img

ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ ফিলিস্তিনি নিহত

প্রকাশিত :  ১০:০৫, ০৩ জুলাই ২০২৫

ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ ফিলিস্তিনি নিহত

আজ বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় ভোর থেকে গাজায় অন্তত ৭৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৩ জন ছিলেন সাহায্যের সন্ধানে আসা সাধারণ মানুষ। মাঠপর্যায়ের চিকিৎসা সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, গাজার দক্ষিণ শহর খান ইউনুসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় ১৩ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দম্পতি ও তাদের চার সন্তান ছিলেন।

এছাড়া গাজা শহরের পশ্চিমে অবস্থিত বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্র মুস্তাফা হাফেজ স্কুলে হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, গাজা শহরের পশ্চিমে নাবুলসি রাউন্ডঅ্যাবাউটের কাছে সাহায্য নিতে আসা লোকদের ওপর হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত ও ১০০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া গাজার উত্তরের শহর বেইত লাহিয়ায় আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন।

গাজা সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

 গাজার চিকিৎসা সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, বিতর্কিত ইসরায়েলি ও মার্কিন-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ত্রাণ কেন্দ্রগুলোতে বিনা উস্কানিতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত শত শত নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা হচ্ছে

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের পরমাণু স্থাপনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল সিএনএন

প্রকাশিত :  ০৮:১৩, ১১ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্ত ভঙ্গ করে ইরান তাদের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের কাজ শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন দাবি করা হয়েছে। গত মাসে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া ১৪ দফার সমঝোতায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ না করার অঙ্গীকার করেছিল তেহরান। তবে চুক্তির পরই স্থাপনাগুলোতে নতুন কার্যক্রমের অভিযোগ যুদ্ধবিরতি ও চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ‘ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি’ যৌথভাবে সাম্প্রতিক এসব স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারচিন এলাকায় অবস্থিত একটি স্থাপনায় পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হামলার আগে এর গুরুত্ব বিবেচনায় চারপাশে সুরক্ষার জন্য কংক্রিটের দেয়ালও তুলেছিল ইরান।

তবে জুন ও জুলাই মাসে ধারণ করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তেহরান ওই স্থাপনাটি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে। জুনে ধারণ করা ছবিতে হামলার কারণে সৃষ্ট গর্তগুলো অস্থায়ীভাবে ঢেকে রাখতে দেখা যায়, যা জুলাই মাসে জালের আচ্ছাদন (মেশ) দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অথচ এই পুরোটা সময় জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সমঝোতা স্মারক কার্যকর ছিল।

পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর সন্দেহ থাকা আরেকটি স্থান হলো ইরানের \'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন\'। গত মাসে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরের কিছু স্যাটেলাইট চিত্রে ওই এলাকার টানেলগুলোতে বেশ কিছু যানবাহনের সন্দেহজনক আনাগোনা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্পষ্টতই ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা চুক্তির শর্তের লঙ্ঘন।

পারমাণবিক স্থাপনার পাশাপাশি ইরান তাদের বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারও মেরামত শুরু করেছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি তাদের মিত্র দেশগুলোও ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। তবে ইসফাহান, ফোরদো এবং নাতাঞ্জের মতো প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের কাজ শুরু হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধ ও স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে বৃহত্তর কাঠামোগত চুক্তির অংশ হিসেবে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর অন্যতম শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং এর বিনিময়ে ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। একই সঙ্গে ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা তৈরি করবে না।

চুক্তিতে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সরাসরি তত্ত্বাবধানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানো বা নিষ্পত্তি করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সম্মত হবে। চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক চাহিদা পূরণের বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে সমাধানের কথা ছিল।

তবে চুক্তির মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের এই মেরামত তৎপরতা ধরা পড়ায় নতুন করে অবিশ্বাস ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এদিকে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে ইরানের অব্যাহত হামলার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির ওপর নতুন করে হামলাও শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।