img

নতুন যানবাহন কেনা যাবে না, বিদেশে প্রশিক্ষণ বন্ধ: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

প্রকাশিত :  ০৭:২৮, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

নতুন যানবাহন কেনা যাবে না, বিদেশে প্রশিক্ষণ বন্ধ: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে আগামী তিন মাসের জন্য নতুন যানবাহন কেনা বন্ধ এবং সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে রাত ১২টার দিকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণও ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। সেই সাথে সরকারি কোনো নতুন যানবাহন, জলযান বা আকাশযান ক্রয় করা হবে না। কম্পিউটারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কেনাও বন্ধ রাখা হবে।

তিনি আরোও বলেন, সভা-সেমিনারের ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস এবং জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ব্যয়ও ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ তেল আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব সরাসরি পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী রোববার থেকে সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি সম্পর্কে রোববার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। সব ধরনের মার্কেট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি সেবা যেমন খাদ্য ও ওষুধের দোকান এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মনিটরিং জোরদার করা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে আরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে শিশু রেশমি

প্রকাশিত :  ০৯:০৩, ১৪ মে ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার রউফাবাদ কলোনিতে গোলাগুলির ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া ১১ বছর বয়সী রেশমী আক্তার আর বাঁচল না। ৭ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে মারা যায় সে। 

বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিল সে।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার রৌফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলি এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ১১টার দিকে মায়ের জন্য পান আনতে যায় রেশমি আক্তার। ঘর থেকে বের হতে না হতেই গুলির শব্দ পান বাসিন্দারা। সেসময় সন্ত্রাসীদের দুই পক্ষের মধ্যে চলছিল গোলাগুলি। একপর্যায়ে ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীদের ছোড়া একটি বুলেট এসে পড়ে রেশমির চোখে। এতে রাস্তায় পড়ে যায় সে। গোলাগুলি বন্ধ হলে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া যাওয়া হয়। তখন রেশমির মাথা দিয়ে প্রচন্ড রক্ত ঝরতে থাকে। জ্ঞানহীন অবস্থায় প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।