সিলেটে ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে পুলিশে সোপর্দ, প্রতিবাদে ‘সমন্বয়ক’ অবরুদ্ধ
\'ডেভিল\' আখ্যা দিয়ে সিলেটের জকিগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের এক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া জাফর আহমেদকে উপজেলা পরিষদ ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে জানিয়েছেন জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক।
তিনি জানান, পুলিশে সোপর্দের পর স্থানীয় মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস শহীদ বর্তমানে থানা হেফাজতে আছেন। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই।
এ নিয়ে বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা ছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের দফায় দফায় বৈঠক হয়।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক বলেন, আবদুস শহীদ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন। তিনি কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। প্রাথমিক তদন্তে এখন পর্যন্ত কিছু পাওয়া যায়নি এবং নতুন কোনো অভিযোগও দায়ের হয়নি। তবে যেহেতু তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে, সে কারণে আজ সকালে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১ ধারায় আবদুস শহীদকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে আবদুস শহীদকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন জাফর আহমদসহ কয়েকজন যুবক। জাফর আহমদ জুলাইয়ের আন্দোলনে জকিগঞ্জে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার বাদী। তিনি ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ১০৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেখানে আবদুস শহীদের নাম নেই। জাফর স্থানীয় ছাত্রদল নেতা বলে জানা গেছে।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুস শহীদকে আওয়ামী লীগের নেতা ‘ডেভিল’ বলে দাবি করছেন জাফর আহমদ। এর বিরোধিতা করে উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান বলেন, ‘আমি সর্বোচ্চ দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আবদুস শহীদ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে ইউএনও কার্যালয়ে জনপ্রতিনিধিদের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মানিকপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস শহীদকে ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে জাফর আহমদসহ কয়েকজন তরুণ-যুবক আটক করেন এবং পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর থেকে মানিকপুর ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা উপজেলা পরিষদে যান এবং জাফর আহমদসহ কয়েকজনকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে ইউএনও বৈঠক করেন।
বৈঠক চলাকালের ও আগের একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুস শহীদকে আওয়ামী লীগের নেতা ‘ডেভিল’ বলে দাবি করছেন জাফর আহমদ। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে বলে ইউএনওকে জানান জাফর।
এর বিরোধিতা করে উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান বলেন, ‘আমি সর্বোচ্চ দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আবদুস শহীদ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাও নন এবং জকিগঞ্জ থানার কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামিও নন। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাকে দলীয় ট্যাগ দিয়ে মব সৃষ্টি করে ধরিয়ে দেওয়া ন্যক্কারজনক।’
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ইউএনওর সামনেই দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি চলছে। এ সময় জাফর আহমদ নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে পুলিশের একটি দল তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে নিরাপদে উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে বাইরে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জাফর আহমদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুবের আহমেদ ডেইলি স্টারকে বলেন, \'জকিগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে কোনো কমিটি নেই। তবে জাফর ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত আছেন।
ইউএনও মাসুদুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কল ধরেননি।



















