img

বড়লেখায় বিশেষ অভিযানে চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ০৮:০৪, ১৬ মে ২০২৬

নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ, সিটিটিসির কাছে হস্তান্তর

বড়লেখায় বিশেষ অভিযানে চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য গ্রেপ্তার

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন ‘মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদদাওয়াতুল ইসলামিয়াহ’-এর সদস্য ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. রাহেদ হোসেন মাহেদ (২৩)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে বড়লেখা উপজেলার দুর্গম বোবারথল ষাইটঘরি সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে একটি টিলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান।

গ্রেপ্তার মাহেদ সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর গ্রামের নূর মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে সিটিটিসি ইউনিট তদন্ত করছে।

পুলিশ ও একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর আবু মোহাম্মদের সঙ্গে মাহেদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া উগ্রবাদী কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো এক গোপনীয় চিঠিতে জাতীয় সংসদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে ওই চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে মাহেদ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এরপর বড়লেখা থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বড়লেখা উপজেলার দুর্গম সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড়ি ও টিলাবেষ্টিত এলাকায় তল্লাশির পর দুপুর আড়াইটার দিকে একটি টিলা থেকে মাহেদকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ বিষয়ে বক্তব্যে গণমাধ্যমকর্মীদের বড়লেখা থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাহেদ উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। রেড অ্যালার্ট জারির পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।”

তিনি আরও জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার রাতেই রাহেদ হোসেন মাহেদকে সিটিটিসি ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সিটিটিসি বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ কোটি ১৮ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালানী মালামাল জব্দ

প্রকাশিত :  ১২:৪০, ১৬ মে ২০২৬

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ১৮ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাচালানী মালামাল  জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।

আজ (১৬ মে) বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এর অধীনস্থ সোনালীচেলা, বাংলাবাজার, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, কালাসাদেক এবং পান্থুমাই বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে বিজিবি সদস্যরা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা, চিনি, বিড়ি, কম্বল, মেডিসিন, মদ ও গরু জব্দ করতে সক্ষম হয়। একইসাথে বাংলাদেশ হতে ভারতে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ চা-পাতা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত চোরাচালানী মালামালের আনুমানিক সিজারমূল্য- ১ কোটি ১৮ লক্ষ ৩৯ হাজার ৫ শত টাকা।

এ বিষয়ে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নাজমুল হক বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম এবং গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বদা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরিচালিত অভিযানে এসব চোরাচালানী মালামাল জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। জব্দকৃত মালামালের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর