img

ইস্ট লন্ডন মসজিদের সেবার পরিধি বৃদ্ধি ও আর্থিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ৫ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা

প্রকাশিত :  ০৫:২৪, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইস্ট লন্ডন মসজিদের সেবার পরিধি বৃদ্ধি ও আর্থিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ৫ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা

লন্ডন, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : ইস্ট লন্ডন মসজিদের সেবার পরিধি বৃদ্ধি ও আর্থিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনার আওতায় তরুণ সমাজকে মসজিদমুখী করা, নারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, নিউ মুসলিমদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা, বয়স্ক নারী-পুরুষের সেবা এবং রিফিউজি সার্ভিসে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ এই সহযোগিতার আহ্বান জানান। ইস্ট লন্ডন মসজিদের সিইও জুনায়েদ আহমদের সঞ্চালনায় ইফতার-পূর্ব আলোচনায় বক্তব্য রাখেন মসজিদের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল হাই মুর্শেদ এবং সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম হীরা । রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন মসজিদের প্রধান ইমাম ও খতীব শায়খ আব্দুল কাইয়ুম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মসজিদের অন্যতম ট্রাস্টি মোহাম্মদ আব্দুল মালিক। অনুষ্ঠানের শুরুতে মিশর থেকে আগত তারাবিহের ইমাম হাফিজ মুয়তাজ আল ঘানাম পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন।

ড. আব্দুল হাই মুর্শেদ বলেন, আপাতত নতুন কোনো প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা আমাদের নেই। বর্তমানে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মসজিদের সেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলা। তিনি জানান, পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং মসজিদকে ঋণমুক্ত করতে বিশেষ ফান্ডরেইজিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে । এর মধ্যে রয়েছে বছরে ৫০০ পাউন্ড দান করে ‘খাদিম’ হওয়ার সুযোগ, এক হাজার পাউন্ড দান করে আল-হামরা ডোনার ওয়ালে নিজের বা প্রিয়জনের নাম সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং প্রতিদিন ১ পাউন্ড দানের লক্ষ্যে মাসিক ন্যূনতম ৩০ পাউন্ডের স্ট্যান্ডিং অর্ডার চালু করার আহ্বান।

তিনি আরও জানান, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার ইস্ট লন্ডন মসজিদ চ্যানেল এস টিভিতে লাইভ ফান্ডরেইজিং অ্যাপিলে অংশগ্রহণ করবে । ওইদিন বিকেল ৩টা থেকে ফজর পর্যন্ত চলমান এই ফান্ডরেইজিং অ্যাপিলে সহযোগিতার জন্য কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

ড. মুর্শেদ বলেন, কমিউনিটির সহযোগিতায় গত বছর মসজিদের সর্বশেষ সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন করে মূল হল সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে । বর্তমানে পুরো মসজিদে একসঙ্গে ১০ হাজারেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। রমজানের প্রথম সপ্তাহে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ এখানে নামাজ আদায় করেছেন এবং সারা বছরে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের পদচারণায় মসজিদ প্রাঙ্গণ মুখরিত থাকে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, রমজানে মুসল্লিদের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও এক হাজার মানুষের ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে কমিউনিটির দানে পরিচালিত হয় । মাত্র ৩ পাউন্ড দান করে একজন রোজাদারের ইফতারের ব্যবস্থা করা যায়, অথবা ৩,০০০ পাউন্ড দান করে একদিনে এক হাজার মানুষকে ইফতার করানোর সুযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, এই পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা মসজিদের ট্রাস্টি, স্টাফ, কমিউনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা পরামর্শের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

সাংস্কৃতিক বিনিয়োগে গোল্ডেন ভিসা দিচ্ছে পর্তুগাল

প্রকাশিত :  ০৮:১৫, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মো : ফেরদৌস আহমাদ: আবাসন খাতে গোল্ডেন ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে সাংস্কৃতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে ভিসা দিচ্ছে পর্তুগাল সরকার। এক্ষেত্রে বেশকিছু বাংলাদেশিও সাংস্কৃতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে গোল্ডেন ভিসার সুবিধা নিয়েছেন।

সাংস্কৃতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে গোল্ডেন ভিসার সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিয়েছেন মার্কিন নাগরিকরা। তারা মোট ১২০টি অনুদান দিয়েছেন। ৭০টি অনুদান দিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চীনারা।

এরপরই ৩০টি ভিসা নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন ভারতীয়রা। এ তালিকায় ব্রিটিশ, পাকিস্তানি, তুর্কি ও ইরাকি নাগরিকদের পাশাপাশি শীর্ষ দেশগুলোর কাতারে রয়েছে বাংলাদেশ, ইরান ও জর্ডান।

এছাড়া ৩৬টি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দাতার জাতীয়তা উল্লেখ করা হয়নি।

২০২৫ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গোল্ডেন ভিসা পাওয়ার লক্ষ্যে দেশটির সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে বিদেশি কোটিপতিদের অনুদানের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ২৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৬ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে।

২০২৪ সালে এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল মাত্র ১১ মিলিয়ন ইউরো। অনুদানের এই উল্লম্ফনের ফলে চলতি বছর এ প্রক্রিয়ায় বসবাসের অনুমতি পাওয়ার হারও প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, এই বিশাল বিনিয়োগের বিপরীতে ২০২৫ সালে ২১১টি বসবাসের অনুমতিপত্র বা রেসিডেন্স পারমিট জারি করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল মাত্র ৫০টি। বর্তমানে পর্তুগিজ আইন অনুযায়ী কোনো বিদেশি নাগরিক দেশটির শিল্পকলা বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের রক্ষণাবেক্ষণে ন্যূনতম ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো দান করলে এই গোল্ডেন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

সাংস্কৃতিক অনুদান ছাড়াও অন্তত ১০টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি অথবা ৫ লাখ ইউরো বা তার বেশি মূলধন স্থানান্তরের মাধ্যমেও পর্তুগালে গোল্ডেন ভিসার মাধ্যমে বসবাসের সুযোগ পাওয়া সম্ভব।


কমিউনিটি এর আরও খবর