img

সত্যের সন্ধানে!

প্রকাশিত :  ১১:৫৫, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪

সত্যের সন্ধানে!

রেজুয়ান আহম্মেদ

সন্ধ্যার ঠিক আগে গ্রামের মসজিদের মিনার থেকে আজানের সুর ভেসে এল। পুরো গ্রাম শান্ত। পুকুরের পাশে বসে তরুণ মাদ্রাসা ছাত্র সাঈদ কোরআনের একটি আয়াত নিয়ে ভাবছিল। পাশেই বসে ছিল ফারুক, গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক।

ফারুক বলল, “সাঈদ, কালকের হুজুরের বয়ান শুনলি? হুজুর বলছিলেন, ‘নারীদের বাড়ির বাইরে যাওয়া হারাম, তারা শুধুই ঘরে থাকবে।’ কী বলিস তুই?”

সাঈদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, “ফারুক ভাই, ইসলামে নারীদের প্রতি যে সম্মান দেখানো হয়েছে, সেটা কি শুধু ঘরে আবদ্ধ থাকার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়? হাদিসে তো আছে, উম্মাহাতুল মুমিনিনরাও জীবনের নানা কাজে অংশগ্রহণ করতেন। তবে হুজুরের কথায় হয়তো অন্য কোনো দৃষ্টিকোণ ছিল।”

ফারুক বিরক্ত হয়ে বলল, “তাহলে তুই কি বলতে চাস, হুজুর মিথ্যে কথা বলেছেন?”

সাঈদ মৃদু হেসে বলল, “আমি বলছি না, হুজুর মিথ্যে বলেছেন। তবে কিছু কথা না জেনে বললে সেটা ভুল হতে পারে। হাদিস নিয়ে কথা বলার আগে আমাদের নিশ্চিত হওয়া উচিত। কারণ ইসলাম সত্যের ধর্ম।”

হুজুরের বয়ান নিয়ে গ্রামে আলোচনা শুরু হলো। কেউ কেউ বলল, “হুজুর তো বড় মাদ্রাসার মানুষ। তার কথা কীভাবে ভুল হতে পারে?”

আবার কেউ বলল, “আজকাল তরুণরা খুব প্রশ্ন করে। ওরা ইসলামকেও চ্যালেঞ্জ করে বসে।”

এদিকে সাঈদ নিজের মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করতে গেল। মুজিবুর রহমান একজন বিদ্বান আলেম, যিনি সবসময় তরুণদের সত্য জানার জন্য উৎসাহিত করতেন।

সাঈদ বলল, “স্যার, হুজুরের বয়ান শুনে আমার মনে অনেক প্রশ্ন জেগেছে। আমি কী করব?”

মুজিবুর রহমান বললেন, “সাঈদ, সত্য জানার জন্য সাহস থাকতে হয়। তবে তুমি যেভাবে কথা বলবে, তা যেন সবসময় সম্মানের সঙ্গে হয়। ধর্মের বিষয়ে মানুষের ভুল হতে পারে। তাই আলোচনার মাধ্যমে আমরা সঠিকটা বের করব।”

পরের জুমার নামাজের পর সাঈদ মসজিদে গিয়ে হুজুরের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ চাইল। সবাই অবাক হয়ে তার সাহসের প্রশংসা করল।

হুজুর কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললেন, “সাঈদ, কী বলতে চাও?”

সাঈদ বলল, “হুজুর, আমি জানতে চেয়েছিলাম, আপনি যে হাদিসের কথা বলেছেন, সেটা কি সহিহ হাদিসের ওপর ভিত্তি করে?”

হুজুর বললেন, “তুমি কি সন্দেহ করছ? হাদিস সম্পর্কে জানার জন্য আমার অনেক বছরের অভিজ্ঞতা আছে।”

সাঈদ বিনয়ের সঙ্গে বলল, “হুজুর, আমি কিছু সন্দেহ করি না। তবে জ্ঞানীরা বলেন, কোনো বিষয়ে সন্দেহ হলে তা যাচাই করা উচিত। আমি কেবল আপনার থেকে বিষয়টা আরও ভালোভাবে জানতে চেয়েছিলাম।”

হুজুর কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, “তুমি কি বলতে চাও, আমি ভুল বলেছি?”

সাঈদ বলল, “আমরা সবাই মানুষ, ভুল হতে পারে। ইসলামে প্রশ্ন করার এবং সত্য জানার অধিকার সবার আছে। যদি ভুল কিছু বলা হয়, সেটা শুধরে নেওয়া উচিত।”

সাঈদের এই কথা গ্রামে আলোড়ন সৃষ্টি করল। একদল বলল, “তরুণ ছেলেটা ঠিকই বলেছে। হাদিস নিয়ে ভুল বলা অন্যায়।”

অন্যদল বলল, “এটাই সমস্যা। আজকাল ছোট ছেলেরা বড়দের সম্মান করতে জানে না। ইসলামের শৃঙ্খলা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”

এভাবে গ্রামের মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল।

সাঈদ তার বক্তব্যের প্রমাণ খুঁজতে লাগল। সে বিভিন্ন বই পড়ে, অন্য আলেমদের সঙ্গে কথা বলে। অবশেষে সে বুঝতে পারল, হুজুরের বয়ানটি আসলে একটি দুর্বল হাদিসের ওপর ভিত্তি করে ছিল।

মাদ্রাসার শিক্ষক মুজিবুর রহমান বললেন, “তোমার কাজ এখন প্রমাণসহ সবাইকে বোঝানো। তবে মনে রেখো, সত্য প্রকাশের জন্য ধৈর্য আর শৃঙ্খলা প্রয়োজন।”

গ্রামে আবার বৈঠক হলো। সেখানে বড় আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। সাঈদ তার কথাগুলো দলিলসহ উপস্থাপন করল। সবাই তা শুনে আশ্চর্য হলো।

একজন আলেম বললেন, “সাঈদ, তুমি খুব ভালো কাজ করেছ। আমরা হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা ছাড়া কোনো কথা বলতে পারি না। এতে ধর্মের ক্ষতি হয়।”

হুজুর মাথা নিচু করে বললেন, “আমি না জেনে কথা বলেছি। এটা আমার ভুল। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি।”

সাঈদ বলল, “হুজুর, আপনি যদি ভুল স্বীকার না করতেন, তাহলে ইসলাম নিয়ে ভুল ধারণা ছড়িয়ে যেত। আপনার সাহস আমাদের জন্য একটি শিক্ষা।”

গ্রামের মানুষ বুঝতে পারল, ইসলামের মূল শিক্ষা হলো সত্যকে অনুসরণ করা। সাঈদের উদ্যোগ আর হুজুরের ভুল স্বীকার গ্রামের পরিবেশ বদলে দিল। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল, আর অন্ধ বিশ্বাস নয়, বরং সত্য জানার জন্য সবাই একসঙ্গে কাজ করবে।

এভাবেই সত্যের আলো ছড়িয়ে পড়ল। সাঈদের নাম সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে গেল। সে হয়ে উঠল গ্রামের যুবকদের আদর্শ। তার গল্প শুধু একটি গ্রামের নয়, বরং সমাজের জন্য একটি মূল্যবান শিক্ষা হয়ে রইল।




রেজুয়ান আহম্মেদ: কলামিস্ট, বিশ্লেষক; সম্পাদক অর্থনীতি ডটকম
img

ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করল আমিরাত, বাংলাদেশে কবে?

প্রকাশিত :  ০৭:৩২, ০১ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৪০, ০১ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা ২০২৬ সালের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মে মাসের শেষার্ধে অর্থাৎ আগামী ২৬ মে (মঙ্গলবার) পবিত্র আরাফাত দিবস পালিত হতে পারে। এর ধারাবাহিকতায় ২৭ মে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা।

এদিকে ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার প্রথা অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাধারণত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একদিন পর ঈদ পালন করা হয়। সেই আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও সময়ের পার্থক্য বিবেচনা করলে, যদি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৭ মে ঈদুল আজহা পালিত হয়, তবে বাংলাদেশে ২৮ মে বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মিল রেখে সৌদি, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ওমান—এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই একই তারিখে ঈদ উদযাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, মুসলমানদের দ্বিতীয় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র হজরত ইসমাইলের (আ.) সঙ্গে সম্পর্কিত। হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশে কুরবানি করতে গিয়েছিলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে এই আদেশ ছিল হজরত ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা। তিনি পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশে জবাই করার সব প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। নিজের চোখ বেঁধে পুত্র ইসমাইলকে ভেবে যখন জবেহ সম্পন্ন করেন তখন চোখ খুলে দেখেন ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কুরবানি হয়েছে, যা এসেছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে। সেই মোতাবেক প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কুরবানি করা ওয়াজিব। ইসলামে কুরবানি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। 

সূত্র: গালফ নিউজ