img

সিলেটে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটাল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, ৩১ মোটরসাইকেল ভাঙচুর!

প্রকাশিত :  ০৬:৫২, ১২ এপ্রিল ২০২৫

 সিলেটে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটাল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, ৩১ মোটরসাইকেল ভাঙচুর!

মোটরসাইকেল পার্কিংকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব আজিজুল হক আজিজের ওপর হামলা হয়েছে। হামলায় তাকেসহ তিনজনকে গুরুতর আহত করেছে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা দিপু। এ ঘটনার বদলা নিতে দিপুর বাসায় হামলা চালাতে গিয়ে এলাকাবাসীর ধাওয়ার শিকার হয় আজিজের অনুসারীরা। এ সময় তাদের ফেলে আসা ৩১টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে সিলেট ল কলেজের সামনে মোটরসাইকেল পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব আজিজুল হক আজিজের সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মী অপুর বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর দিপু লোকজন নিয়ে আজিজের ওপর হামলা চালায়। তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আজিজের মাথায় আঘাত করে।

এ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় আজিজকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মাথায় ১৮টি সেলাই লাগে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। 

ছাত্রলীগ নেতা দিপু আওয়ামী লীগ নেতা বিধান কুমার সাহার গ্রুপের অনুসারী। এ ঘটনার খবর পেয়ে যুবদল নেতা কয়েসসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি মোটরসাইকেল নিয়ে মাছিমপুর গিয়ে দিপুর বাসায় হামলা চালায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা।

এ সময় এলাকাবাসী জড়ো হয়ে তাদের ঘিরে ফেললে তারা সেখানে ৩১টি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। এ সময় এলাকাবাসী সব কটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। 

এ খবর পেয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নগরের উপশহর পয়েন্টে রোজভিউ হোটেলের সামনে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় তাদের শান্ত করতে সেখানে যান সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, শামীম আহমদসহ অন্য বিএনপি নেতারা। কয়েস লোদী যখন তাদের শান্ত করার চেষ্টা করছেন এ সময় সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে এলে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।

পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মিলে মাছিমপুরে ঘটনাস্থলে যায়। পরে ভাঙচুরের শিকার ৩১টি মোটরসাইকেল পিকআপে পুলিশ লাইনে পাঠায় সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

ঘটনাস্থলে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।’ তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যায় হামলার প্রথম ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব আজিজসহ তিনজন আহত হন। তিনি আহত হওয়ার পর তার গ্রুপ সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা করে। পরে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে তাদের প্রতিহত করেন।’

img

শ্রীমঙ্গলে ইতিহাসের নতুন দিগন্ত: দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের ব্যতিক্রমী পূজা

প্রকাশিত :  ০৪:২১, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: চায়ের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল এবার সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী ধর্মীয়–সাংস্কৃতিক আয়োজনের। শ্রীমঙ্গল উপজেলার সবুজবাগ গোসাইবাড়ি রোড সংলগ্ন লালবাগ যুব কিশোর সংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের পূজা—যা এশিয়া মহাদেশে এই প্রথম। একই পূজামণ্ডপে দেবী সরস্বতীর ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন রূপ এবং মূল প্রতিমাসহ মোট ১৭টি মূর্তি নির্মাণ করে পূজা করা হয়েছে।

এই আয়োজন কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শিল্প ও দর্শনের এক জীবন্ত প্রদর্শনী। প্রতিটি রূপে দেবী সরস্বতী আবির্ভূত হয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ও ব্যঞ্জনায়। কোথাও তিনি জ্ঞানের আলোকবর্তিকা, কোথাও অজ্ঞতা বিনাশী শক্তি, আবার কোথাও সৃজনশীলতা, সংগীত ও মানবিক চেতনার প্রতীক।

গৌরী রূপে দেবী সরস্বতী জ্ঞান, মেধা ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে মানবচেতনাকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করেছেন। মানবী রূপে তিনি মানবজাতির কল্যাণ ও প্রজ্ঞাবৃদ্ধির বার্তা বহন করেন। মানসী রূপে মন, চেতনা ও বিবেক আলোকিত করেন, আর মহাকালী ও কালী রূপে অজ্ঞতা ও অসত্য ধ্বংসের শক্তিকে প্রতিফলিত করেন।

বজ্রশৃঙ্খলা রূপে দেবী অজ্ঞতার শৃঙ্খল ভেঙে জ্ঞানকে অপরাজেয় শক্তিতে রূপ দেন। কুলি শাঙ্কুশা রূপে বিদ্যা, বুদ্ধি ও সংযমের শিক্ষা দেন। মহামানব, প্রজ্ঞপ্তী ও চকেশ্বরী রূপে সত্য–অসত্যের পার্থক্য অনুধাবন, নৈতিকতা ও শক্তির সমন্বয়ের দর্শন ফুটে ওঠে।

পুরুষ দত্তা ভারতীয়, বৈরাট্যা, মোহিনী ও গান্ধারী রূপে ভাষা, বাগ্মী শক্তি, সৃজনশীলতা ও সংগীতকলার বিকাশের প্রতীক হয়ে উঠেছেন দেবী সরস্বতী। সর্বশেষ আচ্ছুপ্তা রূপে তিনি মায়া ও অজ্ঞতা দূর করে মানবচেতনাকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টির আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন।

নিপুণ কারুকাজ, রঙের নান্দনিক ব্যবহার এবং প্রতিটি প্রতিমার ভাবনাগত গভীরতা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে। প্রতিটি মূর্তি যেন আলাদা আলাদা গল্প বলে—মানুষের মন, বিবেক ও বুদ্ধির গভীরে আলো জ্বালানোর গল্প।
লালবাগ যুব কিশোর সংঘের সভাপতি কৌশিক দত্ত ও উপদেষ্টা প্রান্ত মিশ্র জানান, “এশিয়া মহাদেশে এই প্রথম দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের এমন পূর্ণাঙ্গ আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। আমাদের লক্ষ্য ছিল দেবী সরস্বতীকে কেবল বিদ্যার দেবী হিসেবে নয়, বরং মানবচেতনার সর্বাঙ্গীণ বিকাশের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা।”
সকাল থেকেই পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে, এই ব্যতিক্রমী আয়োজন কতটা হৃদয় ছুঁয়ে গেছে সাধারণ মানুষের।

শ্রীমঙ্গলের এই অনন্য উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ধর্মীয় উৎসবের গণ্ডি পেরিয়ে জ্ঞান, শিল্প ও মানবিক চেতনার এক স্মরণীয় মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর