img

গাজা নিয়ে ট্রাম্পের ২০ দফায় কী আছে, কেন তুমুল আলোচনা

প্রকাশিত :  ১০:৪১, ০৪ অক্টোবর ২০২৫

গাজা নিয়ে ট্রাম্পের ২০ দফায় কী আছে, কেন তুমুল আলোচনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত হামাস।

হামাস শুক্রবার জানায়, তাদের হাতে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে এবং প্রায় দু’বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে তারা অবিলম্বে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত।

এএফপি জানায়, গত সোমবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে এই ২০ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। নেতানিয়াহু এতে সতর্ক সমর্থন দিয়েছেন।

নিচে হোয়াইট হাউস প্রকাশিত পরিকল্পনার মূল দফাগুলো দেওয়া হলো—

১. গাজাকে সম্পূর্ণরূপে চরমপন্থা ও সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে এর প্রতিবেশীদের জন্য কোনো হুমকি না থাকে।

২. দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে থাকা গাজার মানুষের কল্যাণে পুনর্গঠন করা হবে।

৩. উভয়পক্ষ সম্মত হলে যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ হবে। ইসরায়েলি বাহিনী সীমারেখায় সরে যাবে এবং জিম্মি মুক্তির প্রস্তুতি নেবে। পূর্ণ প্রত্যাহারের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধরেখা অপরিবর্তিত থাকবে।

৪. ইসরায়েল এই চুক্তি প্রকাশ্যে গ্রহণ করার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত ও মৃত সকল জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

৫. জিম্মি মুক্তির পর ইসরায়েল ২৫০ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীসহ ১,৭০০ গাজাবাসীকে মুক্তি দেবে। প্রত্যেক ইসরায়েলি জিম্মির দেহাবশেষের বিনিময়ে ১৫ জন গাজাবাসীর দেহাবশেষ ফেরত দেওয়া হবে।

৬. অস্ত্র জমা দেওয়া হামাস সদস্যদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হবে। যারা গাজা ছাড়তে চায়, তাদের নিরাপদে অন্য দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা হবে।

৭. চুক্তি স্বাক্ষরের পর গাজায় পুরোদমে মানবিক সহায়তা পৌঁছাবে। পানি, বিদ্যুৎ, হাসপাতাল, বেকারি ও অবকাঠামোর পুনর্গঠন হবে।

৮. জাতিসংঘ, রেড ক্রিসেন্ট ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ত্রাণ বিতরণে উভয়পক্ষ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। রাফা ক্রসিং খোলা থাকবে।

৯. গাজা অস্থায়ীভাবে একটি অরাজনৈতিক টেকনোক্র্যাট কমিটি পরিচালনা করবে। এ কমিটির ওপর নজরদারি করবে নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’, যার চেয়ারম্যান থাকবেন ট্রাম্প। গাজার পুনর্গঠনের অর্থায়ন ও কাঠামো তারা দেখবে।

১০. গাজা পুনর্গঠনে ‘ট্রাম্প অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করা হবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে কর্মসংস্থান ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

১১. অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক ও প্রবেশাধিকারের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।

১২. কাউকে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না। যারা যেতে বা ফিরতে চায়, তারা স্বাধীনভাবে তা করতে পারবে।

১৩. হামাস ও অন্যান্য গোষ্ঠী প্রশাসনে ভূমিকা রাখবে না। সব সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হবে এবং নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া চলবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অধীনে।

১৪. আঞ্চলিক অংশীদাররা নিশ্চিত করবে যে হামাস ও অন্যান্য গোষ্ঠী তাদের বাধ্যবাধকতা পালন করছে এবং গাজার প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি নয়।

১৫. যুক্তরাষ্ট্র আরব ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) গঠন করবে। এটি গাজায় মোতায়েন হয়ে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেবে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় কাজ করবে।

১৬. ইসরায়েল গাজা দখল বা সংযুক্ত করবে না। আইএসএফ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনারা গাজা ছাড়বে।

১৭. হামাস প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে নির্ধারিত ত্রাণ কার্যক্রমসহ সব পদক্ষেপ আইএসএফ-এর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে।

১৮. সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তিতে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ চালু হবে।

১৯. গাজা পুনর্গঠন ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে এগোলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব পথ তৈরি হবে।

২০. যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সহাবস্থানের রাজনৈতিক দিগন্ত নির্ধারণে সংলাপ শুরু করবে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরান যুদ্ধে ‘আটকে’ গেছেন ট্রাম্প: নিউইয়র্ক টাইমস\'র বিশ্লেষণ

প্রকাশিত :  ১৮:১০, ২৬ জুলাই ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের খামখেয়ালি আচরণের জন্য সুপরিচিত। প্রথম মেয়াদের মতো দ্বিতীয় মেয়াদেও বহু কাজের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের এই বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি বিপাকে পড়েছেন ইরান যুদ্ধ নিয়ে।

১৩ মাস আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ডেল্টা ফোর্স পাঠিয়ে তুলে আনেন। ভেনেজুয়েলার ঘটনায় দিনশেষে যুক্তরাষ্ট্রের লাভ হয়। দেশটিতে নিজেদের পছন্দসই সরকার পায় তারা। একই প্রত্যাশা হয়তো ইরানের ক্ষেত্রেও ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। সেখানে শাসকের শ্রেণি পরিবর্তনের কথা একাধিকবার বলেছে তারা। তবে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি; বরং এই সংঘাত মোড় নিতে শুরু করেছে অন্তহীন যুদ্ধের দিকে।   

ইরান যুদ্ধ নিয়ে কোনো লক্ষ্যই পূরণ হয়নি ডোনাল্ড ট্রাম্পের। উল্টো আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করেছে মার্কিন অস্ত্রের মজুত, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছে তেলের দাম এবং প্রভাব পড়ছে শেয়ার বাজারেও। প্রথম দফায় শুধু হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল, দ্বিতীয় দফার যুদ্ধে তা গড়িয়েছে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব পর্যন্ত। সব মিলিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌযান চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ বলছে, এসব সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ে ট্রাম্প বিরক্তবোধ করছেন। তাঁর সাম্প্রতিক চলাফেরায় এর প্রভাবও দেখা গেছে। আগের চেয়ে অনেক দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছেন তিনি। মিত্র দেশের সঙ্গে চুক্তি হোক, আর নিজ দেশের কোনো বিলে স্বাক্ষর হোক– দুই দিকেই এর প্রভাব পড়ছে। 

এই মুহূর্তে ইরান প্রশ্নে ট্রাম্পের হাতে তিনটি বিকল্প রয়েছে: সামরিক অভিযানের পরিধি বৃদ্ধি করা বা অর্থনৈতিক চাপ তৈরি অথবা জয় ঘোষণা করে বের হয়ে আসা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনটি বিকল্প খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং এসব নিয়ে তর্কবিতর্ক হয়েছে জেডি ভ্যান্স, জ্যারেড কুশনারের মতো ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, প্রতিটি বিকল্পই নিজ নিজ জায়গা থেকে ভিন্ন ভিন্ন কারণে অপ্রীতিকর।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প বলে আসছেন, সামরিক অভিযানের পরিধি বাড়ানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানা হবে এবং চড়া মূল্য দিতে হবে ইরানিদের। অনেক প্রাণহানি হবে, বহু কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে শুক্রবার তিনি জানালেন, ওই চিন্তা থেকে সরে এসেছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, কেন সরে এলেন ট্রাম্প? তাহলে কি এত ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর চিন্তা করেই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নিউইয়র্ক টাইমসকে কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। 

তবে নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, তাঁর এই অবস্থান পরিবর্তনের কারণ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকের মজুত কমে যাওয়া। গত এপ্রিলেই এ বিষয়ে সতর্ক করেছে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এখন উদ্বিগ্ন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হয়তো এই স্বল্পতার সুযোগ নিয়ে নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। 

দ্বিতীয় বিকল্প অর্থনৈতিক চাপ তৈরি নিয়ে অগ্রসর হওয়ার খুব একটা সুযোগ নেই। কারণ, এগুলো প্রভাব ফেলতে সময় নেয়। আর এটি করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খরচও বাড়বে। বর্তমান বাস্তবতায় সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে হবে, মাঝেমধ্যে হামলা-পাল্টা হামলাও হবে, যুক্তরাষ্ট্রের আরও সেনার প্রাণ ঝুঁকিতে পড়বে।  

তৃতীয় বিকল্প হলো, জয় ঘোষণা করা ও বাড়ি ফিরে যাওয়া। এক মাস আগে ট্রাম্প ওই পথে কিছুটা হেঁটেছিলেন। এভাবে ফিরে আসারও মূল্য রয়েছে। ট্রাম্পকে মেনে নিতে হবে ইরানের হয়তো পারমাণবিক সক্ষমতার বোমা থাকবে ও হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ভবিষ্যতে যে বিকল্পই নেওয়া হোক না কেন, সেটি ট্রাম্পের নজির হিসেবে রয়ে যাবে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর