img

ঢাকায় আসছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী, গুরুত্ব পাবে শ্রমবাজার ইস্যু

প্রকাশিত :  ১৪:৫৬, ১৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:০৫, ১৭ মে ২০২৬

ঢাকায় আসছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী, গুরুত্ব পাবে শ্রমবাজার ইস্যু

কাতারের শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর আমন্ত্রণে দুই দিনের সফরে আজ রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় ঢাকায় আসছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে তার এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের শ্রমবাজার ইস্যুটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছাবেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাতারের শ্রমমন্ত্রী মাররির বিশেষ সখ্যতা রয়েছে। আজ রাতেই প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে আয়োজিত এক নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। নৈশভোজের পাশাপাশি দুই নেতা এক দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাতে মিলিত হবেন। সেখানে বাংলাদেশ ও কাতারের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বর্তমান উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কাতারের নেতৃত্ব, সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা সফরকালে কাতারের শ্রমমন্ত্রীর মূল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে। আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দুই মন্ত্রীর এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিগত বছরের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী যাওয়ার হার কমে গেছে। বর্তমানে কাতারে প্রায় সাড়ে চার লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। চলমান পরিস্থিতির মধ্যে এই প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই মন্ত্রী আলোচনা করবেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছাবেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাতারের শ্রমমন্ত্রী মাররির বিশেষ সখ্যতা রয়েছে। আজ রাতেই প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে আয়োজিত এক নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি

এছাড়া, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কাতারে আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য অনুরোধ জানানো হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কাতারে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত রয়েছে এবং নিয়মিত কর্মী যাচ্ছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় শ্রমবাজারে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কাতারের মন্ত্রীর এই সফরে চলমান পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি আলোচনার একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে।’

এর আগে, চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির কাতার সফর করেছিলেন। সেই সফরকালে তিনি কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখির ছাড়াও শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররির সঙ্গে বৈঠক করেন। বর্তমান সফরটি সেই আলোচনারই একটি ধারাবাহিকতা।

কাতারে গত বছরের ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত যেখানে ১৪ হাজার ৫৩২ জন কর্মী গিয়েছিলেন, সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে গেছেন মাত্র চার হাজার ৭২৪ জন / ছবি- সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিগত বছরের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী যাওয়ার হার কমে গেছে। বর্তমানে কাতারে প্রায় সাড়ে চার লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। চলমান পরিস্থিতির মধ্যে এই প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই মন্ত্রী আলোচনা করবে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের ধাক্কায় বর্তমানে জনশক্তি রপ্তানি খাত কিছুটা টালমাটাল। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৮ জন কর্মী বিদেশে গেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অন্তত ৬৭ হাজার কম।

বিএমইটি’র পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৩৭ জন কর্মী বিদেশে চাকরির ছাড়পত্র পেয়েছিলেন। এর মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ কাতারে গত বছর গেছেন এক লাখ সাত হাজার ৬০৩ জন কর্মী। তবে, চলতি বছরে কাতার যাওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। গত বছরের ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত যেখানে ১৪ হাজার ৫৩২ জন কর্মী কাতারে গিয়েছিলেন, সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে গেছেন মাত্র চার হাজার ৭২৪ জন।

সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) সতর্ক করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে উপসাগরীয় শ্রমবাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। কাতার প্রবাসীদের বরাতে রামরু জানায়, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর সংঘাতের দিনগুলোতে প্রবাসীদের চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করতে হয়েছে। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, অনেক প্রবাসীকে টানা ১০ দিন পর্যন্ত ঘরের বাইরে বের হতে দেওয়া হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে কাতারের শ্রমমন্ত্রীর বর্তমান ঢাকা সফরটি বাংলাদেশের জনশক্তি খাতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

img

ইন্টারপোলের ওয়ান্টেড লিস্টে ৬০ জন বাংলাদেশি

প্রকাশিত :  ০৯:৫৩, ১৮ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেফতারের পর ফের আলোচনায় এসেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)। সংস্থাটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওয়ান্টেড তালিকায় বর্তমানে ৬০ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। এছাড়া বিশ্বজুড়ে তালিকায় রয়েছে ৬,৪৪৪ জন ওয়ান্টেড অপরাধীর নাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইন্টারপোলে রেড নোটিশভুক্ত আসামির সংখ্যা আরও বেশি। সব রেড নোটিশভুক্ত আসামির নাম ওয়ান্টেড তালিকায় প্রকাশ করে না সংস্থাটি। তবে জারি করা রেড নোটিশ সংস্থার সদস্যভুক্ত প্রায় সব দেশের নিরাপত্তা সংস্থার নেটওয়ার্কে থাকে।

ইন্টারপোলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ঘেটে দেখা গেছে, সাবেক আইজিপি বেনজীরের নামে রেড নোটিশ জারি হলেও তা ওয়েবসাইটের ওয়ান্টেড তালিকায় প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্র বলছে, আসামি যাতে গা-ঢাকা না দিতে পারে এজন্য সবার নাম প্রকাশ করা হয় না। বাংলাদেশের যে ৬০ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ খুঁজছে। ওইসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও বেলজিয়াম প্রমুখ। বিদেশি রাষ্ট্র যেসব বাংলাদেশির সন্ধান চেয়েছে তাদের মধ্যে চাঁদপুর সদরের রাজু ঢালীকে হত্যা মামলায় খুঁজছে সিঙ্গাপুর। হত্যা মামলায় ঢাকার মো. মিলনকে ও হত্যা চেষ্টার মামলায় লিটন ব্যাপারীকে খুঁজছে দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ ইসওয়াতানি। খুনের অভিযোগে নোয়াখালীর মিজান মিয়াকে খুঁজছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মুদ্রা জালিয়াতির অভিযোগে খুলনার আজিজুর রহমান, অজয় বিশ্বাস ও তরিকুল ইসলাম, নোয়াখালীর সবুজ, গোপালগঞ্জের আব্দুল আলীম শরীফ, নারায়ণগঞ্জের মনির ভূঁইয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শফিকুল ইসলাম এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের মামলার আসামি আলহাজ মো. শফীকুল ইসলমাকে খুঁজছে ভারত। ইউরোপের দেশ বেলজিয়াম খুনের অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের খোরশেদ আলমকে খুঁজছে। চোরাচালানির অভিযোগে নাটোরের সিরাজ মোস্তফাকে এবং খুনের অভিযোগে ফেনীর আলা উদ্দিনকে খুঁজছে মালয়েশিয়া। অর্থ তছরুপের অভিযোগে হানিফকে খুঁজছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপ রাষ্ট্র মালদ্বীপ। যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম ও অস্ত্র মামলায় ফজলুল আমীন জাভেদকে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশ যাদের খুঁজছে তাদের মধ্যে তালিকায় থাকা অপরাধীরা হলেন হত্যা মামলার আসামি বাগেরহাটের রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ তাজউদ্দীন ও বাবু আহমেদ রাতুল, চট্টগ্রামের ইউসুফ ও সাজ্জাদ হোসেন খান, ফরিদপুরের নাইম খান ইকরাম, বগুড়ার কালা জাহাঙ্গীর ফেরদৌস, গাজীপুরের নুরুল দীপু ও আহাম্মেদ মজনু, কুমিল্লার খন্দকার আব্দুর রশীদ ও রাশেদ চৌধুরী, ঢাকার নুর চৌধুরী, নবী হোসাইন, জিসান আহমেদ, তৌফিক আলম, প্রকাশ কুমার, জাফর আহমেদ, সালাউদ্দিন মিন্টু, নাজমুল আনসার, শরীফুল হক ডালিম, খুলনার শরীফুল হোসাইন, চট্টগ্রামের আমিনুর রসুল, নেত্রকোনার আব্দুল জাব্বার, বরিশালের গোলাম ফারুক অভি, মুন্সীগঞ্জের রফিকুল ইসলাম, খুলনার হারুন শেখ, নরসিংদীর মোসলেম উদ্দিন খান এবং গাইবান্ধার চন্দন কুমার রায়।

মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পরে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা করা, আটকে রাখা এবং মুক্তিপণ দাবিতে হত্যা করার অভিযোগে বাংলাদেশ খুঁজছে কিশোরগঞ্জের জাফর ইকবাল, স্বপন, মিন্টু মিয়া ও তানজীরুল ও মাদারীপুরের মোল্লা নজরুল ইসলামকে। পর্নোগ্রাফির অভিযোগে টাঙ্গাইলের ওয়াসিম, অস্ত্র মামলায় গিয়াস উদ্দিন, নির্যাতনের মামলায় চট্টগ্রামের অশোক কুমার দাশ, জালিয়াতির অভিযোগে জামালপুরের আমানুল্লাহ শফিক ও আতাউর রহমানকে খুঁজছে বাংলাদেশ সরকার।

এছাড়া হত্যা মামলায় অভিযুক্ত জাহিদ হোসেন খোকন, সৈয়দ মো. হাছান আলী, আবুল কালাম আজাদ ও সৈয়দ মো. হোসেনকেও খুঁজছে বাংলাদেশ সরকার।

উল্লেখ্য, ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারপোল বা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশনের সদস্য বিশ্বের ১৯৬টি দেশ। আন্তর্জাতিক এই সংস্থা বিশ্বকে নিরাপদ রাখতে পুলিশ এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞদের একটি নেটওয়ার্কে সংযুক্ত ও সমন্বয় করে। 

বাংলাদেশ এর আরও খবর