ঢাকায় আসছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী, গুরুত্ব পাবে শ্রমবাজার ইস্যু
কাতারের শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর আমন্ত্রণে দুই দিনের সফরে আজ রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় ঢাকায় আসছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে তার এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের শ্রমবাজার ইস্যুটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছাবেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাতারের শ্রমমন্ত্রী মাররির বিশেষ সখ্যতা রয়েছে। আজ রাতেই প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে আয়োজিত এক নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। নৈশভোজের পাশাপাশি দুই নেতা এক দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাতে মিলিত হবেন। সেখানে বাংলাদেশ ও কাতারের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বর্তমান উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কাতারের নেতৃত্ব, সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
ঢাকা সফরকালে কাতারের শ্রমমন্ত্রীর মূল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে। আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দুই মন্ত্রীর এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিগত বছরের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী যাওয়ার হার কমে গেছে। বর্তমানে কাতারে প্রায় সাড়ে চার লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। চলমান পরিস্থিতির মধ্যে এই প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই মন্ত্রী আলোচনা করবেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছাবেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাতারের শ্রমমন্ত্রী মাররির বিশেষ সখ্যতা রয়েছে। আজ রাতেই প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে আয়োজিত এক নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি
এছাড়া, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কাতারে আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য অনুরোধ জানানো হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কাতারে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত রয়েছে এবং নিয়মিত কর্মী যাচ্ছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় শ্রমবাজারে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কাতারের মন্ত্রীর এই সফরে চলমান পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি আলোচনার একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে।’
এর আগে, চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির কাতার সফর করেছিলেন। সেই সফরকালে তিনি কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখির ছাড়াও শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররির সঙ্গে বৈঠক করেন। বর্তমান সফরটি সেই আলোচনারই একটি ধারাবাহিকতা।
কাতারে গত বছরের ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত যেখানে ১৪ হাজার ৫৩২ জন কর্মী গিয়েছিলেন, সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে গেছেন মাত্র চার হাজার ৭২৪ জন / ছবি- সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিগত বছরের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী যাওয়ার হার কমে গেছে। বর্তমানে কাতারে প্রায় সাড়ে চার লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। চলমান পরিস্থিতির মধ্যে এই প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই মন্ত্রী আলোচনা করবে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের ধাক্কায় বর্তমানে জনশক্তি রপ্তানি খাত কিছুটা টালমাটাল। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৮ জন কর্মী বিদেশে গেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অন্তত ৬৭ হাজার কম।
বিএমইটি’র পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৩৭ জন কর্মী বিদেশে চাকরির ছাড়পত্র পেয়েছিলেন। এর মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ কাতারে গত বছর গেছেন এক লাখ সাত হাজার ৬০৩ জন কর্মী। তবে, চলতি বছরে কাতার যাওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। গত বছরের ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত যেখানে ১৪ হাজার ৫৩২ জন কর্মী কাতারে গিয়েছিলেন, সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে গেছেন মাত্র চার হাজার ৭২৪ জন।
সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) সতর্ক করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে উপসাগরীয় শ্রমবাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। কাতার প্রবাসীদের বরাতে রামরু জানায়, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর সংঘাতের দিনগুলোতে প্রবাসীদের চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করতে হয়েছে। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, অনেক প্রবাসীকে টানা ১০ দিন পর্যন্ত ঘরের বাইরে বের হতে দেওয়া হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে কাতারের শ্রমমন্ত্রীর বর্তমান ঢাকা সফরটি বাংলাদেশের জনশক্তি খাতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



















