img

আর্নল্ড রোডে বিশেষ অভিযানে ১৬টি গাড়ি জব্দ ও অপসারণ

প্রকাশিত :  ০৭:১৭, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

আর্নল্ড রোডে বিশেষ অভিযানে ১৬টি গাড়ি জব্দ ও অপসারণ
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর আর্নল্ড রোড এলাকায় অসামাজিক ও বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৬টি গাড়ি জব্দ ও অপসারণ করেছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও মেট্রোপলিটন পুলিশ।

দুই দিনব্যাপী এই অভিযানে কাউন্সিলের পার্কিং সার্ভিস, পরিবেশ সেবা বিভাগ, হাইওয়েজ টিম, অ্যান্টি-সোশ্যাল বিহেভিয়ার (এএসবি) টিম এবং টাওয়ার হ্যামলেটস এনফোর্সমেন্ট অফিসারদের (টিএইচইও) সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে পুলিশ।

কাউন্সিল জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ আসছিল যে কিছু যানবাহন অনিয়মিত ও অবৈধভাবে পার্ক করা হচ্ছে। এর ফলে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছিল এবং জনসাধারণের জন্য বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা তৈরি হচ্ছিল।

অভিযানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা এলাকা জুড়ে তল্লাশি ও পরিদর্শন চালিয়ে নিয়ম লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। যেসব গাড়ি বেআইনিভাবে পার্ক করা ছিল বা জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছিল, সেগুলো জব্দ অথবা অপসারণ করা হয়।

কাউন্সিলের কর্মকর্তারা বলেন, অবৈধ পার্কিং শুধু যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় না, এটি ইমার্জেন্সি সার্ভিস বা জরুরি সেবার যানবাহনের চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্থানীয় এলাকার নিরাপত্তা ও পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ ও কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় পার্কিং সংক্রান্ত সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

পাবলিক প্রোটেকশন অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড এনফোর্সমেন্ট বিষয়ক ক্যাবিনেট সদস্য কাউন্সিলর কবির আহমেদ বলেন, \"এই অভিযান প্রমাণ করে যে বাসিন্দাদের উদ্বেগকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি এবং অসামাজিক ও বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দায়িত্বহীনভাবে পার্ক করা যানবাহন জননিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, জরুরি সেবার যানবাহনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। পুলিশ ও আমাদের বিভিন্ন এনফোর্সমেন্ট অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা এই সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে এবং এলাকার পরিবেশ উন্নত করতে সক্ষম হয়েছি।\"

\"আমরা ভবিষ্যতেও বাসিন্দাদের কথা শুনব এবং সমস্যা চিহ্নিত হলে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করব। আমাদের বার্তা স্পষ্ট, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে, অসুবিধা বাড়ায় বা এলাকার নিরাপত্তা ও বাসিন্দাদের কল্যাণ ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কোনো আচরণ আমরা মেনে নেব না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল টাওয়ার হ্যামলেটস গড়ে তোলা সম্ভব।\"

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও পুলিশ জানিয়েছে, বাসিন্দাদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে তারা অবৈধ পার্কিং, অসামাজিক আচরণ এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগ দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের মিডিয়া ট্রেনিং সমাপ্তঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর গুরুত্বারোপ

প্রকাশিত :  ০৮:৪৫, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের (এলবিপিসি) উদ্যোগে দিনব্যাপী মিডিয়া ট্রেনিং ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার ৪ অক্টোবর লন্ডনের ইকরা বাংলা টিভির আল-খায়ের হলে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ক্লাবের প্রায় ৮০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রশিক্ষণ সম্পাদক আলাউর রহমান শাহীন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমন্বয় করেন। প্রশিক্ষণে সাংবাদিকতার পরিবর্তনশীল ধারা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল গণমাধ্যম পরিবেশে বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর গুরুত্বারোপ করা হয় ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক মো. আকরামুল হোসাইন এবং কোষাধ্যক্ষ মো. আবদুল হান্নান বক্তব্য দেন।

প্রথম প্রশিক্ষণ সেশনের বিষয় ছিল ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাংবাদিকতা: বন্ধু নাকি শত্রু?’ সেশনটি পরিচালনা করেন সাবেক বিবিসি বাংলা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ হাসান খান। সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ভূমিকা, এর সম্ভাবনা, ঝুঁকি ও নৈতিক দিক নিয়ে সেশনে আলোচনা করা হয়।

দ্বিতীয় সেশনের বিষয় ছিল ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাংবাদিকতার শক্তি’। সেশনটি পরিচালনা করেন রানার মিডিয়া লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা আসম মাসুম। সংবাদ বিতরণ, দর্শক-পাঠকের সম্পৃক্ততা এবং আধুনিক সাংবাদিকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তৃতীয় সেশনের বিষয় ছিল ‘নিউজরুম থেকে নিউজফিড: ডিজিটাল যুগে সংবাদ পরিবেশন’। সেশনটি পরিচালনা করেন দ্য ডেইলি স্টারের যুক্তরাজ‍্যের বিশেষ প্রতিনিধি বুলবুল হাসান। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কীভাবে নিউজরুম, সংবাদ পরিবেশনের পদ্ধতি এবং দর্শক-পাঠকের সংবাদ গ্রহণের ধরন পরিবর্তন করেছে, তা নিয়ে সেশনে আলোচনা করা হয়।

চতুর্থ প্রশিক্ষণ সেশনের বিষয় ছিল ‘বাইলাইনের বাইরে: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে সাংবাদিকতাকে বদলে দিচ্ছে’। সেশনটি পরিচালনা করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিজ্ঞানী ও গ্রুপ লিডার ড. মোস্তাফা কামাল। সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকদের পরিবর্তিত দায়িত্ব নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার কাউন্সিলর মোস্তাক আহমেদ বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং এর বাইরেও বাংলা গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজে বাংলা গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
কাউন্সিলর মোস্তাক আহমেদ আরও বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব আরও দক্ষতা, জ্ঞান ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করতে পারবেন।

প্রশিক্ষণ চলাকালে ক্লাবের দুই সদস্য ও অংশগ্রহণকারী আবু মুসা হাসান এবং সারওয়ার-ই-আলম সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবকে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সদস্যদের জন্য কর্মসূচিটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রশিক্ষণের শুরুতে বিডিনিউজ২৪ ডটকমের সম্পাদক-ইন-চিফ তৌফিক ইমরোজ খালিদীর আকস্মিক মৃত্যুতে অংশগ্রহণকারীরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। শোক প্রস্তাব পেশ করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট আহাদ চৌধুরী বাবু । 
চারটি প্রশিক্ষণ সেশনের পর সমাপনী অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন টাওয়ার হ‍্যামলেস কাউন্সিলর স্পীকার কাউন্সিলর মুশতাক আহমেদ,প্রশিক্ষক ড. সরকার মোস্তফা কামাল, সাংবাদিক আসম মাসুম এবং লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। প্রশিক্ষণ কর্মসুচিতে বিভিন্ন পর্যায়ে অন‍্যানের মধ্যে অংশ নেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তাইসির মাহমুদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট আহাদ চৌধুরী বাবু, কোষাধ্যক্ষ আবদুল হান্নান, সহকারী সম্পাদক আবদুল কাদির মুরাদ, সহকারী কোষাধ্যক্ষ এখলাছুর রহমান পাক্কু, প্রশিক্ষণ সম্পাদক আলাউর রহমান শাহীন, মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি ফয়সল মাহমুদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য সারওয়ার হোসেন, এনাম চৌধুরী ও ফারজানা চৌধুরী।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান। 

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মিডিয়া ট্রেনিং স্পন্সর, লন্ডন একাডেমি অফ এপ্লাইড টেকনোলজির পরিচালক, একাউনটেন্ট তরিকুর রশিদ চৌধুরী শওকত । তিনি লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের এ ধরনের আয়োজনে আগামীতে ও সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন । সমাপনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেনারেল সেক্রেটারী আকরামুল হোসেন । তিনি প্রেসক্লাবের আয়োজনে এধরণের অনুষ্ঠানে চলমান রাখার প্রত‍্যয় ব‍্যাক্ত করেন । 

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি তাইসির মাহমুদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি অনুষ্ঠান সফল করতে বক্তা, প্রশিক্ষক, আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার কাউন্সিলর মোস্তাক আহমেদ এবং প্রশিক্ষকদের অন্যতম ড. মোস্তাফা কামালকে বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়।

আয়োজকরা জানান, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করা এবং সাংবাদিকতার দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে তাদের খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করাই এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সাংবাদিকতার জগতে যে পরিবর্তন আনছে, সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের প্রস্তুত করতেই এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

কমিউনিটি এর আরও খবর