img

টাইফুন ‘চাম্পির’ তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড তাইওয়ান, অগ্রসর হচ্ছে চীনের দিকে

প্রকাশিত :  ০৭:৪৭, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

টাইফুন ‘চাম্পির’ তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড তাইওয়ান, অগ্রসর হচ্ছে চীনের দিকে

তাইওয়ানের উপকূলে আঘাত হানা শক্তিশালী টাইফুন ‘চাম্পি’র তাণ্ডবে অন্তত একজন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ঝোড়ো বাতাসে গাছপালা উপড়ে পড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু এলাকা। বর্তমানে ঝড়টি দুর্বল হয়ে উত্তর দিকে চীনের উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ অক্টোবর) তাইওয়ানের আবহাওয়া প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, একসময়ের সুপার টাইফুন এবং প্রশান্ত মহাসাগরের এই বছরের অন্যতম শক্তিশালী এই ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হলেও এর কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি এখনো প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১২৬ কিলোমিটার (৭৮ মাইল) বেগে দমকা হাওয়া বইছে। খবর রয়টার্সের।

শনিবার ভোরে তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে আঘাত হানার পর ঝড়টি বর্তমানে দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মাইল) দূরে অবস্থান করছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি এখন উত্তর দিকে মোড় নিয়ে চীনের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং পরবর্তীতে এটি দক্ষিণ জাপানের দিকে অগ্রসর হতে পারে।

তাইওয়ানের ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, লিউকিউ দ্বীপের কাছে বিশাল ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রবল বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে দেশটিতে মোট ৫২৭ জন আহত হয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান ‘তাইপাওয়ার’ জানিয়েছে, চরম দুর্যোগের একপর্যায়ে ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল। তবে এর মধ্যে বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে।

পরিবহণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার ২৪২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তবে শুক্রবার প্রায় ১ হাজার ফ্লাইট বাতিলের তুলনায় এই সংখ্যা কিছুটা কম। রাজধানী তাইপেতে ঝড়ের কবলে পড়ে বহু গাছপালা উপড়ে গেছে এবং থেমে থেমে তীব্র দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। দুর্যোগের কারণে রাজধানী তাইপেসহ উত্তর ও মধ্য তাইওয়ানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো অফিস ও স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

তাইওয়ান সাধারণত টাইফুনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অত্যন্ত সতর্ক ও সুসজ্জিত থাকে, যার ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়। গ্রীষ্মকালে টাইফুনের প্রকোপ বেশি দেখা গেলেও মাঝে মাঝে শরৎকালেও এমন শক্তিশালী ঝড়ের কবলে পড়ে দেশটি।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

নির্বাচনের আগে ইসরায়েলে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

প্রকাশিত :  ০৬:৫৫, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

হাজারো মানুষ ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনা তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবিতে শনিবার রাতে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এ কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষোভকারীরা।

ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে সরকারের ওপর তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

আয়োজকদের দাবি, এতে এক লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা জানানো হয়নি।

‘অক্টোবর কাউন্সিল’ নামের একটি সংগঠন এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। সংগঠনটিতে ৭ অক্টোবরের হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, সাবেক জিম্মি এবং নিহতদের স্বজনেরা রয়েছেন। তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কয়ারে আয়োজিত সমাবেশে তারা হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং সরকারের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানান।

হামলায় নিহত এক জিম্মি ওরি দানিনোর বাবা এলহানান দানিনো অভিযোগ করেন, সরকার তদন্ত কমিশন গঠন করছে না, কারণ তাদের হয়তো কিছু লুকানোর আছে। তিনি বলেন, হামলার তিন বছর পরও সত্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু হয়নি।

আরেক জিম্মির মা ভিকি কোহেন বলেন, ৭ অক্টোবর কী ঘটেছিল, সেই সত্য চাপা পড়তে দেওয়া যাবে না। নিরাপত্তা বিভাগের ব্যর্থতার সঙ্গে জড়িত শীর্ষ কর্মকর্তারা সরে গেছেন, এবার রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও দায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে নেতানিয়াহুর বিরোধী রাজনৈতিক জোটের কয়েকজন শীর্ষ নেতাও যোগ দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট, ডেমোক্র্যাটস পার্টির ইয়ার গোলান, ইসরায়েল বেইতেনুর আভিগদর লিবারম্যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ।

ইয়ার গোলান বলেন, নির্বাচনের পর বুধবার থেকেই তারা সত্য উদ্ঘাটন ও নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেবেন।

ইসরায়েলে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন বড় ধরনের জাতীয় বিপর্যয়ের তদন্তের সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা। এটি সাক্ষীদের তলব করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে সুপারিশ দিতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ ধরনের কমিশন গঠনে রাজি হননি। তার দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ দেওয়া স্বাধীন কমিশন সরকারের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে।

৭ অক্টোবরের হামলায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, হামলার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী ধরনের ব্যর্থতা ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সমাবেশে সাবেক জিম্মি ড্যানিয়েল আলোনি বলেন, ওই দিন শুধু মানুষকে অপহরণ করা হয়নি, মানুষের নিরাপত্তাবোধও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনের পর শিশুদের জন্য ভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল