img

ডিজে পার্টি কাণ্ডের সেই অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত

প্রকাশিত :  ১৫:৫৭, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ডিজে পার্টি কাণ্ডের সেই অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত

রাজধানীর খিলক্ষেতে নিজের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে ডিজে পার্টির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার এবং ৮৪ জনকে আটকের ঘটনায় অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ ঘটনায় পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে এবং জনসমক্ষে বাহিনীর ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তাকে রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে (পিএসটিএস) সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে, ১৯ অক্টোবর ভোর রাতে ক্ষিলক্ষেতে পুলিশ হাউজিং আবাসিক এলাকায় ওই কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বাড়িতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। পরদিন পুলিশ সদর দপ্তরের রিঅ্যার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত জহিরকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়।

আলোচনায় আসা এ অভিযানের পর ডিবি বাড়িটিতে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলছিল বলে জানায়। অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ এবং ২৬ জন নারীসহ মোট ৮৪ জনকে আটকের তথ্যও দেয় ডিবি।

প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অতিরিক্তি এ ডিআইজিকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশে শনিবার বলা হয়, যার (অভিযান ও খবর প্রকাশিত হওয়ার পর) ফলে জনমনে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি ‘চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।’

অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের এ কর্মকাণ্ডকে ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত, অকর্মকর্তাসুলভ এবং বিভাগীয় নিয়ম-শৃঙ্খলা পরিপন্থি’ বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। 

এসব কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ শাস্তিযোগ্য অপরাধে তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে তুলে ধরা হয়।

সাময়িক বরখাস্তকালীন ওই কর্মকর্তা বিধি অনুযায়ী এ সময়ে খোরপোষ ভাতা পাবেন বলে একই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন।

এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে সেদিন বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের রিঅ্যার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল। এর ৫ দিনের মাথায় সাময়িক বরখাস্ত করল মন্ত্রণালয়।


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

রণক্ষেত্র মিরপুর-১০, পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

প্রকাশিত :  ০৬:১৫, ০১ নভেম্বর ২০২৬

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে মিরপুরের কয়েকটি সড়ক অবরোধ করলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এদিকে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটার পাশাপাশি জলকামান, কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে পুলিশ।

আজ সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-১০ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এ সময় শ্রমিকদের ইট-পাটকেল ছুড়তে দেখা যায়।

আজ দুপুর ১২টার সময়ও সংঘর্ষ চলছিল। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।

পুলিশ জানায়, ‘ছিনতাইকারী’ সন্দেহে আন্দোলনকারীদের মধ্যে একজনকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ বক্সে রাখার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর চার দিক থেকে আন্দোলনকারীরা গোলচত্বরের পুলিশ বক্সের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার আবু নাসের রিকাবদার বলেন, এখনও সংঘর্ষ চলছে। আমরা তাদের ডিসপার্স করছি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

এর আগে, আজ সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

এতে ওই গোলচত্বর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে আশপাশের এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প পথে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করে ট্রাফিক পুলিশ।

পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, সকাল থেকেই মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন। সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে পুলিশ কাজ করছে।

এ বিষয়ে মিরপুর জোন ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মাহফুজুল হক বকশী সকালে বলেন, পোশাক শ্রমিকরা আজও সড়ক অবরোধ করেছেন। বর্তমানে মিরপুর-১০ নম্বর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা ডাইভারশন দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।


 


বাংলাদেশ এর আরও খবর