিয়া চ্যানেল ১২ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে তুরকি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এ অভিযানকে ইরানকে প্রতিরোধের বার্তা দেওয়ার সামরিক মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমানের সঙ্গে দেশটির বিমানবাহিনীর জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও অংশ নেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ইরান সীমান্তের খুব কাছাকাছি পৌঁছায়। এরপর ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ না করেই সেগুলো ইসরায়েলের দিকে ফিরে যায়।

চ্যানেল ১২-কে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল হয়তো আশা করেছিল, সীমান্তের কাছে তাদের যুদ্ধবিমানগুলোর উপস্থিতি দেখে ইরানি বাহিনী গুলি চালাবে। তেমনটি হলে সেই ঘটনাকে ইরানে হামলা চালানোর যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হতে পারত।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অভিযানটিকে ইরানকে প্রতিরোধের বার্তা দেওয়ার সামরিক মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের অভিযানে ইরানের ভুল হিসাব-নিকাশের ঝুঁকি ছিল। এর ফলে ইরান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারত এবং নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারত।

যুক্তরাষ্ট্রের সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, অভিযানটি পরিচালনার আগেই ওয়াশিংটনকে বিষয়টি অবহিত করেছিল ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছিল, নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন এবং ইরানকে হামলা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে এ মহড়া চালানো হচ্ছে। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যে ইসরায়েলি বিমানগুলোর উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারবে, সে বিষয়েও ইসরায়েল অবগত ছিল বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরায়েল সফরের সময় এ অভিযান চালানো হয়। সফরে তিনি ওভদা বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এদিকে, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে মিডিল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে ইরানে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তির বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক দিনব্যাপী হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাগুলো প্রাথমিকভাবে ১০ অক্টোবর চালানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে আপত্তি জানান। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন করে যুদ্ধে জড়াতে চাননি তিনি। ফলে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সঙ্গে কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের এই অভিযান এবং ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাকে সামনে এনেছে। তবে সীমান্তের কাছে যুদ্ধবিমান পাঠানোর উদ্দেশ্য নিয়ে পাল্টা হামলা উসকে দেওয়ার যে সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের সূত্রের দেওয়া তথ্য ও মূল্যায়ন; এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত কোনো ঘটনা নয়।

সূত্র: মিডিল ইস্ট মনিটর, আনাদোলু এজেন্সি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ফ্রান্সের ২ শহরে বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা, প্যারিসে বাড়লো কারফিউয়ের মেয়াদ

প্রকাশিত :  ০৭:৪০, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

শহরের কয়েকটি এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ বহাল রেখে আগামী সোমবার পর্যন্ত আংশিক কারফিউয়ের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্যারিস। এদিকে, মার্সেই ও লিওঁ শহরে আগামীকাল শনিবার ও রোববার সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে সব ধরনের বিক্ষোভ-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ফ্রান্সের রাজধানীতে আবারও বিক্ষোভের আশঙ্কায় শনিবার ল্যুভ, ওর্সে ও পিকাসো জাদুঘরও বন্ধ থাকবে।

জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং স্কুলের পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত সপ্তাহে ফ্রান্সজুড়ে বড় আকারের বিক্ষোভ হয়। তবে দাঙ্গা ও লুটপাটের কারণে সেই বিক্ষোভের মূল দাবি আড়ালে চলে যায়। সহিংসতায় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঐতিহাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই অস্থিরতার রেশ এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফ্রান্স।

এদিকে, ফ্রান্সের শনিবারের বিক্ষোভ-সমাবেশকে কেন্দ্র করে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং প্যারিসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্যারিসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ফ্রান্সে সহিংসতা ও অস্থিরতার ঘটনা ঘটেছে এবং এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফ্রান্সের সরকার ‘অবৈধ’ বিক্ষোভ দমনে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে শ্রমিক সংগঠনের মতো গোষ্ঠীগুলোর আয়োজিত সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় বিক্ষোভ ও অস্থিরতাপূর্ণ এলাকা ফ্রান্সে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পাশাপাশি জনসমাগমপূর্ণ স্থান এবং যেখানে পুলিশের উপস্থিতি বেশি, সেসব এলাকা থেকেও দূরে থাকুন। আগামী ২৪ অক্টোবর (শনিবার) বিক্ষোভ আয়োজনের অনুমতি চেয়ে বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী আবেদন করেছে। ২৫ অক্টোবর (রোববার) ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) খেলা দেখার বিষয়ে প্যারিসে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও সতর্ক এবং আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ফ্রান্সের যেসব এলাকায় পুরোপুরি বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়নি, সেখানে আগামীকাল শনিবার কেবল অনুমোদিত শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ দিদিয়ে বের্জেই বলেছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এবার পুলিশের মোতায়েন ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে। অস্থিরতার ব্যাপকতা সম্পর্কে সরকার আগে থেকে ধারণা করতে ব্যর্থ হয়েছে - এমন অভিযোগ ওঠার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের বিচারবিষয়ক মন্ত্রী জেরাল্ড ডার্মানান গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়ায় মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ২১৭ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ফ্রান্সজুড়ে দুই হাজার ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার এবং এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

লে ফিগারো পত্রিকার বরাতে তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের অর্ধেকেরই অপরাধের কোনো রেকর্ড আগে ছিল না।

প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, গত সপ্তাহের বিক্ষোভকারীরা যে প্লাস দ্য লা রিপুবলিক এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন, সেখানে এবং লে আল শপিং এলাকায় আগামী সোমবার পর্যন্ত কারফিউ বাড়ানো হবে।

রাজধানীর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত এই দুই এলাকায় চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ ও প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লোকর্নুর নির্দেশে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহের দাঙ্গার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আগামীকাল শনিবার মার্সেই শহরে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখা হবে।

সেসময় ফ্রান্সের যেসব শহরে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা হয়েছিল, মার্সেই ছিল তার অন্যতম। সেখানে ৫০০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রোউন অঞ্চলের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীকাল শনিবার রাত ১১টা থেকে পরদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য জারি করা কারফিউ সবার ক্ষেত্রে কার্যকর করা হবে। গ্রিনিচমান সময় অনুযায়ী, এ সময় রাত ৯টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত।

দক্ষিণের নিস, দক্ষিণ উপকূলের তুলোঁ, উত্তর-পশ্চিমের রুয়াঁ শহরের কেন্দ্র এবং পূর্বাঞ্চলের গ্রেনোবলেও একই ধরনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আগামীকাল শনিবারের জাতীয় বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিতে গতকাল বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ম্যাক্রোঁ।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সাধারণভাবে সুপারিশ হলো, কোনো বিক্ষোভ হওয়া উচিত নয়। শ্রমিক সংগঠন হিসেবে যারা বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে চায়, তাদের জন্য কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা করবে।’ তিনি আরও বলেন, যেসব বিক্ষোভ শ্রমিক সংগঠনের আয়োজনে হবে না, সম্ভব হলে সেগুলো নিষিদ্ধ করা হবে।

ম্যাক্রোঁ বামপন্থি কট্টর গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তারা প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যে ‘রাজনৈতিক, এমনকি রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কর্মকাণ্ড’ সংগঠিত করছে।

গত সপ্তাহের দাঙ্গার পর বেশ কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি করা হয়। সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চায় বলে জানান ম্যাক্রোঁ।

সেসময়কার বিক্ষোভের বড় একটি অংশের পেছনে ছিল ‘জিলে জন’ বা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। প্যারিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই আন্দোলনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বেশ কয়েকটি মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সপ্তাহে দক্ষিণের মার্সেই, বোর্দো, নিস ও লিওনের পাশাপাশি উত্তরের লিলসহ বিভিন্ন শহরে তরুণদের চলাচল এবং জনসমাবেশের ওপর বিভিন্ন ধরনের আংশিক কারফিউ ও বিধিনিষেধ কার্যকর ছিল।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লোকর্নু এ সপ্তাহে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এ সপ্তাহের সম্ভাব্য অস্থিরতা মোকাবিলায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা তবে ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, বড় জনসমাগম সামাল দেওয়ার প্রশিক্ষণ তাদের নেই।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শ্রমিক সংগঠন, ‘জিলে জন’ বা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন এবং শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর সমর্থনে প্যারিসসহ ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি বড় শহরে মিছিল হয়। অধিকাংশ মিছিল শান্তিপূর্ণ থাকলেও সহিংসতা, লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় তা ম্লান হয়ে যায়।

বিক্ষোভ চলাকালে লিওঁ শহরের পর্যটন দপ্তরে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। লিমোজ শহরে বৃহস্পতিবার একটি সুসজ্জিত সিটি হলের ঘড়ির টাওয়ার ও ছাদের কিছু অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেগুলো ধসে পড়ে।

সিটি হলে আগুন লাগার সময় সেখানে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যাচেষ্টার সন্দেহে ৩০-এর কোঠার এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবার ৬৬ বছর বয়সি দ্বিতীয় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক প্লেস দ্য লা রিপাবলিক চত্বরেও ভাঙচুর চালানো হয়। দাঙ্গাকারীদের বিভিন্ন দল শহরের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

আগামী বছরের ১৮ এপ্রিল ও পয়লা মে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ম্যাক্রোঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদের শেষ কয়েক মাসে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।