img

শাহবাজপুর ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউকে’র নতুন কমিটি গঠিত

প্রকাশিত :  ০৯:৪২, ০৩ জুলাই ২০২৫

মোমিতুর রাজা চৌধুরী সভাপতি, মোহাম্মদ রহিম সেক্রেটারি, ব্যারিস্টার সালাহ উদ্দিন সুমন ট্রেজারার

শাহবাজপুর ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউকে’র নতুন কমিটি গঠিত

শাহবাজপুর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে । গত ২৪ জুন মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে এই সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব এ কে এম আবু তাহের চৌধুরী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিদায়ী সভাপতির স্বাগত বক্তব্য, সাধারণ সম্পাদকের বার্ষিক প্রতিবেদন, ট্রেজারারের আর্থিক রিপোর্ট উপস্থাপন ও প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে কমিটির কার্যক্রম বিলুপ্ত ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশনারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। সাধারণ সদস্যদের সম্মতিক্রমে নির্বাচনের পরিবর্তে প্রস্তাবের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সংগঠনের পেট্রন মনজুর রাজা চৌধুরী নির্বাচন কমিশনার বরাবরে নতুন কমিটিতে মোমিতুর রাজা চৌধুরীকে সভাপতি, মোহাম্মদ রহিমকে জেনারেল সেক্রেটারী ও ব্যারিস্টার সালাহ উদ্দিন সুমনকে ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব দেন । নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে তাঁদেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করে অবিলম্বে পূর্ণ কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেন । নব নির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দ যুক্তরাজ্যস্থ শাহবাজপুরবাসীকে একসাথে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের নিয়ে ২০০২ সালে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা লাভ করে । প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ২৩ বছর এলাকার শিক্ষা, চিকিৎসা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ বহুমুখী কার্যক্রমে ভুমিকা রেখে আসছে।

নব নির্বাচিত সভাপতি মোমিতুর রাজা চৌধুরী এঙ্গলিয়া রাসকিন ইউনির্ভাসিটির সিনিয়র লেকচারার, জেনারেল সেক্রেটারি মুহাম্মদ রহিম ব্যাংক এশিয়া এক্সচেঞ্জ ইউকে\'র হেড অব অপারেশন্স ও ট্রেজারার ব্যারিস্টার সালাহ উদ্দিন সুমন পূর্ব লন্ডনের খ্যাতনামা ল’ম্যাটিক সলিসিটর্স ফার্মের পার্টনার হিসেবে সুনামের সাথে আইনপেশায় জড়িত রয়েছেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

৪৫১ পরিবারের হাতে যাকাতের অর্থ তুলে দিল আরডিএফ গ্লোবাল

প্রকাশিত :  ০০:২১, ২৬ মে ২০২৬

সিলেট ও জগন্নাথপুর, ২৫ মে ২০২৬: তিন মাস ধরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে অসহায় মানুষদের খুঁজে বের করেছেন তাঁরা। তারপর সরাসরি তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন যাকাতের অর্থ। রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরডিএফ) গ্লোবালের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে সিলেটের চা বাগান এলাকা এবং জগন্নাথপুর উপজেলায় মোট ৪৫১টি পরিবারের হাতে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ মে সিলেটের বুরজান, কালাগুল, চোরাগাং ও খাদিম চা বাগান এলাকায় প্রথম পর্বের বিতরণ সম্পন্ন হয়। সেদিন ২৩১টি পরিবারের ১২৫ জন পুরুষ ও ১০৬ জন নারী সদস্য এই সহায়তা পান। পরদিন ২৫ মে জগন্নাথপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে দ্বিতীয় পর্বে আরও ২২০টি পরিবারের মধ্যে অর্থ বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে ছিলেন ১৩০ জন পুরুষ ও ৯০ জন নারী।


আরডিএফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দুটি দলের তিন মাসের নিরলস পরিশ্রম। দলের সদস্যরা একে একে প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় গেছেন, তাদের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র নিজের চোখে দেখেছেন এবং সত্যিকারের অসহায়দের তালিকা তৈরি করেছেন। পণ্যের বদলে নগদ অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্তও সুচিন্তিত। কারণ প্রতিটি পরিবারের সংকট আলাদা - কেউ খাবারের কষ্টে, কেউ ওষুধের অভাবে, কেউ আবার ঋণের চাপে দিশেহারা। নগদ অর্থ তাদের নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেয় এবং তাদের মর্যাদাকে সম্মান জানায়।

সিলেটের এই চা বাগান অঞ্চলের শ্রমিকদের দুর্দশা দীর্ঘদিনের। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেঁচে থাকা এই মানুষগুলোর দৈনিক মজুরি মাত্র ১৭৭ টাকা, অর্থাৎ ব্রিটিশ মুদ্রায় এক পাউন্ডেরও কম। এই সামান্য আয়ে একটি পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়াই কঠিন, অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো তো সুদূরপরাহত।


কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন আরডিএফের চেয়ারম্যান তালহা চৌধুরী, কান্ট্রি ম্যানেজার আব্দুন নূর, আরডিএফ একাডেমির অধ্যক্ষ ও প্রজেক্ট অফিসার রাইয়ান আহমেদ এবং প্রজেক্ট অফিসার হানিফ আহমেদ ও মাসুম চৌধুরী। তাঁদের পাশে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন আল আমিন, সুমন, সুজন, সামাদ, হেলাল, সুমান, জামিল, রাশেদ, মোস্তফা ও নুফায়েলসহ একদল স্বেচ্ছাসেবী।


\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

আরডিএফ গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জুবের চৌধুরী বলেন, \"শুধু অর্থ বিতরণ করাই আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা চাই মানুষ তার নিজের মর্যাদা নিয়ে বাঁচুক। তাই প্রতিটি পরিবারকে আমরা সরাসরি নগদ অর্থ দিয়েছি, যাতে তারা নিজেরাই ঠিক করতে পারেন কোথায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এই যাকাত শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি একটি বিশ্বাসের সম্পর্ক - দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে।\"

তিনি আরও বলেন, \"যাঁরা তাঁদের যাকাত আরডিএফের হাতে আমানত হিসেবে তুলে দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের আস্থাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আর যে স্বেচ্ছাসেবীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই মাঠে নেমে এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানবতা এখনও জীবিত। আল্লাহ তাঁদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন।\"

কমিউনিটি এর আরও খবর