img

মহাসড়কে ২শ সিলিন্ডারসহ উল্টে গেল ট্রাক, একের পর এক বিস্ফোরণ

প্রকাশিত :  ০৭:২৪, ০৪ জুন ২০২৫

মহাসড়কে ২শ সিলিন্ডারসহ উল্টে গেল ট্রাক, একের পর এক বিস্ফোরণ

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে দুই শতাধিক গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই একটি ট্রাক উল্টে সড়কে বিস্ফোরিত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

আজ বুধবার (৪ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। যদিও ঘটনাস্থলে ব্যাপক আগুন, ভয়ানক শব্দ ও ধোঁয়ার কারণে চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল।

জানা গেছে, ঢাকার শাহবাগ থেকে ছেড়ে আসা সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মধ্যপাড়ার বর্ডার বাজারের দিকে যাচ্ছিল। পথে শহর বাইপাসের বিরাসার এলাকায় বড় একটি গর্তে চাকা পড়ে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

সামনে থাকা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে সংঘর্ষে মুহূর্তেই ট্রাকটিতে আগুন ধরে যায় এবং দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে ট্রাকের সিলিন্ডারগুলোর মধ্যে। কিছুক্ষণের ব্যবধানে ট্রাক ভর্তি সিলিন্ডারে আগুন ধরে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের ঘুমন্ত মানুষ আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। বহু দূর থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক নিউটন দাস বলেন, সম্ভবত প্রাইভেটকারের ইঞ্জিন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, যা পরে ট্রাকের সিলিন্ডারে ছড়িয়ে পড়ে। ট্রাকে থাকা সব সিলিন্ডারই বিস্ফোরিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মহাসড়কের দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা অবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। বৃষ্টির কারণে গর্তে পানি জমে থাকায় ট্রাকের চাকা গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়।

অটোরিকশাচালক মাহাবুব রহমান সাকিব বলেন, এই রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। এত বড় গর্তে না পড়লে এমন দুর্ঘটনা হতো না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, “দুর্ঘটনার পর দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করে। সকাল ৯টা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলেছে। কেউ হতাহত না হলেও সড়কে বিশাল যানজট তৈরি হয়েছিল।”

ঘটনার পর শহরের ভেতর দিয়ে বিকল্প রুটে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

এখনও মেলেনি ভারতে ইলিশ রপ্তানির ছাড়পত্র

প্রকাশিত :  ০৬:২০, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার। এর আগে আজ বৃহস্পতিবার থেকে ২২ দিনের জন্য সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সময়ে ইলিশ মাছ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।

তবে এখনো বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আগের বছরগুলোতে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও এবার এখন পর্যন্ত কোনো ছাড়পত্র মেলেনি। ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করে আসছে বাংলাদেশ।

গত আগস্ট মাসে ইলিশ মাছ আমদানির জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি পাঠায় পশ্চিমবঙ্গ মাছ আমদানিকারক সমিতি। একই সময়ে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামতের জন্য চিঠি পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চিঠিতে ভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানির অনুমতির বিষয়ে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও এ বছর ইলিশ মাছের উৎপাদন পর্যালোচনা করে মতামত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। 

জানতে চাইলে গতকাল বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, তাঁর মন্ত্রণালয় থেকে মতামত দেওয়ার বিষয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত নন। ২২ দিনের জন্য ইলিশ আহরণ ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ অবস্থায় ইলিশ রপ্তানির সুযোগ থাকবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি বৃহস্পতিবার অফিসে গিয়ে তিনি খোঁজ নেবেন।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত ছাড়া ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন বা নাকচ করার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখা সূত্র জানিয়েছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত পাওয়ার পর রপ্তানির অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। 

এরপর তা আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে (সিসিআইই) পাঠানো হবে। ফলে হাতে যে সময় আছে, তাতে এ বছর পূজায় ভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানি সম্ভব হবে না বলে মনে হচ্ছে।

জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ত্রিপুরা ও আসামেও বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেখানকার মানুষ চড়া দামে হলেও ইলিশ কেনার জন্য মুখিয়ে থাকেন। পদ্মার ইলিশ বিক্রিতেও মাছ ব্যবসায়ীদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের পর থেকে প্রতি বছর গড়ে পাঁচ হাজার টন ইলিশ বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়। কিন্তু ২০১২ সালে ইলিশ মাছ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় সরকার। পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকার কেবল দুর্গাপূজার সময় নির্দিষ্ট এক মাসের জন্য ইলিশ মাছ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিয়ে আসছে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদনের বিপরীতে পুরোটাই ভারতে রপ্তানি হয়েছে। পরের বছর এক হাজার ৮৫০ টন রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সবগুলোই রপ্তানি হয়েছে। ২০২১ সালে চার হাজার ৬০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ২০০ টন। ২০২২ সালে দুই হাজার ৯০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল; রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৩০০ টন। ২০২৩ সালে তিন হাজার ৯৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ, রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৩০০ টন। ২০২৫ সালে দুই হাজার ৪২০ টন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, আর রপ্তানি 

হয়েছে ৫৭৭ টন। সর্বশেষ গত বছর এক হাজার ২০০ টন অনুমোদনের বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১৫০ টন।


বাংলাদেশ এর আরও খবর