শ্রীমঙ্গলে চার দিনে শঙ্খিনীসহ চার সাপ উদ্ধার, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকোচন নিয়ে উদ্বেগ
হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলায় নিখোঁজের ছয়দিন পর তারেক মিয়া নামে এক যুবকের গলাকাটা গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত তারেকের বন্ধু সাহেল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেমরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। আইফোনের জন্য বন্ধু তারেককে হত্যা করেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন সাহেল।
নিহত তারেক মিয়া (২২) নবীগঞ্জ উপজেলার চৌশতপুর গ্রামের মারফত উল্লাহর ছেলে। আটককৃত সাহেল একই গ্রামের নুরুজ্জামান মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌশতপুর গ্রামের মহব্বত উল্লার ছেলে তারেক ও একই গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে সাহেল মিয়া বাল্যবন্ধু। কয়েক দিন আগে তারা লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে একটি ভবন নির্মাণের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান। গত ২১ অক্টোবর দুপুরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন তারেক। এ ঘটনায় গত ২৫ অক্টোবর তার বাবা মহব্বত উল্লা নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তারেক নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তার বন্ধু সাহেল মিয়ার বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি।
এদিকে সাহেলের কথাবার্তায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। মঙ্গলবার বিকেলে সাহেল বাড়িতে এলে গ্রামবাসী তাকে আটক করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাহেল তার বন্ধু তারেককে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের একটি ডোবায় তারেকের মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। হত্যার পর তারেকের ব্যবহৃত আইফোনটি নিয়ে বিক্রি করে দেন সাহেল।
আটককৃত সাহেল জানান, গত ২২ অক্টোবর রাতে আইফোনটি নেওয়ার জন্য ঘুমন্ত বন্ধু তারেককে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি। পরে ৫০ হাজার টাকা দামের ফোনটি ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে মরদেহ গুম করে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। পরে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের ওই ডোবা থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করে।
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ বলেন, সাহেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি এলাকার একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্যে তারেককে হত্যার কথা সাদেক স্বীকার করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
আইফোন ছিনিয়ে নিতে হত্যার আরেক ঘটনা
সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর সনন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান ২১ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিয়াম নামে এক কিশোরকেও আটক করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানায়।