img

যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের 'আশ্রয় আবেদন' স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

প্রকাশিত :  ০৮:৫৬, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:০২, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের 'আশ্রয় আবেদন' স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের 'আশ্রয় আবেদন' স্থগিত করেছে। এর ফলে এখন থেকে আশ্রয় আবেদন অনুমোদন বা বাতিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর পরিচালক জোসেফ এডলো এ তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার এক্স-এ প্রকাশিত এক পোস্টে এডলো বলেন, এই বিরতি চলবে "যতক্ষণ না আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, প্রত্যেক বিদেশির সর্বোচ্চ মাত্রায় যাচাই ও পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।' খবর বিবিসির

এই ঘোষণা আসে কয়েক ঘণ্টা পর, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে 'তৃতীয় বিশ্বের' দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত হবে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, বুধবার গুলিতে আহত এক ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মারা গেছেন। এই ঘটনার জন্য এক আফগানকে দায়ী করা হয়েছে।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একটি দপ্তর ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন কোনো আশ্রয় আবেদন অনুমোদন, প্রত্যাখ্যান বা বন্ধ না করেন। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা আবেদন প্রক্রিয়ার কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন, তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে পৌঁছালে থামতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, 'একবার সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছালে, থামুন এবং স্থগিত রাখুন।'

শুক্রবারের নির্দেশনা ও ট্রাম্পের আগের মন্তব্য সম্পর্কে এখনও খুব কম তথ্য পাওয়া গেছে। ট্রাম্প বলেননি কোন কোন দেশ তার পরিকল্পনার আওতায় পড়বে। তবে এমন পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এবং ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের সংস্থাগুলো এর বিরোধিতা করেছে।

উভয় ঘোষণাই বুধবারের প্রাণঘাতী হামলার পর এসেছে এবং এগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নিয়ে আরও কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরছে।

অন্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ট্রাম্প অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অভিবাসীদের গণহারে বহিষ্কার, শরণার্থী গ্রহণের সংখ্যা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রায় সবার জন্য প্রযোজ্য স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের অধিকার বাতিলের চেষ্টা করেন।

বুধবারের গুলির ঘটনার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, 'যুক্তরাষ্ট্র থেকে এমন সব বিদেশিকে বহিষ্কার করা হবে যারা এখানে থাকার যোগ্য নয়।' একই দিনে আফগানদের অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করে যুক্তাষ্ট্র বলে, তাদের নিরাপত্তা ও যাচাই প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হবে। এরপর বৃহস্পতিবার ইউএসসিআইএস জানায়, তারা ১৯টি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের দেওয়া গ্রিন কার্ড পুনঃপর্যালোচনা করবে। তবে এর কারণ হিসেবে সংস্থাটি সরাসরি বুধবারের হামলার কথা উল্লেখ করেনি।

'তৃতীয় বিশ্বের দেশ'

পোস্টে প্রেসিডেন্ট শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য দায়ী করেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন এমন সবাইকে বের করে দেওয়া হবে যারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আসলে সম্পদ নন।

তিনি বলেন, 'সোমালিয়া থেকে আসা কয়েক লাখ শরণার্থী মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য পুরোপুরি দখল করে নিচ্ছে। এজন্য ওই অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের বিশেষভাবে কটাক্ষ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্প লিখেন, 'তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থগিত করব, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার হয়।'

'তৃতীয় বিশ্ব' শব্দগুচ্ছ অতীতে দরিদ্র, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। প্রেসিডেন্ট এর আগে আফগানিস্তানসহ আফ্রিকা ও এশিয়ার আরও ১১টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। 

জাতিসংঘ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র বলেন, 'আমরা আশা করি সব দেশ, যুক্তরাষ্ট্রসহ, ১৯৫৩ সালের শরণার্থী কনভেনশনের অধীনে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করবে।'

আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জেরেমি ম্যাককিনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের 'বলির পাঁঠা বানানো' হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের নিউজডে অনুষ্ঠানে ম্যাককিনি বলেন, 'হামলাকারীর উদ্দেশ্য এখনও জানা যায়নি। তবে  এ ধরনের ঘটনা ত্বকের রঙ জানে না, জাতীয়তা জানে না। যেকোনো পটভূমি থেকে এসে যেকেউ চরমপন্থায় জড়িয়ে পড়তে পারে বা মানসিক অসুস্থতায় ভুগতে পারে। 

হামলায় সন্দেহভাজন আফগান

ওয়াশিংটন ডিসিতে গুলির ঘটনার সন্দেহভাজন রহমানুল্লাহ লাখানওয়াল ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান। একটি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। আফগানিস্তানে যারা মার্কিন সেনাদের সঙ্গে কাজ করেন তাদের ওই সুবিধা দেওয়া হয়। সিআইএ-এর বর্তমান পরিচালক জানিয়েছেন, লাখানওয়াল পূর্বে তাদের সঙ্গে কাজ করেছেন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের পরমাণু স্থাপনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল সিএনএন

প্রকাশিত :  ০৮:১৩, ১১ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্ত ভঙ্গ করে ইরান তাদের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের কাজ শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন দাবি করা হয়েছে। গত মাসে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া ১৪ দফার সমঝোতায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ না করার অঙ্গীকার করেছিল তেহরান। তবে চুক্তির পরই স্থাপনাগুলোতে নতুন কার্যক্রমের অভিযোগ যুদ্ধবিরতি ও চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ‘ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি’ যৌথভাবে সাম্প্রতিক এসব স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারচিন এলাকায় অবস্থিত একটি স্থাপনায় পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হামলার আগে এর গুরুত্ব বিবেচনায় চারপাশে সুরক্ষার জন্য কংক্রিটের দেয়ালও তুলেছিল ইরান।

তবে জুন ও জুলাই মাসে ধারণ করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তেহরান ওই স্থাপনাটি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে। জুনে ধারণ করা ছবিতে হামলার কারণে সৃষ্ট গর্তগুলো অস্থায়ীভাবে ঢেকে রাখতে দেখা যায়, যা জুলাই মাসে জালের আচ্ছাদন (মেশ) দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অথচ এই পুরোটা সময় জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সমঝোতা স্মারক কার্যকর ছিল।

পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর সন্দেহ থাকা আরেকটি স্থান হলো ইরানের \'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন\'। গত মাসে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরের কিছু স্যাটেলাইট চিত্রে ওই এলাকার টানেলগুলোতে বেশ কিছু যানবাহনের সন্দেহজনক আনাগোনা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্পষ্টতই ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা চুক্তির শর্তের লঙ্ঘন।

পারমাণবিক স্থাপনার পাশাপাশি ইরান তাদের বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারও মেরামত শুরু করেছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি তাদের মিত্র দেশগুলোও ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। তবে ইসফাহান, ফোরদো এবং নাতাঞ্জের মতো প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের কাজ শুরু হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধ ও স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে বৃহত্তর কাঠামোগত চুক্তির অংশ হিসেবে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর অন্যতম শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং এর বিনিময়ে ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। একই সঙ্গে ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা তৈরি করবে না।

চুক্তিতে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সরাসরি তত্ত্বাবধানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানো বা নিষ্পত্তি করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সম্মত হবে। চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক চাহিদা পূরণের বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে সমাধানের কথা ছিল।

তবে চুক্তির মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের এই মেরামত তৎপরতা ধরা পড়ায় নতুন করে অবিশ্বাস ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এদিকে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে ইরানের অব্যাহত হামলার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির ওপর নতুন করে হামলাও শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।