লাইফ সাপোর্টে হুজাইফা

img

অস্ত্রোপচারেও মাথা থেকে বের করা যায়নি গুলি

প্রকাশিত :  ১২:৫৭, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

অস্ত্রোপচারেও মাথা থেকে বের করা যায়নি গুলি

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত শিশু হুজাইফা আফনানের মাথা থেকে এখনো গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও জটিল অস্ত্রোপচারে ব্যর্থ হওয়ায় ৯ বছর বয়সী এই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক রয়ে গেছে।

গতকাল রোববার মধ্যরাতে তার একটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে কয়েক ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করেও মাথার ভেতর থেকে গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন শিশুটির শারীরিক অবস্থারও উন্নতি হয়নি। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ  বলেন, ‘জটিল অস্ত্রোপচার করে কয়েক ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করেও গুলিটা বের করা সম্ভব হয়নি। গুলি বের করতে চাইলে মুমূর্ষু শিশুটির জীবন হুমকিতে পড়বে। কারণ গুলিটি মস্তিষ্কের ডেঞ্জারাস (বিপজ্জনক) স্থানে রয়েছে। এখনও তার শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। তবে তাকে সুস্থ করে তুলতে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘শিশুটির সার্বিক অবস্থা ক্রিটিক্যাল। রোববার রাতে তার একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কিন্তু গুলিটা বের করা যায়নি। শিশুটির শারীরিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন বিভাগের ডাক্তারদের সাথে কথা বলেছি। তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।’

সোমবার দুপুরে হাসপাতালের আইসিইউয়ের সামনে শিশুটির চাচা মোহাম্মদ এরশাদকে দেখা গেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার আদরের ভাতিজা ভালো নেই। তার এমন করুণ পরিণতিতে ভালো নেই তার মা-বাবাসহ পুরো পরিবার। অস্ত্রোপচার করলেও চিকিৎসকরা ভালো কোনো সংবাদ দিতে পারেননি। হতভাগা শিশুটি তো কোনো অপরাধ করেনি। তাহলে কেন তার এমন করুণ পরিণতি হলো?’

রোববার সকাল ৯টার দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকার বাসিন্দা শিশু হুজাইফা। মুমূর্ষু অবস্থায় বিকেলে তাকে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে লাইফ সাপোর্টে রেখে চিকিৎসা দেন চিকিৎসকরা।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

হাসপাতালের তরকারি মুখে নিয়েই ফেলে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১০:৫৮, ২০ মে ২০২৬

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন হঠাৎ খুলনা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় হাসপাতালের খাবার ঘর পরিদর্শনে গিয়ে রোগীদের জন্য তৈরি করা সবজি মুখে দিয়ে ফেলে দেন তিনি।

আজ বুধবার (২০ মে) সকালে খুলনা সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এ চিত্র দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় রোগীদের খোঁজখবর নেন ও হাসপাতালে সার্বিক পরিবেশ পরিদর্শন করেন।

এতে উপস্থিত কর্মচারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের তরকারি আপনাদের বাসায় রান্না হলে কি খেতেন? এ সময় সুপারিন্টেনডেন্টকে ভালো মানের তরকারি সরবরাহের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

রোগীদের সঙ্গে কথা বলে রাবিস ভ্যাকসিন নিয়ে হয়রানির অভিযোগ এবং টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কেনার ঘটনা হাতেনাতে ধরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক গাজী রফিকুল ইসলামকে ধমক দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 

এ সময় মন্ত্রী জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, সরবরাহ না থাকায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।

তখনই স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ঢাকায় ফোন করেন। তিনি জানতে পারেন, ভ্যাকসিন আনার জন্য কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি তত্ত্বাবধায়ক। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ মন্ত্রী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত।


বাংলাদেশ এর আরও খবর