img

স্বামীকে হত্যার পর মরদেহের টুকরো অংশ ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা

প্রকাশিত :  ১৬:৫৭, ১৫ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৩৬, ১৫ মে ২০২৬

স্বামীকে হত্যার পর মরদেহের টুকরো অংশ ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা

পারিবারিক কলহের জেরে শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। পরে দেহের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে গিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহে ধরা পড়েন তিনি। ঘটনাটি জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা আক্তার তার স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এরপর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে আসমা মরদেহটি ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করেন। দেহাংশ একটি ড্রামে ভরে বাসায় রেখে দেন প্রায় তিন দিন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে দেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।

পুলিশ জানায়, দেহের মাংসের অংশগুলো তিনি শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার তার আগের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখতে চান। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।

একইদিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকে চারটি হাত-পায়ের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, এগুলো নিহত প্রবাসীর শরীরের অংশ।

নিহতের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, ‘আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালে ওই নারীকে বিয়ে করেন। দেশে এসে আলাদা বাসায় থাকতেন। আমরা খবর পেয়ে এসে দেখি, সত্যিই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করেন, স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিন ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি রড দিয়ে আঘাত করলে স্বামী পড়ে যান।

তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারিনি এত বড় ঘটনা হয়ে যাবে।’

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ‘স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখে ওই নারী। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


img

আদাবরে ছিনতাইকারীদের তাণ্ডব, বিকালে কোপাল ওসি-এসআইকে সকালে ব্যবসায়ীকে

প্রকাশিত :  ১৮:৩৮, ১৬ জুন ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় মঙ্গলবার সকালে এক বিকাশ এজেন্টকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার তদন্তে অভিযান চালাতে গিয়ে বিকেলে ছিনতাইকারীদের হামলার মুখে পড়েন পুলিশের দুই সদস্য। এ হামলায় আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও উপপরিদর্শক তরুণ কুমার আহত হন। পরে পুলিশের পাল্টা গুলিতে দুই সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিন বিকালে উদ্যানসংলগ্ন ডেলটা গার্মেন্টসের পেছনের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটকরা হলো গুলিবিদ্ধ চোরা রুবেল ও কানা আমির এবং কাশেম ও মো. জয় নামে আরও দুজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে আদাবর থানার শেখেরটেক ৭ নম্বর রোডের মফিজবাড়ি এলাকায় ‘নিঝুম টেলিকম’ নামে একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালায় ৪-৫ জন ছিনতাইকারী। তারা দোকান মালিক শফিকুল ইসলামকে (৩৫) এলাপাতাড়ি কুপিয়ে দোকান থেকে নগদ তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা দোকান মালিক শফিকুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রথমে ক্যাশে থাকা টাকা নেওয়ার চেষ্টা করলে শফিকুল বাধা দেন। তখন দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

হামলায় শফিকুল ইসলামের হাত, মাথা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের আঘাত গুরুতর। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানাস্তর করা হয়। শফিকুলের ভাই মুসলিম হোসেন জানান, দুজন দোকানের ভেতরে ঢুকে ক্যাশ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং এতে বাধা দিলেই তারা চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। পরে ক্যাশে থাকা সব টাকা নিয়ে যায়। ক্যাশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিল। তিনি বলেন, শফিকুলের বাম হাত, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তার অপারেশন চলছে।

ঘটনার খবর পেয়ে আদাবর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় সূত্র, সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তির সাহায্যে পুলিশ জানতে পারে, ছিনতাইয়ে জড়িত কয়েকজন সদস্য ঢাকা উদ্যান এলাকার ডেলটা গার্মেন্টসের পেছনে একটি আস্তানায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বিকালে সেখানে অভিযানে যায় পুলিশ।

পুলিশের দাবি, ছিনতাইকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো চাপাতি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। তারা প্রথমে আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা করে। পরে এসআই তরুণ কুমারকেও চাপাতি দিয়ে আঘাত করে ছিনতাইকারীরা। এসময় পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালালে চোরা রুবেল ও কানা আমির নামে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই সময় কাশেম ও মো. জয় নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়।

ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। ডেলটা গার্মেন্টসের পেছনের পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে চাপাতি, ছুরি এবং হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আদাবর ও ঢাকা উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অপরাধী চক্র সক্রিয়। বিশেষ করে ‘কবজিকাটা আনোয়ার’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। মিজানুর রহমান নামে ওই এলাকার এক বাসিন্দা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের অভিযানে গ্রুপটির প্রধান আনোয়ার কারাগারে থাকলেও তার অনুসারীরা এখনো এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে চান না। বাসিন্দারা জানান, দিনের বেলাতেও ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সেকেন্ড ইন কমান্ড) মো. ফজলুল করিম বলেন, সকালে বিকাশের দোকানে সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনার সূত্র ধরেই আদাবর এলাকায় ছিনতাইকারীদের একটি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পালটা গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী আহত হয়। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে। আহত দুই পুলিশ সদস্য প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ দুই ছিনতাইকারীকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।


বাংলাদেশ এর আরও খবর