img

নতুন সরকার গঠন সোম বা মঙ্গলবার, শপথ পড়াতে পারেন সিইসি

প্রকাশিত :  ০৬:৪৬, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন সরকার গঠন সোম বা মঙ্গলবার, শপথ পড়াতে পারেন সিইসি

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। সে ক্ষেত্রে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে। একই দিনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে। সেই সময়সীমা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) মাধ্যমেই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা এগোচ্ছে।

সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর কথা বিদায়ী স্পিকারের। এই দায়িত্বে রয়েছেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। তবে তিনি পদত্যাগের পর থেকে প্রকাশ্যে না আসায় বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে স্পিকার শপথ না পড়ালে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সিইসি এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু হত্যা মামলায় কারাগারে থাকায় বিকল্প সাংবিধানিক পথও জটিল হয়ে পড়েছে। স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার দুজনের কেউ দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকলে স্পিকারের মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ বিষয়েও নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আইন বিশ্লেষকদের মতে, শপথের বিষয়টি শুধু সাংবিধানিক প্রক্রিয়াগত নয়, বরং এবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ ভেঙে যাওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এবারের নির্বাচন সেই কাঠামোর বাইরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় যেভাবে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে, একইভাবে শপথের বিষয়টিও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধান করা সম্ভব। কোনো বিকল্প প্রস্তাবে দলগুলোর সম্মতি এলে তিন দিনের অপেক্ষা ছাড়াই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের পথ খুলতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পর সরকার পতন এবং ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে যাওয়ার প্রায় দেড় বছর পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং ২৯৭টির বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে দুটি আসনের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রয়েছে।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। তাদের মিত্ররা পেয়েছে আরও তিনটি আসন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকদের ঝুলিতে গেছে ৯টি আসন।


জাতীয় এর আরও খবর

img

আসামি নিয়ে ফেরার পথে এসআই ও বিএনপি নেতা নিহত

প্রকাশিত :  ০৭:১৮, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে থানায় ফেরার পথে কাভার্ডভ্যানের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক বিএনপি নেতা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। শুক্রবার ভোররাতে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান (৩০) ও তুমুলিয়া এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে ও স্থানীয় ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক মোল্লা (৪৫)। আহতদের মধ্যে আছেন উপপরিদর্শক (এসআই) জাবেদ ওমর (২৮) ও গাড়িচালক রাব্বি (২৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তুমুলিয়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আহিদ মিয়াকে (৪৫) আটক করতে রাত পৌনে ৩টার দিকে সেখানে অভিযানে যান এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য। পরে তাকে বাড়ি থেকে আটক করা হয়। আহিদ মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে।

আহিদকে নিয়ে থানায় ফেরার পথে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে পুলিশের গাড়ি থামিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক মোল্লার সঙ্গে কথা বলছিলেন মিজানুর রহমান, জাবেদ ওমর ও রাব্বি। হঠাৎ ঘোড়াশালমুখী একটি কাভার্ডভ্যান তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়।

সে সময় অন্য পুলিশ সদস্যরা আহত চারজনকে উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক সেখানে রফিক মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহত মিজানুর রহমান ও জাবেদ ওমরকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে মিজানুর রহমান ও জাবেদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসকরা মিজানুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। জাবেদ ওমর গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। রাব্বি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। চাপা দেওয়া গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

জাতীয় এর আরও খবর