img

টুখেলকে ধুয়ে দিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তিরা

প্রকাশিত :  ০৯:১১, ১৬ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:২৮, ১৬ জুলাই ২০২৬

টুখেলকে ধুয়ে দিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তিরা

অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে শুরুতে এগিয়ে গেলেও সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড। আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে থ্রি লায়ন্সদের। এই হারের পর কোচ থমাস টুখেলের কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ওয়েইন রুনি, অ্যালেন শিয়েরার ও জো হার্ট। তাদের মতে, ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর অতি রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণই ইংল্যান্ডের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।

ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনায় ওয়েইন রুনি বলেন, লিড নেওয়ার পর আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় তুলে রক্ষণাত্মক ফুটবলার নামানোর সিদ্ধান্তই ছিল টুখেলের সবচেয়ে বড় ভুল। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি মাঠের একজন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় হন এবং দল ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যানেজারের পরিবর্তনগুলো দেখেন, তবে আপনার আত্মবিশ্বাস কমে যাবে। কতবার আর এভাবে পার পাওয়া যায়? তখন আপনি ভাবতে শুরু করবেন, ‘ওহ না, আমরা কি এতক্ষণ রক্ষণভাগে সময় পার করব? এভাবে আমরা ম্যাচটা শেষ করব কীভাবে?’’

সাবেক গোলরক্ষক জো হার্টের মতে, টুখেলের কৌশলে যেন আবারও গ্যারেথ সাউথগেটের রক্ষণাত্মক ফুটবলের ছায়া দেখা গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় গ্যারেথ সাউথগেট বাড়িতে বসে এই খেলা দেখছেন। ইংল্যান্ড যখন বড় ম্যাচে এগিয়ে থাকত এবং রক্ষণাত্মক কৌশল নিত, তখন তাকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। আমার মনে হয় না এই বড় মুহূর্তে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়েছে।’

টুখেলের ম্যাচ পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হার্ট। তিনি বলেন, ‘থমাস টুখেলকে আমরা যতটা প্রশংসা করেছি, কিন্তু তিনি যেভাবে দ্রুত পরিবর্তনগুলো এনেছেন, তাতে আমার মনে হয় তিনি এটা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে নিজের দলের ওপর তার বিশ্বাস ছিল না। তিনি মনে করেননি যে তারা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আরও আক্রমণ চালিয়ে যেতে পারবে।’

ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার অ্যালেন শিয়েরারও মনে করেন, টুখেলের রক্ষণাত্মক পরিকল্পনাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। শিয়েরার বলেন, ‘আমি ধারাভাষ্যের সময়ই বলেছিলাম, মাঠে তাদের ছয়জন ডিফেন্ডার ছিল। তিনি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী রক্ষণাত্মক হয়ে ম্যাচ ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। নরওয়ে এবং মেক্সিকোর বিপক্ষে এভাবে ম্যাচ ধরে রাখা সম্ভব হলেও, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তা কাজ করেনি। আর্জেন্টিনার বল পায়ে রাখার দক্ষতা এবং প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা অনেক বেশি, সেই সঙ্গে তাদের মানসিকতাও অন্য পর্যায়ের।’

শেষে তিনি যোগ করেন, ‘তিনি ম্যাচ জিততে খুব দ্রুত তার কৌশল পরিবর্তন করেছিলেন। আশা ছিল এভাবে রক্ষণ সামলে ম্যাচ বের করে নেবেন, কিন্তু তার সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলোই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মেক্সিকোর বিপক্ষে আমরা তার প্রশংসা করেছিলাম, আর এখন আমরা তার উল্টো পথে হাঁটছি। তিনি কি আক্রমণভাগে গতি বাড়াতে পারতেন না? আর্জেন্টিনা প্রথম গোলটি পাওয়ার পর মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে একদম ভেঙে পড়েছিল।’

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত সেই রক্ষণাত্মক পরিকল্পনাই ইংল্যান্ডের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গের পর তাই সবচেয়ে বড় সমালোচনার তীর এখন টুখেলের দিকেই।


খেলাধূলা এর আরও খবর

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

লামিন ইয়ামালের প্রেমিকা কে এই ইনেস গার্সিয়া?

প্রকাশিত :  ১৬:৫১, ১৬ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:০২, ১৬ জুলাই ২০২৬

স্পেন জাতীয় দলের উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামাল বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামতে যাচ্ছেন। তার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে সমর্থন জানাবেন প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া সান্তোস, যিনি ইনেস গার্সিয়া নামেই বেশি পরিচিত।

বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করার পর DAZN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, এই গোলটি আমি আমার মা, আমার প্রেমিকা, আমার বন্ধুদের এবং মাতারোতে থাকা সবাইকে উৎসর্গ করছি।

স্প্যানিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ ইনেস গার্সিয়া সম্প্রতি তার ২১তম জন্মদিন উদযাপন করেছেন। অন্যদিকে ইয়ামাল ১৯ বছরে পা রেখেছেন। জানা যায়, তাদের পরিচয় হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে।

চলতি বছরের শুরুতে গ্রিসে একসঙ্গে ছুটি কাটানোর সময় তাদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। পরে মে মাসে এফসি বার্সেলোনার একটি নৈশভোজে প্রথমবারের মতো তারা প্রকাশ্যে একসঙ্গে উপস্থিত হন।

সম্পর্ক নিয়ে ইনেস বলেন, মানুষ আমাদের একসঙ্গে দেখতে শুরু করে যখন আমরা গ্রিসে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি লামিনেকে তারও অনেক আগে থেকে চিনি। তিন বছর না হলেও, মানুষ যতটা ভাবছে তার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে আমাদের পরিচয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা সম্পর্ককে সময় দিয়েছি। একে অপরের সঙ্গে দেখা করার আগে দীর্ঘ সময় ধরে আমরা কথা বলেছি।

ইনেস গার্সিয়া সম্পর্কে অনলাইনে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না। তবে তার ইনস্টাগ্রাম বায়োতে তিনি নিজেকে স্পেনের সেভিল শহরের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই পরিচয়

তাদের প্রথম পরিচয় সম্পর্কে ইনেস বলেন, আপনারা হয়তো কোনো নিখুঁত বা সিনেমার মতো প্রেমের গল্প আশা করছেন। কিন্তু সত্যিটা হলো—৩, ২, ১... সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম!

সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তিনি বিশ্বকাপে স্পেনের প্রতিটি ম্যাচে নিয়মিত উপস্থিত থেকেছেন এবং ইয়ামালের জার্সি পরেই গ্যালারিতে দেখা গেছে তাকে।

ইনেস নিজেকে জাস্টিন বিবারের ভক্ত হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইমে জাস্টিন বিবার পারফর্ম করবেন—এমন ঘোষণা আসার পর তিনি নিজের স্টোরিতে স্প্যানিশ ভাষায় লেখেন, ‘প্রিয়, ফাইনালে ওঠার জন্য যা যা দরকার সবই করো। শুনছ তো? যা লাগে করো।’ 

এ ছাড়া ইয়ামাল ও ইনেসকে বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত ব্যাড বানির একটি কনসার্টেও একসঙ্গে দেখা গেছে।

ফরাসি সাময়িকী Woman Madame Figaro-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনেস বলেন, আমি ভ্রমণ করতে ভালোবাসি, কিন্তু উড়োজাহাজে চড়তে খুব ভয় পাই। দুটি বিষয় আসলে একসঙ্গে যায় না। তবে আমি ধীরে ধীরে সেই ভয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। এই গ্রীষ্মে স্পেন ও বিদেশে বেশ কয়েকটি ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা সবাই দেখতে পাবেন।

খেলাধূলা এর আরও খবর