img

ইরানে আজই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৪:১৯, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ইরানে আজই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দেশটিতে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রোববারই নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তেহরান ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে ‘বড় চুক্তিতে’ সম্মত হলে সামরিক পদক্ষেপ এড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

গত কয়েক দিন ধরেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সম্ভাব্য অভিযানের সময় নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। হামলা কবে শুরু হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছি। সম্ভবত আগামীকাল (রোববার) হতে পারে।’

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান চুক্তিতে আগ্রহী হলেও সেটি মেনে চলার বিষয়ে দেশটির প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংশয় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইরানিরা চুক্তি চায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা চুক্তির শর্ত পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে পারবে কি না।’

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখাই তার প্রধান লক্ষ্য বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত বছরের জুনে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের দাবি, চলতি বছর আবারও হামলার সিদ্ধান্ত না নিলে গত বছরের অভিযান ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে ঠেকানোর ক্ষেত্রে যথেষ্ট হতো কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যেত।

এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগের মতোই তেল পরিবহন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে এ বক্তব্যের সমর্থনে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

ইরান চুক্তিতে সম্মত না হলে সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটিকে বাধ্য করা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে হয়তো কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় তারা চুক্তিতে আসতে পারে। তবে আমি নিশ্চিত নই। সামরিক অভিযান হোক বা চুক্তি—যেভাবেই হোক, আমরা জিতব।’

সূত্র: আনাদোলু

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

নির্বাচনের আগে ইসরায়েলে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

প্রকাশিত :  ০৬:৫৫, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

হাজারো মানুষ ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনা তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবিতে শনিবার রাতে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এ কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষোভকারীরা।

ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে সরকারের ওপর তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

আয়োজকদের দাবি, এতে এক লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা জানানো হয়নি।

‘অক্টোবর কাউন্সিল’ নামের একটি সংগঠন এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। সংগঠনটিতে ৭ অক্টোবরের হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, সাবেক জিম্মি এবং নিহতদের স্বজনেরা রয়েছেন। তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কয়ারে আয়োজিত সমাবেশে তারা হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং সরকারের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানান।

হামলায় নিহত এক জিম্মি ওরি দানিনোর বাবা এলহানান দানিনো অভিযোগ করেন, সরকার তদন্ত কমিশন গঠন করছে না, কারণ তাদের হয়তো কিছু লুকানোর আছে। তিনি বলেন, হামলার তিন বছর পরও সত্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু হয়নি।

আরেক জিম্মির মা ভিকি কোহেন বলেন, ৭ অক্টোবর কী ঘটেছিল, সেই সত্য চাপা পড়তে দেওয়া যাবে না। নিরাপত্তা বিভাগের ব্যর্থতার সঙ্গে জড়িত শীর্ষ কর্মকর্তারা সরে গেছেন, এবার রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও দায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে নেতানিয়াহুর বিরোধী রাজনৈতিক জোটের কয়েকজন শীর্ষ নেতাও যোগ দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট, ডেমোক্র্যাটস পার্টির ইয়ার গোলান, ইসরায়েল বেইতেনুর আভিগদর লিবারম্যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ।

ইয়ার গোলান বলেন, নির্বাচনের পর বুধবার থেকেই তারা সত্য উদ্ঘাটন ও নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেবেন।

ইসরায়েলে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন বড় ধরনের জাতীয় বিপর্যয়ের তদন্তের সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা। এটি সাক্ষীদের তলব করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে সুপারিশ দিতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ ধরনের কমিশন গঠনে রাজি হননি। তার দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ দেওয়া স্বাধীন কমিশন সরকারের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে।

৭ অক্টোবরের হামলায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, হামলার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী ধরনের ব্যর্থতা ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সমাবেশে সাবেক জিম্মি ড্যানিয়েল আলোনি বলেন, ওই দিন শুধু মানুষকে অপহরণ করা হয়নি, মানুষের নিরাপত্তাবোধও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনের পর শিশুদের জন্য ভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল