img

১৩ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

প্রকাশিত :  ০৯:২৭, ২৮ মার্চ ২০২৬

১৩ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদের মোহনা থেকে ৩টি নৌকাসহ ১৩ জন বাংলাদেশি জেলেকে অপহরণ করেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।
আজ শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ ঘোলারচর সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে নিয়ে যায়।
 আটককৃত জেলেরা হলেন— মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), মো. ফরিদ হোসেন (৩০), মো. রবিউল হাসান (১৭), মো. কালাম (৩০), মো. হোসেন আম্মদ (৩৮), মো. মীর কাশেম আলী (৪০), মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিন (১৮), মো. মহিউদ্দিন (২২), মো. মলা কালু মিয়া (৫৫), মো. আবু তাহের (৪০), মো. আব্দুল খালেক ও মো. জাবের মিয়া (২৪)। তাদের সবার বাড়ি টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের মাঝর পাড়া ও ডাংঙ্গর পাড়া গ্রামে।

শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর ফিরে আসা অন্য জেলেদের বরাত দিয়ে জানান, ভোর ৪টার দিকে বেশ কিছু ইঞ্জিনচালিত নৌকা নাফ নদের মোহনায় মাছ শিকারে যায়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে অস্ত্রের মুখে ৩টি নৌকাসহ ১৩ জেলেকে মিয়ানমার সীমান্তের দিকে নিয়ে যায় তারা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

সাবরাং ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, আরাকান আর্মির ক্রমাগত হুমকির মুখে নাফ নদী ও সাগরে মাছ শিকার করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে মৎস্যজীবী পরিবারগুলোতে চরম দুর্দিন নেমে আসবে। এ বিষয়ে তিনি সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, জেলে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানার পর অপহৃত জেলেদের ফিরিয়ে আনতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিজিবি কাজ শুরু করেছে।

 স্থানীয় জেলে সমিতির তথ্যমতে, গত দেড় বছরে সীমানা লঙ্ঘনের অভিযোগে চার শতাধিক জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এরমধ্যে প্রায় আড়াই শতাধিক জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হলেও এখনো ৩২টি ট্রলারসহ ১৭২ জন জেলে রাখাইন রাজ্যের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সর্বশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩ জন জেলেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

 

img

অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজ

প্রকাশিত :  ০৫:২৮, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

আজ রোববার জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আজ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গত মঙ্গলবার বলেন, সশরীরে ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এরপর এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তাহে এক দিন অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে। কারণ, এ বিষয়ে কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার দরকার আছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার থেকে স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত আলাদা নির্দেশনা দেওয়া শুরু করবে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সিদ্ধান্ত এলে নির্দেশনা জারি করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় আপাতত সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়ার প্রস্তাব ওঠে, যার মধ্যে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সশরীরে ক্লাস থাকবে।