জম্মু কাশ্মীরে ব্ল্যাকআউট

img

পাকিস্তানের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠল ভারত

প্রকাশিত :  ১৭:১৮, ০৮ মে ২০২৫

পাকিস্তানের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠল ভারত

এবার পাল্টা হামলা শুরু করেছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার রাতে পর পর বিস্ফোরণের কেঁপে উঠেছে ভারত। আখনুর, সাম্বার মতো জায়গায় বাজছে সাইরেন। আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে একাধিক রকেটে উড়ে এসেছে ভারত সীমানায়। ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পাকিস্তানি হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয় করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের মোট ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ভারত ধ্বংস করেছে। পাক হামলার নিশানায় ছিল মূলত জম্মু কাশ্মীরের বিমানবন্দর, সাম্বা, আরএস পুরা, আরিনাসংলগ্ন এলাকা।

খবরে বলা হয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ দিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আটকানো হয়েছে। পাশাপাশি জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে দুটি পাকিস্তানি ড্রোনগুলো করে ভূপাতিত করা হয়েছে। জম্মু শহরে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জম্মু বিমানবন্দর, পাঠানকোটের বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে সাইরেন বাজছে। সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে বারামুলা, কুপওয়ারার মতো এলাকাতেও।

এ ছাড়া শহরের নানা প্রান্ত থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শুধু জম্মু নয়, সীমান্ত সংলগ্ন পঞ্জাবের বিভিন্ন অংশও ‘ব্ল্যাকআউট’ অর্থাৎ আলো নিভিয়ে রেখেছে ভারত। পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরের ডেপুটি কমিশনার আশিকা জৈন জানিয়েছেন, ভারতীয় বিমানবাহিনীর নির্দেশে শহরে ‘ব্ল্যাকআউট’ করা হয়েছে।

প্রশাসন বলছে, পরবর্তী নির্দেশ না- দেওয়া পর্যন্ত এই ‘ব্ল্যাকআউট’ চলবে। পাকিস্তানের ভয়ে অমৃতসরও ‘ব্ল্যাকআউট’ করে রেখেছে ভারত।

এর আগে বৃহষ্পতিবার সন্ধায় ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার দাবি করেছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের পাঞ্জাব ও গুজরাট, জম্মু-কাশ্মীরসহ দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১৫টি শহরে সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার জানায়, পাকিস্তানের এই হামলার জবাবে ভারত পাল্টা আক্রমণে লাহোরসহ একাধিক শহরের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানি আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ও অন্যান্য ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এবং পাকিস্তানের একাধিক স্থানের সামরিক স্থাপনা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে ভারতীয় সামরিক বাহিনী।

ভারতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পাকিস্তান থেকে আসা হামলার জবাবে শ্রীনগর, পাঠানকোট, অমৃতসর, লুধিয়ানা, চণ্ডীগড়সহ একাধিক শহরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে এসব হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের সঙ্গে চুক্তি বিষয়ে ৬ মুসলিম দেশকে কঠিন শর্ত দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৭:৫৯, ২৬ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:০৭, ২৬ মে ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আলোচনায় বিতর্কিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের প্রসঙ্গ টেনেছেন। ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের একটি ‘জটিল সংকটের’ সমাধান করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তত ছয়টি মুসলিম দেশের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করা উচিত।

আজ সোমবার (২৫ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এই শর্তের কথা জানিয়েছেন। 

ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে। এটি সবার জন্যই একটি ভালো চুক্তি হবে, না হলে কোনো চুক্তিই হবে না।’ 

একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি সমঝোতা না হয়, তাহলে আগের চেয়ে আরও বড় ও শক্তিশালীভাবে যুদ্ধের পথে ফিরতে হবে।’

এর আগে, শনিবার (২৩ মে) মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম-প্রধান আটটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের মতো জটিল সংকটের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র যে ভূমিকা রেখেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এসব দেশের একযোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করা উচিত।’

তিনি বিশেষভাবে সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও জর্ডানের নাম উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জানান, আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইতোমধ্য এই চুক্তির সদস্য।

তবে দীর্ঘ ওই পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি ইসরাইলের নাম নেননি। ফলে তিনি প্রচলিত অর্থে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের কথা বলেছেন, নাকি আরও বড় কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন—তা এখনো পরিষ্কার নয়। 

উল্লেখ্য, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে কয়েকটি আরব দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটি সৌদি আরব ও কাতারের দ্রুত স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া উচিত। এরপর অন্য দেশগুলোরও এগিয়ে আসা উচিত। কেউ যদি এতে অংশ নিতে না চায়, তাহলে সেটি খারাপ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত হতে পারে।’

তিনি যোগ করেন, ‘এক বা দুটি দেশের অংশ না নেওয়ার যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে, সেটি গ্রহণযোগ্য। তবে বেশিরভাগ দেশেরই প্রস্তুত, আগ্রহী ও সক্ষম থাকা উচিত, যাতে ইরানের সঙ্গে এই সমঝোতা একটি ঐতিহাসিক ঘটনায় পরিণত হয়।’

তবে ট্রাম্প যে ছয়টি দেশের নাম উল্লেখ করেছেন, তাদের কেউই এখন পর্যন্ত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান জানায়নি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর