img

এফবিআই’র ড্রোন হ্যাকের দাবি ইরানের, বিশ্বকাপে হামলার হুমকি

প্রকাশিত :  ০৭:৪০, ১৩ জুন ২০২৬

এফবিআই’র ড্রোন হ্যাকের দাবি ইরানের, বিশ্বকাপে হামলার হুমকি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের ব্যবহৃত ড্রোন সিস্টেম হ্যাক করার দাবি করেছে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গ্রুপ। একই সঙ্গে আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলকে লক্ষ্য করে সাইবার ও ড্রোন হামলার হুমকিও দিয়েছে তারা।

গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘হানদালা’ নামের ওই হ্যাকার গ্রুপ দাবি করেছে তারা কয়েক মাস ধরে এফবিআইয়ের ব্যবহৃত ফার্স্ট-পার্সন ভিউ (এফপিভি) ড্রোন সিস্টেমে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে এবং সেখান থেকে ধারণ করা ছবি ও সন্দেহভাজনদের তথ্যেও তাদের প্রবেশাধিকার রয়েছে।

গ্রুপটির দাবি অনুযায়ী, ‘কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিয়োজিত এই ড্রোনগুলোতে মানুষের চেহারা শনাক্তকরণ ও গাড়ির লাইসেন্স প্লেটের তথ্য পৃথক করার প্রযুক্তি রয়েছে’।

বিবৃতিতে বিশ্বকাপকে লক্ষ্য করে হুমকির সুরে বলা হয়, ‘আপনাদের বিশ্বকাপের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা দরকার। কারণ (অংশগ্রহণকারী) দলগুলোর কয়েকটিকে আমরা মোটেও পছন্দ করি না। ভুলে যাবেন না এফপিভি ড্রোন সব জায়গায় আছে। আপনারা কখনোই জানবেন না যে কখন একটি ড্রোন ঠিক কোন দলের বাসের ভেতরে গিয়ে হাজির হবে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে এফবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থা নজরদারি বাড়িয়েছে।

তবে সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ জানিয়েছে, হানদালার দাবির পক্ষে শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি করা একটি ভিডিও ২০২৪ সালের পুরোনো, যা মূলত দুর্যোগ বিশ্লেষণ সফটওয়্যারের প্রচারণামূলক অংশ ছিল।

এর আগেও চলতি বছরের মার্চে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ইমেইল হ্যাক করার দাবি করেছিল এই গ্রুপ। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয় এবং তাদের শনাক্তে তথ্য দিলে ১ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কারের ঘোষণা দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।


অর্থনীতি এর আরও খবর

img

ইসলামী ব্যাংককে আরো ২৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশিত :  ১০:০২, ১৫ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্যসংকট কমাতে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংককে আরো ২৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে রবিবার ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০ হাজার কোটি টাকা চাওয়ার বিপরীতে প্রাথমিকভাবে এই অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকটিকে। চলতি মাসে প্রথম ১০ দিনে আমানতকারীদের নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ সামাল দিতেই মূলত এই বিশেষ ধার দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে গভর্নর প্রয়োজনে নগদ সহায়তার বিষয়ে নিশ্চিত করেন।

একই সঙ্গে প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে আরো সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ৯ দিনে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা। এ ছাড়া ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ রয়েছে।

ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত আমানত কমেছে ৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা।

পরবর্তী দুই দিনে আরো প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়। এতে কয়েকটি শাখা ও এটিএম বুথে নগদ অর্থের চাপ তৈরি হয়।

এরপর বিকেলে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব), দুইজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ছয়জন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাতে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সব নিয়োগ বাতিল করে বোর্ডের সার্বিক দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেনকে নিযুক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।