এবার দেশ গড়ার পালা— বিজয়ের পর তারেক রহমানের ঐক্যের আহ্বান
প্রকাশিত :
১০:০৯, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ের পর সংবাদ সম্মেলন থেকে দেশ গড়তে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমি ভিন্ন দল কিংবা ভিন্নমতের সবার সহযোগিতা আশা করছি।
তারেক রহমান বলেন, এবার দেশ গড়ার পালা। দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন দুর্বলতা। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার পরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে এই নির্বাচন–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তারেক রহমান। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজয়ের পর এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বিএনপির চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে বলেন, আমরা শান্তভাবে বিজয় উদযাপন করেছি। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আমি দল এবং জোটের নেতাকর্মীদের আনন্দ মিছিল করতে নিষেধ করেছি। আমরা দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে বিজয়ের শোকরিয়া আদায় করেছি।
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান।
বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
ইরান-কুর্দিস্তান উত্তেজনা তৈরিতে মার্কিন গোয়েন্দা তৎপরতা, সিএনএন-এর বিস্ফোরক রিপোর্ট
প্রকাশিত :
১১:৪৮, ০৫ মার্চ ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৬, ০৫ মার্চ ২০২৬
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইরানের ভেতরে গণঅভ্যুত্থান ঘটানোর লক্ষ্যে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ইরাকে অবস্থানরত কুর্দি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই পদক্ষেপটি মূলত ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় একটি বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরির প্রচেষ্টার অংশ। তবে কুর্দিস্তানের বেশিরভাগ নেতা বলছেন, পূর্বের অভিজ্ঞতা সুখকর নয় এবং বর্তমানে আমাদেরকে কী টার্গেট নিয়ে আগাতে হবে তা একদমই পরিষ্কার নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন; একদিন বলেন কুর্দি জনগণের মুক্তি, আরেকদিন ইরানে ক্ষমতার পালাবদল, বিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংসের কথা, আবার আরেক দিন ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধ করছে তাঁর বাহিনী! এর ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নিতে তারা রীতিমতো শংকিত। অন্যদিকে ইরান যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কুর্দিদের যে, তারা সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেবে যদি তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
ইরান ও কুর্দি জনগণের মধ্যে দ্বন্দ্বের ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ এবং জটিল। কুর্দিরা বিশ্বের বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী যাদের নিজস্ব কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র নেই। তারা ইরান, ইরাক, তুরস্ক এবং সিরিয়ার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে আছে।
১. ১৯৭৯ সালের বিপ্লব ও স্বায়ত্তশাসন: ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের পর কুর্দিরা আশা করেছিল যে নতুন ইসলামী প্রজাতন্ত্র তাদের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করবে। কিন্তু তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খোমেনি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন, যার ফলে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়।
২. সাদ্দাম হোসেন ও কুর্দিরা: ১৯৯০-এর দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কুর্দিরা অনেক সময় বিভিন্ন শক্তির হয়ে লড়াই করেছে। তবে তারা বারবার বড় শক্তিগুলোর (যেমন যুক্তরাষ্ট্র) রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং পরে পরিত্যক্ত হয়েছে।
৩. মাহসা আমিনি ও সাম্প্রতিক গণজাগরণ: ২০২২ সালে কুর্দি বংশোদ্ভূত তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানে যে "নারী, জীবন, স্বাধীনতা" (Woman, Life, Freedom) আন্দোলন শুরু হয়, তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কুর্দি অঞ্চলগুলো। ইরান সরকার এই বিক্ষোভকে বিদেশের মদদপুষ্ট 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' আন্দোলন হিসেবে আখ্যা দেয় এবং কুর্দি অঞ্চলগুলোতে কঠোর সামরিক অভিযান চালায়।
বর্তমান পরিস্থিতি সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, সিআইএ এখন ইরানের ভেতরে একটি ছায়া যুদ্ধ বা প্রক্সি ওয়ার শুরু করতে চাচ্ছে। কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দেওয়ার মাধ্যমে তারা ইরানের পশ্চিম সীমান্তে একটি 'বাফার জোন' তৈরি করতে চায়, যা ইরান সরকারকে চাপে ফেলবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: নাতাশা বারট্রান্ড (Natasha Bertrand), অ্যালাইনা ট্রিন (Alayna Treene), এবং ক্লারিসা ওয়ার্ড (Clarissa Ward) [সিএনএন-এর মূল রিপোর্ট থেকে সংগৃহীত]।