কানাডার নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলির হ্যাটট্রিক
প্রকাশিত :
১৬:৩১, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম কানাডার প্রাদেশিক নির্বাচনে তৃতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টরন্টোর স্কারবরো সাউথওয়েস্ট নির্বাচনী আসন থেকে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপির প্রার্থীতায় ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।
নির্বাচনে জয়লাভের পর ডলি বেগম বলেন, এ জয় পুরো দল এবং স্কারবোরোর জন্য। আমি আপনাদের প্রত্যেকের কাছে কৃতজ্ঞ যারা পুরো নির্বাচনজুড়ে কঠিন লড়াইয়ে পাশে ছিলেন।
অন্টারিও নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য ডলি বেগম এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রাদেশিক আইনপ্রণেতার দায়িত্ব নিচ্ছেন। ২০১৮ সালে প্রথমবার প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।
ডলি বেগম মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনূমূখ ইউনিয়নের সন্তান। পরিবারের সঙ্গে শৈশবে তিনি কানাডায় পাড়ি জমান। তার বেড়ে ওঠা অন্টারিওর স্কারবোরোতে। পরবর্তীতে টরন্টোর ডব্লিউ এ পোর্টার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন। তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে উন্নয়ন, প্রশাসন ও পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।
বিশ্বজুড়ে শিশুদের জীবন রক্ষাকারী অস্ত্রোপচারের সুযোগ করে দিচ্ছে এডিনবার্গের দাতব্য সংস্থা: ফয়ছল চৌধুরী এমবিই
প্রকাশিত :
০৬:৪৭, ১৫ মার্চ ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৫৮, ১৫ মার্চ ২০২৬
স্কটিশ পার্লামেন্ট সদস্য ফয়ছল চৌধুরী এমবিই (MSP) স্কটিশ চ্যারিটি কিডস অপারেটিং রুম (KidsOR)-এর অগ্রণী কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সম্প্রতি তিনি সংস্থাটির এডিনবার্গের অফিস পরিদর্শন করেন এবং বিশ্বজুড়ে শিশুদের জন্য নিরাপদ অস্ত্রোপচারের সুযোগ তৈরিতে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন।
পরিদর্শনকালে জনাব চৌধুরী প্রজেক্ট ম্যানেজার ক্রিস্টিনা এ. রাইকোভস্কা এবং কিডসওআর (KidsOR) টিমের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বিশ্বব্যাপী শিশুদের সার্জিক্যাল কেয়ারের জরুরি প্রয়োজনীয়তা এবং এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্কটল্যান্ড যে ভূমিকা পালন করছে সে সম্পর্কে আলোচনা করেন। বর্তমানে লক্ষ লক্ষ শিশু প্রয়োজনীয় সাধারণ অস্ত্রোপচারের সুযোগ পায় না, যার ফলে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু বা আজীবন পঙ্গুত্বের শিকার হতে হচ্ছে।
২০১৮ সালে স্কটিশ সমাজসেবী গ্যারেথ এবং নিকোলা উড কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কিডসওআর (KidsOR) হলো বিশ্বের একমাত্র স্বাস্থ্যবিষয়ক দাতব্য সংস্থা যা একচেটিয়াভাবে শিশুদের অস্ত্রোপচারের জন্য কাজ করে। স্কটল্যান্ড ভিত্তিক এই সংস্থাটি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে শিশু-বান্ধব অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করে, স্থানীয় সার্জিক্যাল টিমকে প্রশিক্ষণ দেয় এবং বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের সহায়তা করে, যাতে শিশুরা তাদের বাড়ির কাছেই নিরাপদ ও সঠিক সময়ে চিকিৎসা সেবা পেতে পারে।
এ পর্যন্ত কিডসওআর-এর কার্যক্রম ৩৮টি দেশে বিস্তৃত হয়েছে। আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে ১২৫টি বিশেষায়িত শিশু অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করেছে তারা। এর মাধ্যমে ৭ লক্ষ ৮০ হাজারেরও বেশি অস্ত্রোপচারের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, যা না হলে এই শিশুদের জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হতো। স্বতন্ত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই দাতব্য সংস্থার কাজ ইতোমধ্যে লক্ষ লক্ষ বছরের পঙ্গুত্ব রোধ করেছে এবং অংশীদার দেশগুলোর জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন পাউন্ডের অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করেছে।
স্কটল্যান্ডে এডিনবার্গের অফিস এবং গ্লাসগো সদর দপ্তরের পাশাপাশি ডান্ডিতে কিডসওআর-এর একটি 'গ্লোবাল অপারেশন সেন্টার' রয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ দল বিদেশের হাসপাতালগুলোর জন্য অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম প্রস্তুত ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। এই নেপথ্য সুবিধাই নিশ্চিত করে যে, বিদেশে পাঠানো প্রতিটি অপারেটিং রুম ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকে, যেখানে শিশুদের উপযোগী অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম থেকে শুরু করে ছোট রোগীদের ভয় কাটাতে রঙিন ও আশ্বস্ত করার মতো নকশাও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
কিডসওআর-এর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো শক্তিশালী ও স্বনির্ভর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে এক সময় বাহ্যিক সাহায্যের আর প্রয়োজন না পড়ে। তারা চায় প্রতিটি দেশের নিজস্ব অবকাঠামো এবং বিশেষজ্ঞ থাকুক যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের শিশুদের যত্ন নিতে পারে। স্বল্পমেয়াদী সফরের পরিবর্তে, এই সংস্থাটি স্থায়ী অপারেটিং রুম তৈরি এবং স্কলারশিপ ও বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় সার্জনদের দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়।
ফয়ছল চৌধুরী এমএসপি বলেন, "কিডস অপারেটিং রুম পরিদর্শন করা এবং বিশ্বজুড়ে এই স্কটিশ দাতব্য সংস্থার অবিশ্বাস্য প্রভাব স্বচক্ষে দেখাটা ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক। শুধুমাত্র কোথায় জন্ম নিয়েছে, সেই কারণে কোনো শিশুর জীবন রক্ষাকারী অস্ত্রোপচার থেকে বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়। তাদের কাজ প্রমাণ করে যে স্কটল্যান্ডের দক্ষতা এবং প্রতিশ্রুতি কীভাবে শিশুদের বেড়ে উঠতে, বিকশিত হতে এবং তাদের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে সাহায্য করছে।"