img

লন্ডন প্রবাসী শফি হত্যার রহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত :  ১১:১০, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৩, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 লন্ডন প্রবাসী শফি হত্যার রহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

লন্ডন প্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এই হত্যার মূল রহস্য উদঘ্টনের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। আজ রোববার দুপুরে সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া শাখা থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার মামলার প্রধান আসামি জকিগঞ্জের বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ(২১) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার ২নং আসামি সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ ওরফে শোভন(২০) কে নারায়নগঞ্জের পূর্বাচল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইদিনে অপর আসামি তাহিরুল হক(২০) কে তার শ্বশুর বাড়ি লালাগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাহিরুলের কাছ থেকে নিহত শফির ব্যবহৃত সেই মোটরসাইকেলও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এরআগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়নের মাসেরচক হাওর বিলপাড় থেকে লন্ডন প্রবাসী বোরহান উদ্দীন শফির (৫৯) সম্পূর্ণ আগুনে পোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই বিষয়ে জকিগঞ্জ থানায় দুদিন পর মামলা দায়ের করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটি পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সাব্বির ও শোভন আদালতে দোষস্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো: আনোয়ার হোসেন জানান, প্রথমিক তদন্তে জানা যায় মূলত: ব্যক্তিগত দ্বন্দের জের ধরে শফিকে হত্যা করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আলামত জব্দ ও আসামী গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।

জানা যায়, নিহত বুরহান উদ্দিন শফি (৫৯) সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা হলেও সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার ৩৪/৪১ নম্বর বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, নিহত বুরহান উদ্দিন শফি লন্ডন প্রবাসী ছিলেন। তিনি গত ৩০ জানুয়ারী সিলেট থেকে কুলাউড়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় স্বজনরা সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরিও করেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জে জমির বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র নিহত, আহত অন্তত ২০

প্রকাশিত :  ১১:৩৭, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলাস্থ বেগমপুর গ্রামে সরকারী জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়া (২৩) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

নিহত মঞ্জুর মিয়া ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং নবীগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সরকারী জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। একই গ্রামের হেলাল মিয়া ও মনিরুজ্জামান ওই জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালে হেলাল ও মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়াসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মঞ্জুর মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাফি মিয়া (৩২), মুজিবুর রহমান (৩২), শামিম মিয়া (৫০), মামুন মিয়া (৩১), জুনেদ মিয়া (২৮), রুহেল মিয়া (৩৮), ইমন মিয়া (১৭), কাউছার মিয়া (২২), জুয়েল আহমেদ (৩২)সহ আরও অনেকে। বাকিরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতের বাবা খলিলুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন। প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল এবং ঘটনার দিন ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়।

এ বিষয়ে থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, সরকারী জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর