img

‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি’, ফেসবুকে এমন পোস্টের পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১৬:২৪, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

 ‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি’, ফেসবুকে এমন পোস্টের পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার

সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলায় প্লাবন সরকার (২৪) এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শাল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে প্লাবন নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি’ লিখে এক ব্যক্তির সঙ্গে তোলা কয়েকটি যৌথ ছবি পোস্ট করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের প্রভাত সরকারের ছেলে প্লাবন সরকার তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একই গ্রামের তোফাজ্জল হকে ছেলে হাবিবুর রহমানের (৩৫) সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে তোলা কয়েকটি যৌথ ছবি পোস্ট করেন। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি।’ এর কিছুক্ষণ পরই তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা আরও জানান, উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের তোফাজ্জল হকে ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫) ও হারুন মিয়ার ছেলে মঈনুল ইসলাম (৩২) নামের দুই ব্যক্তি প্লাবনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে মরদেহ নামিয়ে খাটের ওপর রাখেন তাঁরা। এরপর মামুদনগর বাজার থেকে পল্লিচিকিৎসক প্রদীপ সরকারকে ডেকে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক প্লাবনের রক্তচাপ পরীক্ষা করে তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে জানান।

পল্লিচিকিৎসক প্রদীপ সরকার বলেন, হাবিবুর রহমান, মঈনুল ইসলাম ও প্লাবন সরকার—তিনজনই বাজারের ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাবিবুর ও মঈনুল তাঁকে প্লাবনদের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তাঁরা প্লাবনের মরদেহ খাটের ওপর রেখেছেন।

প্রদীপ সরকার আরও বলেন, ‘রক্তচাপ পরীক্ষা করার পর প্লাবনের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানালে হাবিবুর ও মঈনুল দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় তাঁরা প্লাবনের ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, হাবিবুর রহমান ও মঈনুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সংবাদ সাবস্ক্রিপশন

তবে মঈনুলের আপন বড় ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই মঈনুল ওদের সাথে চলাফেরা করতো। প্লাবনের মৃত্যুর বিষয়ে আমার ভাই জড়িত থাকলে তারও শাস্তি হোক। তবে আমরা জানতাম প্লাবন ও হাবিবুর রহমানের মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে। যা মুখে প্রকাশ করার মত না। কয়েকবারই ওদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়েছে। যা বাজারের মানুষে খারাপভাবে বলাবলি করতো।

এবিষয়ে শাল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ সোহেল বলেন, সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। ঘটনার পেছনে কি রহস্য রয়েছে এবং এটি আত্মহত্যা নাকি কোনো প্ররোচনা বা হত্যাকান্ড তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

আজমিরীগঞ্জে নিখোঁজের পরদিন নদীতে ভেসে উঠল গৃহবধূর মরদেহ

প্রকাশিত :  ০৭:৩৯, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জে কালনী নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজের এক দিন পর মরিয়ম বিবি (২৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে আজমিরীগঞ্জের বাঁশবাজার এলাকার নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয় জেলেরা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

মরিয়ম বিবি উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের শাহনগর নরজাকান্দা গ্রামের আমজাদ মিয়ার স্ত্রী। মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির পাশে কালনী নদীতে গোসল করতে নেমে পানির স্রোতে নিখোঁজ হন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরিয়ম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন। পরে হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে সেদিন তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

কাকাইলছেও নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অপু দাস মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আবেদন গৃহীত হলে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মহিবুর মিয়া জানান, এক বছর আগে মরিয়ম ও আমজাদের বিয়ে হয়। নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে নিখোঁজ হওয়ার পর বুধবার তাঁর মরদেহ ভেসে ওঠে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর