সারা বিশ্বে মেয়েদের খেলাধুলায় বিনিয়োগ করবেন পাকিস্তানের নোবেলজয়ী সমাজকর্মী মালালা ইউসুফজাই । তার স্বামী আসের মালিক মালালার এই নতুন উদ্যোগে যুক্ত হবেন। খবর ডন পত্রিকার।
সিএনএনের সঙ্গে মালালার একটি সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি দিয়ে ডন জানায়, সোয়াতে নিজের স্কুল-জীবনে খেলায় মেয়েদের অংশ নেওয়ার সীমিত সুযোগ তাকে পীড়িত করত।
তিনি বলেন, ‘স্কুলে দেখেছি টিফিনের সময় ছেলেরা মাঠে যেত ক্রিকেট খেলতে। আর মেয়েরা ক্লাসে বসে থাকত।’ মালালা যোগ করেন, ‘তখনই বুঝতে পারি যে, ক্রীড়ায় মেয়েদের সুযোগ পাওয়াটা সহজ নয়।’
মালালার অভিমত, মেয়েদের খেলায় পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। এতে তাদের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। তাই স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে মেয়েদের খেলায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করতে এই খাতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তানের নোবেলজয়ী সমাজকর্মী। মালালা মেয়েদের ক্রীড়ামনস্ক করে তুলতে অন্যদেরও এই খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
ফুটবলে অ্যালকোহল স্পন্সরশিপ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে মিসরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল-শেনাওয়ি ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে অ্যালকোহল ব্র্যান্ড-সম্পৃক্ত ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।
যে কারণে এবারের বিশ্বকাপে মুসলিম ফুটবলারদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ফিফা)। এই পরিবর্তন আসলে আনা হয়েছে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পুরস্কার দেওয়ার সময়।
এবারের বিশ্বকাপে অনলাইনে ভোট দিয়ে সমর্থকরাই প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচন করছেন। এই পুরস্কার দেওয়াতে ফিফাকে সহায়তা করছে মাইকেল আলট্রা নামে একটি ব্র্যান্ড।
সাধারণত, ম্যাচ সেরার পুরস্কার নেওয়ার সময় পুরস্কারজয়ী ফুটবলার ট্রফি হাতে স্পন্সরের নামের ব্যাকড্রপের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। তাদের ট্রফিতেও থাকে স্পন্সরের নাম। পরে সেই ছবি ফিফা নিজেদের সমাজমাধ্যমে আপলোড করে।
এবার একটি ছোট্ট পরিবর্তন আনা হয়েছে- এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান নিয়ে। এর পেছনে রয়েছে একটি ধর্মীয় কারণ। এ জন্যই ফিফা মূলত মুসলিম প্লেয়ারদের জন্য এই পরিবর্তন করেছে। যেহেতু এই ব্র্যান্ড একটি মাদক ব্র্যান্ড এবং ইসলাম ধর্মে মদ্যপান নিষিদ্ধ, তাই এই পরিবর্তন ফিফার।
মুসলিম প্রধান দেশে মদপান নিয়ে কড়া আইন রয়েছে। তাই কোনও মুসলিম ফুটবলার যদি ম্যাচের সেরা হন, তার পুরস্কারের ব্যাকড্রপ থেকে ওই কোম্পানির নাম সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই এই নিয়ম প্রয়োগ হয়েছে কানাডার ইসমাইল কোনে, কাতারের মাহমুদ আবুনাদা, ইসমাইল সাইবাড়িদের উপর। মুসলিম ফুটবলরদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে কোম্পানির নাম দেখানোর পরিবর্তে ব্যাকড্রপে শুধু লেখা Superior player of the match ও তার সঙ্গে ফিফা বিশ্বকাপের লোগো রাখা হচ্ছে। ট্রফির নকশা একই থাকছে। সরে যাচ্ছে মদ কোম্পানির নাম।
২০২২ সালে কিলিয়ান এমবাপ্পে ম্যাচের সেরা হওয়ার পর এই পুরস্কারে মদ প্রস্তুতকারক সংস্থার লোগোতে হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। কারণ, তিনি কোনও মদ বা জুয়া সংস্থার হয়ে কোনও বিজ্ঞাপন প্রচার করবেন না। এমনকি ঘরোয়া ফুটবলেও এখন অনেক নিয়ম বদল হয়েছে।
এখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রেই শ্যাম্পেনের বদলে নন অ্যালকোহলিক শ্যাম্পেন ব্যবহার করা হয়। তবে ফিফার এই নিয়ম ইতিমধ্যেই প্রশংসা পাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।