img

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা জানাল ইরান

প্রকাশিত :  ১১:৩৭, ০৯ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা জানাল ইরান

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা জানিয়েছে ইরান। দেশটির উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী আলী জাফারিয়ান জানান, যৌথ হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৫৫ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ বেসামরিক নাগরিক।

আজ সোমবার (০৯ মার্চ) আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানানা।

ইরানের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নিহতদের মধ্যে প্রায় ২০০ শিশু ও ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। নিহতদের বয়স আট মাস থেকে ৮৮ বছরের মধ্যে রয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের বাড়িতে বা কর্মস্থলে অবস্থান করার সময় হামলার শিকার হয়েছেন।

আলী জাফারিয়ান জানান, হামলায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের অনেকেই দগ্ধ ও ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আহত হয়েছেন। হামলায় এখন পর্যন্ত ২৯টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর মধ্যে ১০টি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এছাড়া ৫২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১৮টি জরুরি সেবা কেন্দ্র এবং ১৫টি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

জাফারিয়ান সতর্ক করে বলেন, শনিবার রাতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের তেল স্থাপনাগুলোতে আগুন লাগার পর রাজধানী তেহরানজুড়ে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

তিনি জানান, হামলায় উত্তর–পূর্ব তেহরানের আগদাসিয়েহ তেল গুদাম, দক্ষিণের তেহরান রিফাইনারি এবং পশ্চিমের শাহরান তেল ডিপোতে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে ইসরায়েলে জানিয়েছে, তারা তেহরানের কয়েকটি জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যেগুলো সামরিক অবকাঠামো পরিচালনায় ব্যবহৃত হচ্ছিল।

জাফারিয়ান সতর্ক করেন, এসব হামলার কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তিনি নাগরিকদের ঘরে থাকার এবং জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এসব আগুনের ফলে অ্যাসিড বৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি। জানান, এটি মাটি দূষিত করে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলোতে ইরানের পাল্টা হামলা, বাজছে সাইরেন

প্রকাশিত :  ০৭:৪৬, ১২ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফায় হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটির হামলা প্রতিহত করতে বিভিন্ন দেশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। 

রোববার (১২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনী এগুলো প্রতিহত করতে কাজ করছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে শোনা বিস্ফোরণের শব্দগুলো তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সময় সৃষ্টি হয়েছে।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়িতে অথবা নিরপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় জনগণকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে এবং অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিমান হামলার সতর্কতাসংকেত (সাইরেন) চালু করেছে। দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ বেড়েছে। নভেম্বরের আগাম নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

ইরান বলেছে, বেশ কয়েকটি জাহাজ একটি ‘অননুমোদিত পথে’ নৌপথ অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য বার্তা দেওয়া হলেও তারা তা উপেক্ষা করেছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আইআরজিসির বিবৃতির প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে তারা হামলা শুরু করে। ইরান তাদের বিবৃতিতে বলেছিল, কন্টেইনার জাহাজে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে ‘শত্রুদের নতুন ঘাঁটি’ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।