img

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় আইনপ্রণেতাসহ ১৫ আরোহীর মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৫:১৪, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় আইনপ্রণেতাসহ ১৫ আরোহীর মৃত্যু

কলম্বিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নর্তে দে সান্তান্দের বিভাগের একটি প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে বিমানে থাকা ১৫ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দেশটির একজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা এবং আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী একজন প্রার্থীও রয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান সংস্থা ‘সাতেনা’ পরিচালিত এই ছোট বিমানটি কুরাছিকা নামক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। কলম্বিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর উদ্ধারকারী দল নিশ্চিত করেছে যে বিমানে থাকা কোনো যাত্রী বা ক্রু সদস্যই বেঁচে নেই।

নিহতদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন দিওজেনেস কুইনতেরো, যিনি কলম্বিয়ার দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতের শিকার হওয়া ৯ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দেশটির নিম্নকক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি তার অঞ্চলের একজন প্রখ্যাত মানবাধিকার রক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 

এছাড়া বিমানে তার দলের সদস্য নাতালিয়া অ্যাকোস্টা এবং আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেস নির্বাচনের প্রার্থী কার্লোস সালসেদোও ছিলেন। কুইনতেরো ২০২২ সালে শান্তি চুক্তির অধীনে সৃষ্ট বিশেষ ১৬টি আসনের একটি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা কলম্বিয়ার সংঘাতকবলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে গণ্য করা হতো।

বিমানের যাত্রাপথ সম্পর্কে জানা গেছে যে, ‘এইচকে৪৭০৯’ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের এই বিমানটি স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে সান্তান্দেরের রাজধানী কুকুতা বিমানবন্দর থেকে ওকাñaর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। সাধারণত এই রুটে পৌঁছাতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে। তবে উড্ডয়নের মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় বিমানটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলে। 

দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি, তবে কলম্বিয়ার বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যারা এই ধ্বংসলীলার নেপথ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি প্রতিকূল আবহাওয়া দায়ী ছিল তা খতিয়ে দেখবে।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিয়া মার্কেজও এই অপূরণীয় ক্ষতিতে শোক প্রকাশ করে বলেন যে, এই ঘটনা পুরো দেশকে শোকাহত করেছে। 

কুইনতেরোর রাজনৈতিক দল ‘ইউ পার্টি’ তাকে একজন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং জনসেবায় নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ভেনেজুয়েলা সীমান্ত সংলগ্ন এই উত্তাল অঞ্চলে কুইনতেরোর অকাল প্রয়াণ মানবাধিকার রক্ষায় এক বড় শূন্যতা তৈরি করবে বলে মনে করছেন তার সতীর্থ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলোতে ইরানের পাল্টা হামলা, বাজছে সাইরেন

প্রকাশিত :  ০৭:৪৬, ১২ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফায় হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটির হামলা প্রতিহত করতে বিভিন্ন দেশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। 

রোববার (১২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনী এগুলো প্রতিহত করতে কাজ করছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে শোনা বিস্ফোরণের শব্দগুলো তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সময় সৃষ্টি হয়েছে।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়িতে অথবা নিরপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় জনগণকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে এবং অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিমান হামলার সতর্কতাসংকেত (সাইরেন) চালু করেছে। দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ বেড়েছে। নভেম্বরের আগাম নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

ইরান বলেছে, বেশ কয়েকটি জাহাজ একটি ‘অননুমোদিত পথে’ নৌপথ অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য বার্তা দেওয়া হলেও তারা তা উপেক্ষা করেছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আইআরজিসির বিবৃতির প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে তারা হামলা শুরু করে। ইরান তাদের বিবৃতিতে বলেছিল, কন্টেইনার জাহাজে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে ‘শত্রুদের নতুন ঘাঁটি’ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।