img

ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত বেড়ে ৩৫, গ্রেপ্তার ১২ শতাধিক

প্রকাশিত :  ০৬:৫১, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা: নিহত বেড়ে ৩৫, গ্রেপ্তার ১২ শতাধিক

ইরানে টানা ৯ দিন ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সহিংসতা ও প্রাণহানির মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। 

গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৯ জন বিক্ষোভকারী, ৪ জন শিশু এবং ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ২ জন সদস্য রয়েছেন। ইরানের ভেতর থাকা বিস্তৃত কর্মী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা দেশটির অতীতের অস্থিরতার সময়েও নির্ভরযোগ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-র তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় আজনা, মারভদাশত ও কোরভেহ শহরে অন্তত ৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। বিক্ষোভে আহত হয়েছেন অন্তত ৬৪ জন, যাদের অধিকাংশের শরীরে পেলেট গান ও প্লাস্টিক বুলেটের আঘাত রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের ৪৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু এলাকায় সরাসরি গুলি ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও দেশটির অন্তত ৮৮টি শহরের ২৫৭টির বেশি স্থানে বিক্ষোভ ও শ্রমিক ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এ পর্যন্ত ২১ জনকে স্বাধীনভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ইরানের ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে বিক্ষোভ চলছে এবং বোজনুর্দ, কাজভিন, ইস্পাহান ও তেহরানসহ বিভিন্ন শহর থেকে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

ইন্টারনেট সংযোগে ব্যাপক বিঘ্ন এবং কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধের কারণে প্রকৃত হতাহত ও গ্রেপ্তারের সঠিক সংখ্যা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা ‘মোল্লাদের কাফন না হওয়া পর্যন্ত এই দেশ কস্মিনকালেও স্বদেশ হয়ে উঠবে না’ এমন উগ্র স্লোগান দেওয়ালে লিখে তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। স্বাধীন তথ্যসূত্রে সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

সূত্র: ফার্স নিউজ

img

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির প্রতিবাদে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ০৪:২৪, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে হাজার হাজার শ্রমিক ও শিক্ষার্থী ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। 

গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। 

বিশেষ করে সম্প্রতি মিনিয়াপলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্টের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক রেনি গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় এই গণবিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে শুরু করে নর্থ ক্যারোলিনা এবং ওহিও পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা রাজপথে নেমে ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
\r\nবিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মিনিয়াপলিস, যেখানে গত ৭ জানুয়ারি এক অভিবাসন অভিযানের সময় রেনি গুডকে তার গাড়ি থেকে টেনে বের করে গুলি করা হয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা ‘নো আইস, নো কেকেকে, নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগান দিয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করেন। 

\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

ওহিও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা এবং নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে-তে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ‘আইস সন্ত্রাস বন্ধ করো’ দাবিতে সমাবেশে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন জনমতের তোয়াক্কা না করে অমানবিক উপায়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিতাড়িত করার যে ম্যান্ডেট দাবি করছে, তা প্রকৃতপক্ষে মার্কিন মূল্যবোধের পরিপন্থী।
\r\nএই বিক্ষোভের নেপথ্যে ছিল ইনডিভিবল এবং ৫০৫০১-এর মতো বামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী, বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনগুলো। তারা বিশেষ করে টেক্সাসের এল পাসোর মতো জায়গায় স্থাপিত অভিবাসী ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোর ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানান। 
\r\nফেডারেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় সপ্তাহে ওই ক্যাম্পে অন্তত তিনজন আটক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে যে, অধিকাংশ আমেরিকান নাগরিক আইস এবং অন্যান্য ফেডারেল সংস্থাগুলোর মাধ্যমে অভিবাসন প্রত্যাশীদের ওপর বলপ্রয়োগের এই প্রক্রিয়ার বিরোধী।
\r\nমঙ্গলবার সকালের দিকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পর্যায়ক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলী শহর যেমন সান ফ্রান্সিসকো এবং সিয়াটলের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত বড় ধরনের সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। 
\r\nট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য দাবি করে আসছে যে, অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার মাধ্যমে তারা কেবল ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিই পালন করছে। তবে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রশাসনের এই অনমনীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।
\r\nসূত্র: রয়টার্স।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর