ইসরায়েলের বন্দরনগরী হাইফা তেল আবিবে ও নেগেভ বিমান ঘাঁটিতে আঘাত করেছে ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। ইসরায়েলি উদ্ধারকারী সংস্থা জাকা জানিয়েছে, সেখানকার একটি ভবন মিসাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রোববার (১৫ জুন) রাতে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে কয়েক ডজন মিসাইল ছোড়ে ইরান। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদুলু এজেন্সির এক ভিডিওতে শহরে বিস্ফোরণের দৃশ্য ধরা পড়ে। এতে হাইফার আকাশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এ ছাড়া বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ক্যামেরায় হাইফা শহরে বিস্ফোরণের দৃশ্য ধরা পড়ে।
ইসরায়েলি জাতীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, হাইফায় ইরানের মিসাইলের আঘাতে অন্তত চারজন আহত হয়েছে। তবে এখন হতাহতের সংখ্যা নিরূপণ করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি ফায়ার ও রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, একটি ভবনে সরাসরি মিসাইল আঘাত হানার খবর পেয়েছে তারা। এটি একটি আবাসিক ভবন। তাদের উদ্ধারকারীরা এখন ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চুক্তি বিষয়ে ৬ মুসলিম দেশকে কঠিন শর্ত দিলেন ট্রাম্প
প্রকাশিত :
০৭:৫৯, ২৬ মে ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ০৮:০৭, ২৬ মে ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আলোচনায় বিতর্কিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের প্রসঙ্গ টেনেছেন। ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের একটি ‘জটিল সংকটের’ সমাধান করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তত ছয়টি মুসলিম দেশের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করা উচিত।
আজ সোমবার (২৫ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এই শর্তের কথা জানিয়েছেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে। এটি সবার জন্যই একটি ভালো চুক্তি হবে, না হলে কোনো চুক্তিই হবে না।’
একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি সমঝোতা না হয়, তাহলে আগের চেয়ে আরও বড় ও শক্তিশালীভাবে যুদ্ধের পথে ফিরতে হবে।’
এর আগে, শনিবার (২৩ মে) মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম-প্রধান আটটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের মতো জটিল সংকটের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র যে ভূমিকা রেখেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এসব দেশের একযোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করা উচিত।’
তিনি বিশেষভাবে সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও জর্ডানের নাম উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জানান, আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইতোমধ্য এই চুক্তির সদস্য।
তবে দীর্ঘ ওই পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি ইসরাইলের নাম নেননি। ফলে তিনি প্রচলিত অর্থে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের কথা বলেছেন, নাকি আরও বড় কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন—তা এখনো পরিষ্কার নয়।
উল্লেখ্য, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে কয়েকটি আরব দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটি সৌদি আরব ও কাতারের দ্রুত স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া উচিত। এরপর অন্য দেশগুলোরও এগিয়ে আসা উচিত। কেউ যদি এতে অংশ নিতে না চায়, তাহলে সেটি খারাপ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত হতে পারে।’
তিনি যোগ করেন, ‘এক বা দুটি দেশের অংশ না নেওয়ার যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে, সেটি গ্রহণযোগ্য। তবে বেশিরভাগ দেশেরই প্রস্তুত, আগ্রহী ও সক্ষম থাকা উচিত, যাতে ইরানের সঙ্গে এই সমঝোতা একটি ঐতিহাসিক ঘটনায় পরিণত হয়।’
তবে ট্রাম্প যে ছয়টি দেশের নাম উল্লেখ করেছেন, তাদের কেউই এখন পর্যন্ত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান জানায়নি।