img

জম্মু-কাশ্মীরে থানায় বিস্ফোরক ভান্ডারে বিস্ফোরণে নিহত ৯, আহত ২৯

প্রকাশিত :  ০৫:৪৯, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৫৩, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

 জম্মু-কাশ্মীরে থানায় বিস্ফোরক ভান্ডারে বিস্ফোরণে নিহত ৯, আহত ২৯

ভারতের কাশ্মীরের একটি থানায় জব্দ করে রাখা বিস্ফোরক দ্রব্যের বিশাল ভান্ডারে গতকাল শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) গভীর রাতে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে ৯ জন নিহত ও ২৯ জন আহতের খবর জানা যায়। নিহতদের বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য ও ফরেনসিক বিভাগের কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার রাতে ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর এনডিটিভির।

নিহতদের বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য ও ফরেনসিক বিভাগের কর্মকর্তা। বিস্ফোরক পরীক্ষা করতেই তারা নওগাম থানায় অবস্থান করছিলেন। নিহতদের মধ্যে শ্রীনগর প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা, একজন নায়েব তহশিলদারও রয়েছেন।

আহতদের ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৯২ বেস হাসপাতাল এবং শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (এসকেআইএমএস) ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা পৌঁছেছেন এবং পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, থানার পুলিশ সদস্যরা ওই এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী জইস-ই-মোহাম্মদের পোস্টার লাগানোর বিষয়টির সুরাহা করেছিল। পোস্টারের সূত্র ধরে তারা ব্যাপক বিস্ফোরক উদ্ধার করার দাবি করে। এছাড়া কয়েকজন চিকিৎসককেও গ্রেফতার করার কথা জানান।

এর মধ্যে আদিল আহমেদ রাথের নামে এক চিকিৎসককে গত অক্টোবরে গ্রেফতার করা হয়। তিনি এমন পোস্টার লাগাচ্ছিলেন যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী ও কাশ্মীরে বহিরাগতদের ওপর বড় হামলার হুঁশিয়ারি বাক্য ছিল। তাকে গ্রেফতারের পর একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া যায়, যারা দিল্লিতে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করে।

রাথারকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আরেক চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলের নাম উঠে আসে। হরিয়ানার ফারিদাবাদের আল–ফালাহ মেডিকেল কলেজে কর্মরত শাকিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বাড়ি থেকে যৌথ অভিযানে প্রায় ৩ হাজার কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করা হয়। এরপর শাকিল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক ডা. শাহীন সাঈদকে গ্রেফতার করা হয়।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ট্রাম্পের ক্ষমার পর দেশে ফিরলেন হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হার্নান্দেজ

প্রকাশিত :  ০৭:২৯, ২৭ জুলাই ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমা পাওয়ার আট মাস পর নিজ দেশ হন্ডুরাসে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগের সময় তিনি এ ক্ষমা লাভ করেন।

রোববার (২৬ জুলাই) একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে তিনি রাজধানী তেগুসিগালপা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে পালমেরোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান তার মা, স্ত্রী আনা গার্সিয়া ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পরে দলীয় শত শত সমর্থকও তাকে অভ্যর্থনা জানান।

বিমানবন্দরে পৌঁছে হার্নান্দেজ ও তার পরিবারের সদস্যরা হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করেন। এরপর তিনি আরেকটি ফ্লাইটে তেগুসিগালপার টনকন্টিন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন।

হার্নান্দেজ ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার স্ত্রী আনা গার্সিয়া ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন, তবে তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট নাসরি আসফুরার কাছে পরাজিত হন।

সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে আগামী ৩ আগস্ট প্রতারণা ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বছরের জুনে তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা স্থগিত করা হয়, ফলে দেশে ফেরার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়নি।

সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫৭ বছর বয়সি হার্নান্দেজ বলেন, তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খারিজের আবেদন করবেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, নিজের দেশে ফেরার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি দিন গুনছিলাম।

তিনি আরও বলেন, কারাগারে কাটানো সময় ছিল অত্যন্ত কঠিন। আমি এমন অভিজ্ঞতা কারও জন্য কামনা করি না।

হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যখন তাকে তেগুসিগালপায় গ্রেফতার করা হয়। পরে একই বছরের এপ্রিলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত তাকে মাদক ও অস্ত্র পাচারের দায়ে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে শুরু থেকেই তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এদিকে, ‘প্যান্ডোরা টু’ নামে পরিচিত একটি দুর্নীতি তদন্তে হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে রাজনৈতিক প্রচারণায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রাষ্ট্রীয় তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ওই অর্থের একটি অংশ তার প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যয় করা হয়েছিল।

তবে একই তদন্তে জড়িত সাবেক প্রেসিডেন্ট পোরফিরিও লোবো ও সাবেক অর্থমন্ত্রী উইলফ্রেডো সেরাতোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ইতোমধ্যে খারিজ করা হয়েছে।

রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে হার্নান্দেজ বলেন, তিনি আবারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছেন না। তবে আপাতত সে ধরনের কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তিনি বলেন, আমাদের দলে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। তাদের পাশে থেকে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চাই।

সূত্র: রয়টার্স


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর