img

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: মরদেহ কোথায়, ঢাকাকে এখনো জানায়নি রিয়াদ

প্রকাশিত :  ১৮:০৪, ০১ নভেম্বর ২০২৬

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: মরদেহ কোথায়, ঢাকাকে এখনো জানায়নি রিয়াদ

সৌদি আরবে গত ১৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি—নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মরদেহ বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কিছুই জানতে পারেনি তাদের পরিবার। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণ ও বিস্তারিত জানতে চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো কূটনৈতিক নোটের বিপরীতে রিয়াদ থেকে এখনও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে আজ রোববার (১ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এর আগে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জানায়, দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ পূর্বে তাদের কোনো তথ্য দেয়নি। সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি দেখেই কেবল কনস্যুলেট বিষয়টি জানতে পারে। পরবর্তীতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, আদালতের রায়, আইনি সহায়তা এবং মরদেহের পরিণতি সম্পর্কে জানতে চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক নোট পাঠায় বাংলাদেশ।

অন্যদিকে ভিয়েনা কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৩৭ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হলে বিলম্ব না করে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটকে অবহিত করার নিয়ম রয়েছে। নজরুলের পরিবার ও সুইটির বাবার আকুল আবেদন, তাদের সন্তানের মরদেহ বা দেহাবশেষ যেন অন্তত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক থাকা ওই দুই নাগরিক মৃত্যুদণ্ডাদেশের মুখে ছিলেন—এ কথা তাদের পরিবার বা বাংলাদেশ মিশন পূর্বাহ্নে জানত না বলে যে তথ্য এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এ ঘটনায় বাংলাদেশ মিশনের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি ওঠার পাশাপাশি গত ২৮ অক্টোবর হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে, যেখানে আটক, বিচার ও কনস্যুলার সহায়তার বিবরণ সংক্রান্ত সব নথিপত্র প্রকাশের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

img

মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার চেষ্টা, আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ১৪:০৮, ০১ নভেম্বর ২০২৬

পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানীতে চলমান আন্দোলনের আড়ালে নাশকতা ও ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির মিরপুর বিভাগের অভিযানে মিরপুর-১০ ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকেরা আন্দোলন করছেন। তবে আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শ্রমিক লীগের একজন নেতা, আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য এবং যুবলীগের একজন কর্মী রয়েছেন। তারা হলেন মো. কামাল গাজী (৩২), মো. ওলিউল্লাহ অনিক (২০), আলিফ হোসেন ইমন (২৬), মো. নাহিদ হাসান (১৮), আরিফ আকন্দ (২৯), জায়েদ করিম রিয়াজ (২৪), মো. রমজান সরকার (১৮), মোয়াজ্জেম শাহরিয়া নিয়াজ, জুবায়েদ ইসলাম জিসান (২২) এবং মো. মাহিম মোল্লা (১৯)।

পুলিশের তথ্য বলছে, কামাল গাজী শ্রমিক লীগের সহসাধারণ সম্পাদক। শ্রমিক আন্দোলনে মিছিল ও ভাঙচুরের জন্য লোক সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওলিউল্লাহ অনিককে আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য ও পিকেটার হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্যদের মধ্যে রমজান সরকার যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। বাকি ব্যক্তিদের আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাড়ি পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া, মুন্সীগঞ্জ, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, কক্সবাজার, পাবনা, সাভার ও মাদারীপুরে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাদের বেশির ভাগই রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, রূপনগর, কাফরুল ও উত্তরা এলাকায় বসবাস করতেন।

এদিকে শ্রমিক আন্দোলনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তাদের একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজবুল ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে তাকে শ্রমিক আন্দোলনে অংশ নিতে এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

ডিবির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, নাশকতার চেষ্টায় প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।