img

লাউয়াছড়ায় সিপিজি সদস্যদের পাঁচ মাসের ভাতা বন্ধ, আর্থিক সংকটে বনপ্রহরীরা

প্রকাশিত :  ০৫:৫৫, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৫৮, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

লাউয়াছড়ায় সিপিজি সদস্যদের পাঁচ মাসের ভাতা বন্ধ, আর্থিক সংকটে বনপ্রহরীরা

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়োজিত কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) ৪০ সদস্যের বেতন-ভাতা টানা পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী এসব বনপ্রহরী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) অর্থ ছাড় না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, মৌলভীবাজার রেঞ্জের আওতাধীন লাউয়াছড়া, কালাছড়া ও চাউতলী বন বিটের বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছেন সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে নিয়োজিত ৪০ জন সিপিজি সদস্য। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী। দৈনিক রুটিন অনুযায়ী দিন-রাত বনের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল দিয়ে বন ও বন্য প্রাণী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তাঁরা। বিনিময়ে প্রত্যেককে দৈনিক মাত্র ৩০০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়।

কিন্তু গত পাঁচ মাস ধরে সেই সামান্য ভাতাও না পাওয়ায় তাঁদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার কেনা, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগানো ও চিকিৎসাব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা।

সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে জটিলতা

ভুক্তভোগী সিপিজি সদস্যদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে তাঁদের বেতন-ভাতা নিয়মিত দেওয়া হচ্ছিল এবং কার্যক্রম চলছিল। তবে সম্প্রতি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বর্তমান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটিকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে অর্থ ছাড় বন্ধ রেখেছেন। এতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সদস্য ও কর্মীরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সিপিজি সদস্যরা জানান, গত শারদীয় দুর্গাপূজার মতো বড় উৎসবেও সনাতন ধর্মাবলম্বী সদস্যরা কোনো উৎসব ভাতা পাননি। বকেয়া পারিশ্রমিকও পরিশোধ করা হয়নি। এতে তাঁদের পারিবারিক সংকট আরও বেড়েছে।

বনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এসব সদস্যের ভাষ্য, জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত নানা ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। অথচ দীর্ঘদিন পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের।

জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কা

সচেতন মহলের মতে, বন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণে মাঠপর্যায়ের টহল দলের সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের বেতন-ভাতা দীর্ঘদিন অনিশ্চিত থাকলে বন টহল কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণে।

এ অবস্থায় দ্রুত বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, অর্থ ছাড়সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সদস্য ও তাঁদের পরিবারের লোকজন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

সুনামগঞ্জে এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে চাঁদা না পেয়ে ব্রিজ নির্মাণকাজে বাধার অভিযোগ

প্রকাশিত :  ০৬:৫০, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনের বিএনপির এমপি নুরুল ইসলাম নুরুল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছে কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না পেয়ে দুটি ব্রিজের (সেতু) নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কাজের ঠিকাদার ও তাহিরপুরের বাদাঘাটের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। বুধবার একই অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শফিকুল ইসলাম।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি নুরুল ইসলাম, কাজের অনিয়ম ঢাকতেই ঠিকাদার তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ তুলেছেন।

ঠিকাদার শফিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগে এমপি নুরুল ইসলাম নুরুল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি, হয়রানি, পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারি উন্নয়নকাজে বাধা প্রদানের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

জানা গেছে, ইসলাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিরখলা-১ ব্রিজ ও সালামপুর ব্রিজের নির্মাণকাজ করছেন। ৮৭ কোটি টাকার এ কাজ সম্প্রতি কয়েকবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন ঠিকাদার।

অভিযোগের দিনই বিকেলে ওই এলাকা দিয়ে ফিরছিলেন এমপি নুরুল ইসলাম। সালামপুর ব্রিজের নির্মাণকাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি তা বন্ধ রাখতে বলেন। ওই সময় তার লোকজন কয়েকজন শ্রমিককে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। মারধরে আহত হন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত রোলারের চালক মনির, পে-লোডার চালক কবির আহমদ ও সাইট ঠিকাদার হোসেন আহমদ।

এদিকে, বুধবার এমপি নুরুল ইসলাম আবারও ওই দুই সেতু এলাকা পডিরদর্শন করেন। এসময় নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে অভিযোগে ঠিকাদার শফিক উল্লেখ করেন, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল ও তার লোকজন বিভিন্ন সময়ে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত চাঁদার টাকা প্রদান না করায় তারা বিভিন্ন ব্যক্তি ও মাধ্যমের মাধ্যমে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছেন, নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।

ঠিকাদার আরও উল্লেখ করেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসের সামনের সড়কে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি মিছিলের ঘটনায় ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। সেই মামলায় তাকে ৫১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। গত বছরের ২৮ মার্চ জামালগঞ্জ থানার বেহেলী ইউনিয়নের করালজান বিল গ্রুপ (খ) জলমহালের অন্তর্গত কাবিলার বিলের মাছ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায়ও তাকে ১৩ নম্বর আসামি করা হয়। তার সিলেটের বাসায় পুলিশও পাঠানো হয়। গত ২০ অক্টোবর দুই দফা মুক্তিরখলা-১ ব্রিজের নির্মাণকাজে বাধা প্রদান করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার অভিযোগের দিন সালামপুর ব্রিজের কাজ বন্ধ করে দেন বলে জানান শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, গত ২০ অক্টোবর সুনামগঞ্জ পৌর যুবদলের এক নেতা তাকে ফোন করে এমপি সাহেবের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি সমাধান করার জন্য চাপ দেন। এর আগে ৫ অক্টোবর জেলা যুবদলের এক নেতা ফোন করে হুমকি প্রদান করেন।

অভিযোগ বিষয়ে এমপি নুরুল ইসলাম নুরুল মঙ্গলবার বলেন, ‘ঠিকাদার শফিককে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে এলাকার লোকজন সালামপুর ব্রিজের গার্ডওয়াল নির্মাণে অনিয়মের বিষয়টি দেখান। তা দেখার পর নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিয়ে বুধবার সরেজমিন সেখানে যাওয়ার কথা। কাজ বন্ধ কিংবা চাঁদা দাবির বিষয়টি অবান্তর। তাকে প্রমাণ করতে হবে কে চাঁদা দাবি ও হুমকি দিয়েছে।’

সিলেটের খবর এর আরও খবর