img

জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ফ্রি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ২৭ নভেম্বর

প্রকাশিত :  ২০:৪৩, ১২ নভেম্বর ২০২৫

জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ফ্রি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ২৭ নভেম্বর

জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়াতে \'সিক্সটিন ডেজ অব এক্টিভিজম এগেইনস্ট জেন্ডার-বেইজড ভায়োলেন্স এবং হোয়াইট রিবন ক্যাম্পেইন - এর অংশ হিসেবে টাওয়ার হ্যামলেটসে একটি বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

বিনামূল্যে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার২৭ নভেম্বরটাওয়ার হ্যামলেটস্ টাউন হলের গ্রোসার্স উইংয়েযেখানে উপস্থিত দর্শকরা শুধু চলচ্চিত্র দেখবেন নাবরং সহিংসতা প্রতিরোধে সমাজ ও কমিউনিটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনাঅভিজ্ঞতা শেয়ার এবং প্রতিফলনের সুযোগ পাবেন।
এদিন প্রদর্শন করা হবে বিবিসির প্রশংসিত ড্রামা \"মার্ডার্ড বাই মাই বয়ফ্রেন্ড\"। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ২১ বছর বয়সী অ্যাশলি নামের এক তরুণীর ভয়াবহ বাস্তবতা তুলে ধরেযেখানে তার প্রেমিকের অত্যাচারমানসিক প্রভাব বিস্তার এবং নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ শেষ পর্যন্ত তাকে জীবন দিতে বাধ্য করে।
চলচ্চিত্রটি বিশেষভাবে যে দিকগুলো তুলে ধরেতা হলো আশ্রয়-প্রদানকারী সম্পর্কের মধ্যকার নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণমানসিকভাবে ভেঙে ফেলার কৌশল এবং গার্হস্থ্য সহিংসতার বিপদ ও বাস্তবতা।
ইভেন্ট আয়োজকদের মতেএই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শন নয়বরং এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা যেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা গার্হস্থ্য সহিংসতা সম্পর্কে আলোচনা করতে এবং সহায়তা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এই প্রদর্শনীকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ইভেন্টের লক্ষ্য হচ্ছেসম্পর্কের অস্বাস্থ্যকর আচরণ চিহ্নিত করতে সহায়তা করাসহিংসতার বিরুদ্ধে কমিউনিটিকে একত্রিত করাতরুণদের মধ্যে নিরাপদ সম্পর্কসম্মান এবং সমতার মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া।
ইভেন্টটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যেতবে আসন সীমিত হওয়ায় আগ্রহীদের আগে থেকেই নিবন্ধনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিবন্ধনের জন্য ভিজিট করুন: https://tinyurl.com/47x77tw6


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

৪৫১ পরিবারের হাতে যাকাতের অর্থ তুলে দিল আরডিএফ গ্লোবাল

প্রকাশিত :  ০০:২১, ২৬ মে ২০২৬

সিলেট ও জগন্নাথপুর, ২৫ মে ২০২৬: তিন মাস ধরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে অসহায় মানুষদের খুঁজে বের করেছেন তাঁরা। তারপর সরাসরি তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন যাকাতের অর্থ। রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরডিএফ) গ্লোবালের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে সিলেটের চা বাগান এলাকা এবং জগন্নাথপুর উপজেলায় মোট ৪৫১টি পরিবারের হাতে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ মে সিলেটের বুরজান, কালাগুল, চোরাগাং ও খাদিম চা বাগান এলাকায় প্রথম পর্বের বিতরণ সম্পন্ন হয়। সেদিন ২৩১টি পরিবারের ১২৫ জন পুরুষ ও ১০৬ জন নারী সদস্য এই সহায়তা পান। পরদিন ২৫ মে জগন্নাথপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে দ্বিতীয় পর্বে আরও ২২০টি পরিবারের মধ্যে অর্থ বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে ছিলেন ১৩০ জন পুরুষ ও ৯০ জন নারী।


আরডিএফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দুটি দলের তিন মাসের নিরলস পরিশ্রম। দলের সদস্যরা একে একে প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় গেছেন, তাদের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র নিজের চোখে দেখেছেন এবং সত্যিকারের অসহায়দের তালিকা তৈরি করেছেন। পণ্যের বদলে নগদ অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্তও সুচিন্তিত। কারণ প্রতিটি পরিবারের সংকট আলাদা - কেউ খাবারের কষ্টে, কেউ ওষুধের অভাবে, কেউ আবার ঋণের চাপে দিশেহারা। নগদ অর্থ তাদের নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেয় এবং তাদের মর্যাদাকে সম্মান জানায়।

সিলেটের এই চা বাগান অঞ্চলের শ্রমিকদের দুর্দশা দীর্ঘদিনের। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেঁচে থাকা এই মানুষগুলোর দৈনিক মজুরি মাত্র ১৭৭ টাকা, অর্থাৎ ব্রিটিশ মুদ্রায় এক পাউন্ডেরও কম। এই সামান্য আয়ে একটি পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়াই কঠিন, অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো তো সুদূরপরাহত।


কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন আরডিএফের চেয়ারম্যান তালহা চৌধুরী, কান্ট্রি ম্যানেজার আব্দুন নূর, আরডিএফ একাডেমির অধ্যক্ষ ও প্রজেক্ট অফিসার রাইয়ান আহমেদ এবং প্রজেক্ট অফিসার হানিফ আহমেদ ও মাসুম চৌধুরী। তাঁদের পাশে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন আল আমিন, সুমন, সুজন, সামাদ, হেলাল, সুমান, জামিল, রাশেদ, মোস্তফা ও নুফায়েলসহ একদল স্বেচ্ছাসেবী।


\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

আরডিএফ গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জুবের চৌধুরী বলেন, \"শুধু অর্থ বিতরণ করাই আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা চাই মানুষ তার নিজের মর্যাদা নিয়ে বাঁচুক। তাই প্রতিটি পরিবারকে আমরা সরাসরি নগদ অর্থ দিয়েছি, যাতে তারা নিজেরাই ঠিক করতে পারেন কোথায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এই যাকাত শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি একটি বিশ্বাসের সম্পর্ক - দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে।\"

তিনি আরও বলেন, \"যাঁরা তাঁদের যাকাত আরডিএফের হাতে আমানত হিসেবে তুলে দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের আস্থাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আর যে স্বেচ্ছাসেবীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই মাঠে নেমে এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানবতা এখনও জীবিত। আল্লাহ তাঁদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন।\"

কমিউনিটি এর আরও খবর