img

যুদ্ধের ৪০ দিনে কোন দেশে কত জন নিহত, বাংলাদেশি কজন

প্রকাশিত :  ০৮:২৫, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধের ৪০ দিনে কোন দেশে কত জন নিহত, বাংলাদেশি কজন
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। পাল্টা জবাব দেয় ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। শুরুর ৪০তম দিনে এসে আজ বুধবার প্রাণঘাতী এ যুদ্ধের লাগাম টানতে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল–ইরান।

কোন দেশে কতজন নিহত হয়েছেন

ইরান: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে মোট ৩ হাজার ৬৩৬ জন নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক রেডক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৯০০ জন।

লেবানন: লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ১ হাজার ৫৩০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ১২৯ শিশু রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে দুটি পৃথক ঘটনায় জাতিসংঘের তিনজন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। তাঁরা ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। লেবাননে নিহতের তালিকার আরও আছেন সাংবাদিক ও চিকিৎসাকর্মী।

ইরাক: সংকট শুরুর পর থেকে ইরাকে অন্তত ১১৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইসরায়েল: ইসরায়েলের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দেশটিতে মোট ২৩ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের ১১ জন সেনা নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র: যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ১৩ জন সেনা নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ তথ্য জানিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত: দুজন সেনাসহ মোট ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

কাতার: কাতারের জলসীমায় গত ২২ মার্চ ‘নিয়মিত দায়িত্ব পালনের’ সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন নিহত হয়েছেন।

কুয়েত: সাতজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

পশ্চিম তীর (ফিলিস্তিন): ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে চারজন ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন।

সিরিয়া: দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের শহর সুয়েইদায় একটি ভবনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে চারজন নিহত হন।

বাহরাইন: ইরানের দুটি পৃথক হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন।

ওমান: দেশটির সোহর প্রদেশের একটি শিল্পাঞ্চলে গত ১৩ মার্চ ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন।

সৌদি আরব: রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আল-খারজ শহরের একটি আবাসিক এলাকায় নিক্ষিপ্ত গোলার আঘাতে দুজন নিহত হয়েছেন।

ফ্রান্স: উত্তর ইরাকে ড্রোন হামলায় একজন ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন।

(প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ৩ এপ্রিল জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা ছয় বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।)

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরান সীমান্তের কাছে গিয়েও পিছু হটল কয়েক ডজন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান

প্রকাশিত :  ১৪:১১, ২২ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১৩, ২২ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের দুই মুসলিম রাষ্ট্র সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সীমান্তের একেবারে কাছে পৌঁছেও ফিরে এসেছে দখলদার ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান।

ইরানি বাহিনীকে গুলি চালাতে প্ররোচিত করে নতুন করে হামলার অজুহাত তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল কি-না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন সূত্রের বরাতে ইসরায়েলি মিডিয়া চ্যানেল ১২ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে তুরকি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এ অভিযানকে ইরানকে প্রতিরোধের বার্তা দেওয়ার সামরিক মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমানের সঙ্গে দেশটির বিমানবাহিনীর জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও অংশ নেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ইরান সীমান্তের খুব কাছাকাছি পৌঁছায়। এরপর ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ না করেই সেগুলো ইসরায়েলের দিকে ফিরে যায়।

চ্যানেল ১২-কে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল হয়তো আশা করেছিল, সীমান্তের কাছে তাদের যুদ্ধবিমানগুলোর উপস্থিতি দেখে ইরানি বাহিনী গুলি চালাবে। তেমনটি হলে সেই ঘটনাকে ইরানে হামলা চালানোর যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হতে পারত।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অভিযানটিকে ইরানকে প্রতিরোধের বার্তা দেওয়ার সামরিক মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের অভিযানে ইরানের ভুল হিসাব-নিকাশের ঝুঁকি ছিল। এর ফলে ইরান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারত এবং নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারত।

যুক্তরাষ্ট্রের সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, অভিযানটি পরিচালনার আগেই ওয়াশিংটনকে বিষয়টি অবহিত করেছিল ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছিল, নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন এবং ইরানকে হামলা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে এ মহড়া চালানো হচ্ছে। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যে ইসরায়েলি বিমানগুলোর উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারবে, সে বিষয়েও ইসরায়েল অবগত ছিল বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরায়েল সফরের সময় এ অভিযান চালানো হয়। সফরে তিনি ওভদা বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এদিকে, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে মিডিল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে ইরানে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তির বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক দিনব্যাপী হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাগুলো প্রাথমিকভাবে ১০ অক্টোবর চালানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে আপত্তি জানান। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন করে যুদ্ধে জড়াতে চাননি তিনি। ফলে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সঙ্গে কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের এই অভিযান এবং ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাকে সামনে এনেছে। তবে সীমান্তের কাছে যুদ্ধবিমান পাঠানোর উদ্দেশ্য নিয়ে পাল্টা হামলা উসকে দেওয়ার যে সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের সূত্রের দেওয়া তথ্য ও মূল্যায়ন; এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত কোনো ঘটনা নয়।

সূত্র: মিডিল ইস্ট মনিটর, আনাদোলু এজেন্সি