img

বিতর্কিত উদযাপনে ফাইনালের আগে বড় শাস্তি হতে পারে আর্জেন্টিনার

প্রকাশিত :  ০৬:৩৭, ১৬ জুলাই ২০২৬

বিতর্কিত উদযাপনে ফাইনালের আগে বড় শাস্তি হতে পারে আর্জেন্টিনার

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে জয়ের আনন্দের মধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন আলবিসেলেস্তেদের খেলোয়াড়রা। ম্যাচ শেষে তারা মাঠে ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (মালভিনাস) যুদ্ধকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ব্যানারটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল, কিন্তু দ্রুত পরপর দুটি গোল করে তারা ঘুরে দাঁড়ায় এবং টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে। রোববার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে স্পেন আগেই নাম লিখিয়েছে।

ব্যানারটি ওই ভূখণ্ড-সংক্রান্ত বিরোধকে নির্দেশ করে, যেটিকে ব্রিটেনে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ এবং আর্জেন্টিনায় ইসলাম মালভিনাস বলা হয়। এই বিরোধের জেরেই ৪৪ বছর আগে ৭৪ দিনব্যাপী একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। সেই সংঘাতে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন, এর মধ্যে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ।

লিসান্দ্রো মার্তিনেস এবং জিওভানি লো সেলসো হাসিমুখে ব্যানারটি হাতে তুলে ধরেন এবং গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের দিকে নাড়াতে থাকেন। ব্যানারটি কোথা থেকে এসেছে, তা স্পষ্ট নয়।

বিশ্বকাপ চলাকালে রাজনৈতিক ব্যানারের বিষয়টি এবারই প্রথম সামনে আসেনি। গত মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে, ইরান যখন খেলেছিল, তখন তেহরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত প্রাক-বিপ্লবী পতাকা ইরানি-আমেরিকানরা প্রদর্শন করেছিলেন। তবে ওই ম্যাচগুলো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পর, আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে এই স্লোগান দিতে শোনা যায়: মালভিনাসের জন্য, দিয়েগো মারাদোনার জন্য এবং লিও মেসির শেষটির জন্য।

আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পল বলেন, ‘আমরা বুঝি, এটি এমন একটি ফুটবল ম্যাচ যা ক্রীড়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়; এটি দিয়েগো যা করেছিলেন, সেই স্মৃতিগুলো ফিরিয়ে আনে। আমরা আমাদের মালভিনাসের বীরদের নিয়ে গান গাই, মূলত তাদের স্মরণ করার জন্য। কিন্তু আমাদের এটাও বুঝতে হবে যে এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, আর মালভিনাসের বিষয়টি অন্যত্র আলোচনা হওয়া উচিত। যা ঘটেছিল, তা ছিল এক ভয়াবহ নৃশংসতা এবং আমরা সবসময় নিহতদের স্মরণ করি। তবে আমরা যা চাই, তা হলো এই ম্যাচটি জিতে ফাইনালে পৌঁছানো।

ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভেতরে রাজনৈতিক, আপত্তিকর অথবা বৈষম্যমূলক প্রকৃতির ব্যানার, পতাকা, লিফলেট, পোশাক এবং অন্যান্য সামগ্রী নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাবে ফিফা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রা মন্তেওলিভা মঙ্গলবার জানান, যুক্তরাষ্ট্রে সোমবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আর্জেন্টিনার একটি স্থানীয় রেডিওকে বলেন, সেখানে ১ হাজার ৬০০ জন কর্মকর্তা মোতায়েন থাকবেন। আমরা চাই উদ্‌যাপনটি শান্তিপূর্ণ হোক। রাজনৈতিক বা বর্ণগত যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক বার্তাসংবলিত কোনো উপকরণ প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

খেলাধূলা এর আরও খবর

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

লামিন ইয়ামালের প্রেমিকা কে এই ইনেস গার্সিয়া?

প্রকাশিত :  ১৬:৫১, ১৬ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:০২, ১৬ জুলাই ২০২৬

স্পেন জাতীয় দলের উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামাল বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামতে যাচ্ছেন। তার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে সমর্থন জানাবেন প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া সান্তোস, যিনি ইনেস গার্সিয়া নামেই বেশি পরিচিত।

বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করার পর DAZN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, এই গোলটি আমি আমার মা, আমার প্রেমিকা, আমার বন্ধুদের এবং মাতারোতে থাকা সবাইকে উৎসর্গ করছি।

স্প্যানিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ ইনেস গার্সিয়া সম্প্রতি তার ২১তম জন্মদিন উদযাপন করেছেন। অন্যদিকে ইয়ামাল ১৯ বছরে পা রেখেছেন। জানা যায়, তাদের পরিচয় হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে।

চলতি বছরের শুরুতে গ্রিসে একসঙ্গে ছুটি কাটানোর সময় তাদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। পরে মে মাসে এফসি বার্সেলোনার একটি নৈশভোজে প্রথমবারের মতো তারা প্রকাশ্যে একসঙ্গে উপস্থিত হন।

সম্পর্ক নিয়ে ইনেস বলেন, মানুষ আমাদের একসঙ্গে দেখতে শুরু করে যখন আমরা গ্রিসে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি লামিনেকে তারও অনেক আগে থেকে চিনি। তিন বছর না হলেও, মানুষ যতটা ভাবছে তার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে আমাদের পরিচয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা সম্পর্ককে সময় দিয়েছি। একে অপরের সঙ্গে দেখা করার আগে দীর্ঘ সময় ধরে আমরা কথা বলেছি।

ইনেস গার্সিয়া সম্পর্কে অনলাইনে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না। তবে তার ইনস্টাগ্রাম বায়োতে তিনি নিজেকে স্পেনের সেভিল শহরের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই পরিচয়

তাদের প্রথম পরিচয় সম্পর্কে ইনেস বলেন, আপনারা হয়তো কোনো নিখুঁত বা সিনেমার মতো প্রেমের গল্প আশা করছেন। কিন্তু সত্যিটা হলো—৩, ২, ১... সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম!

সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তিনি বিশ্বকাপে স্পেনের প্রতিটি ম্যাচে নিয়মিত উপস্থিত থেকেছেন এবং ইয়ামালের জার্সি পরেই গ্যালারিতে দেখা গেছে তাকে।

ইনেস নিজেকে জাস্টিন বিবারের ভক্ত হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইমে জাস্টিন বিবার পারফর্ম করবেন—এমন ঘোষণা আসার পর তিনি নিজের স্টোরিতে স্প্যানিশ ভাষায় লেখেন, ‘প্রিয়, ফাইনালে ওঠার জন্য যা যা দরকার সবই করো। শুনছ তো? যা লাগে করো।’ 

এ ছাড়া ইয়ামাল ও ইনেসকে বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত ব্যাড বানির একটি কনসার্টেও একসঙ্গে দেখা গেছে।

ফরাসি সাময়িকী Woman Madame Figaro-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনেস বলেন, আমি ভ্রমণ করতে ভালোবাসি, কিন্তু উড়োজাহাজে চড়তে খুব ভয় পাই। দুটি বিষয় আসলে একসঙ্গে যায় না। তবে আমি ধীরে ধীরে সেই ভয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। এই গ্রীষ্মে স্পেন ও বিদেশে বেশ কয়েকটি ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা সবাই দেখতে পাবেন।

খেলাধূলা এর আরও খবর